ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ২:২৬:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: শামা ওবায়েদ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

যমজ সন্তানের মা হলেন লৌহমানবী ইরম শর্মিলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৭ পিএম, ১৩ মে ২০১৯ সোমবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

এক সঙ্গে দুই মেয়ের মা হলেন লৌহমানবী মণিপুরের ইরম শর্মিলা চানু। রোববার বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ছেচল্লিশ বছরের শর্মিলা চানু। পাশে ছিলেন স্বামী ডেসমন্ড কুটিনহো। মেয়েদের নামও ঠিক করে ফেলেছেন শর্মিলা এবং ব্রিটিশ স্বামী ডেসমন্ড কুটিনহো। বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দুজনের নাম রাখা হয়েছে নিক্স সখি এবং অটাম তারা।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, মা-সন্তান সকলেই সুস্থ রয়েছেন৷ শর্মিলার মুখপাত্র জানিয়েছেন, দ্রুতই কন্যাদের ছবি প্রকাশ করা হবে।

মণিপুর তথা সমগ্র উত্তরপূর্ব ভারত থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা বা আফস্পা প্রত্যাহার, নাগরিকদের সুরক্ষিত জীবনের দাবিতে ইরম শর্মিলা চানুর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা সর্বজনবিদিত। ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল, টানা ১৬ বছর ধরে তার অনশন তাকে জনসাধারনের কাছে ‘দেবী’ বানিয়েছে।

দীর্ঘ অনশনের শেষের দিকে চানুর শরীর এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে নলের মাধ্যমে তরল খাবার দেওয়া শুরু করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু নিজের আদর্শে এতটাই দৃঢ় ছিলেন লৌহমানবী, সেই তরল খাবারটুকুও নিতে প্রায়ই অস্বীকার করতেন।

সুদিনের স্বপ্ন ছিল তার দু’চোখ ভরা। বিশ্বাস করতেন, তার এই আন্দোলনই একদিন মণিপুর থেকে আফস্পা প্রত্যাহার করবে কেন্দ্র। সুরক্ষার নামে অযথা সেনাবাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে হবে না।

কিন্তু রাষ্ট্রের শক্তি তার আন্দোলনের শক্তির চেয়ে অনেকগুণ বেশি। তাই শর্মিলা চানুর এমন আত্মত্যাগ তাকে আর পাঁচজনের কাছে ‘দেবী’ করে তুললেও, রাষ্ট্র সেই ‘দেবী’র কাছে মাথানত করেনি। আফস্পা প্রত্যাহার করা হয়নি উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি থেকে।

ভিতরে ভিতরে নিজের আন্দোলনের ব্যর্থতা টের পেয়েছিলেন চানু। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট। সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করে, ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙলেন মণিপুরের লৌহমানবী। জানালেন, এই আন্দোলনের অসাড়ত্ব তিনি টের পেয়েছেন। রাজনীতির মাঠে নেমে সম্মুখ সমর চান। পিপলস রিসারজেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স নামে দল তৈরি করে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন ইরম শর্মিলা চানু। কিন্তু গণতন্ত্রের খেলা বোঝা কঠিন৷ মাত্র ৯১টি ভোট পেলেন মণিপুরবাসীর ‘দেবী’৷

এখানেও ব্যর্থ হয়ে শর্মিলা চানু ফিরে গেলেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক ডেসমন্ড কুটিনহোর কাছে। সিদ্ধান্ত নিলেন, বিয়ে করবেন। মণিপুর থেকে অনেক দূরে গিয়ে সংসার বাঁধবেন। সেইমতো ২০১৭ সালে সুদূর দক্ষিণ ভারতের কোদাইকানালের এক গির্জায় সাদামাটা বিয়ে সারেন শর্মিলা চানু-ডেসমন্ড৷ এরপর মাতৃদিবসেই তার কোল আলো করে এল নিক্স এবং অটাম। দেবীর তকমা মুছে ফেলে এখন শর্মিলা চানু স্রেফ এক মানবী, এক জননী।সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

-জেডসি