ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ৬:২৭:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: শামা ওবায়েদ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ৭০ বছর পর ব্রিটিশ নারীর সাজা পরিবর্তন শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান বান্দরবানে পাহাড়ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ ৫ জনের প্রাণহানি

যে পোস্টার পাকিস্তানে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০২ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার

এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি প্ল্যাকার্ড তৈরি করতে নানা ধরনের পরিকল্পনা করছিলেন রুমিসা লাখানি এবং রাশিদা সাব্বির হোসেন নামে পাকিস্তানের দুই শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এমন একটি প্ল্যাকার্ড তৈরি করেন যা দেশটি আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী দিবসের একদিন আগে করাচীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ বছর বয়সী এই দু’জন শিক্ষার্থী পোস্টার তৈরির একটি সেশনে অংশ নিয়েছিলেন। তারা এমন একটি পোস্টার বানাতে চেয়েছিলেন যাতে সবার দৃষ্টি পড়ে।

সেসময় তাদের পাশের একজন বান্ধবী দুটো পা দু'পাশে ছড়িয়ে বসেছিল। এটা দেখেই তারা একটি পোস্টার বানানোর আইডিয়া পেয়ে যান।

রুমিসা বলেন, ‘নারীরা কীভাবে বসবে তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। আমাদেরকে খুব মার্জিত হতে হবে। আমাদের শরীরের আকার আকৃতি যাতে দেখা না যায় সেজন্যে সচেতন থাকতে হবে। পুরুষরা যখন পা ছড়িয়ে বসে তখন সেদিকে কেউ তাকিয়েও দেখে না।’

রুমিসা যে প্ল্যাকার্ডটি তৈরি করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে সানগ্লাস চোখে দেওয়া এক নারী নিঃসঙ্কোচে পা ছড়িয়ে বসে আছেন।

তার বান্ধবী রাশিদা তখন একটি শ্লোগান লিখে দিয়েছেন। মেয়েদেরকে ‘কীভাবে বসতে হবে, হাঁটতে হবে, কথা বলতে হবে’- এসব নিয়ে উপদেশ দেওয়া হয় সে বিষয়েই তিনি লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন।

এই তখন একটি শ্লোগানের ব্যাপারে একমত হয়ে লেখেন : ‘এই আমি ঠিকমতো বসেছি।’

রাশিদা জানান, রাস্তায় তাকে প্রতিদিনই নানা ধরনের হেনস্থার শিকার হতে হয়। এজন্যে তারা দুজনেই ‘আওরাত; কিংবা নারী সমাবেশে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নারীদের ওই সমাবেশে আরও অনেকেই নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু রক্ষণশীল এই দেশটিতে রুমিসা ও রাশিদার তৈরি পোস্টারটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রুমিসা মনে করেন সেদিন যে সাড়ে সাত হাজার নারী জড়ো হয়েছিল সেটা রক্ষণশীল পুরুষদের ভাবিয়েছে। অনেকেই হয়তো বিষয়টি ঠিকমতো নেয়নি যে নারীরা এভাবে চিৎকার করছে। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করে এটা ইসলামের বিরোধী। কিন্তু আমরা সেটাকে এভাবে দেখি না। আমার ধারণা ইসলামে নারীকে যথেষ্ট মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’

ওদের তৈরি প্ল্যাকার্ডের ছবিটি ইন্টারনেটে পোস্ট করা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ নিয়ে তখন প্রচুর আলোচনা শুরু হয়।

একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি আমার মেয়ের জন্যে এ ধরনের সমাজ চাই না।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘আমিও একজন নারী। কিন্তু এই ছবিটার ব্যাপারে খুব একটা স্বস্তিবোধ করছি না।’

পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলের খবর অনুসারে, করাচীর একজন ধর্মীয় নেতা এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত.. তাহলে পুরুষের শরীর পুরুষের সিদ্ধান্ত। তারা যার উপরেই চায় তার উপরেই উঠে যেতে পারে।’ পরে অনেকে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

নারীদের এই সমাবেশে পাকিস্তানে নারীবাদী আন্দোলনের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করেছে। রুমিসা বলেন, ‘অনেকে বলছেন এসব কোনো বিষয় না। নারীদের এরকম আচরণ করা উচিত নয়। আমার অনেক নারীবাদী বান্ধবীও মনে করে যে এই পোস্টারটি অপ্রয়োজনীয়।’