ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১:৩৫:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

যে প্রোটিন গ্রহণে বাড়ে ক্যানসারের ঝুঁকি

হেলথ ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২৭ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আপনার শরীরের নানা কাজকর্মের জন্য ‘টিএকে১’ প্রোটিন দরকার। সে না থাকলেই বরং বিপদ। কোষের জন্ম, বেড়ে ওঠা— এমনকি তার ক্ষত সারানোর কাজেও সাহায্য করে সে। অথচ সেই প্রোটিনই যখন তার রূপ বদলে ফেলে, তখন সে মানবদেহের পক্ষে হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। নানা ধরনের ক্যানসার কোষের জন্ম ও তাদের বাড়বৃদ্ধিতে সে হয়ে ওঠে অত্যন্ত সহায়ক। কারণ ক্যানসার কোষকে আগলে রাখছে সেই প্রোটিন। বাঁচাচ্ছে ওষুধের কবল থেকেও। এবার সেই প্রোটিনকেই খুঁজে বার করলেন গবেষকরা।  মানবদেহের সেই বিশেষ প্রোটিন হচ্ছে ‘টিএকে১’। তাকে বেঁধে ফেলে কিংবা নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে ক্যানসার বাড়বৃদ্ধি বন্ধ করার পথ দেখালেন বিজ্ঞানীরা।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং অস্ট্রেলিয়ার অলিভিয়া নিউটন-জন ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ‘টিএকে১’ প্রোটিনই ক্যানসারের কোষগুলোকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। সুকৌশলে তাদের আড়াল করে রাখে, যাতে ওষুধ ক্যানসার কোষ অবধি পৌঁছাতে না পারে। 

এ বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রোটিনটি ক্যানসার কোষের চারধারে শক্তিশালী বর্ম তৈরি করে ফেলে। এমনকি কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির সময়ে এই প্রোটিন ক্যানসার কোষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে থাকে। তাদের বিভাজনেও সাহায্য করে। তাই শরীরের কোথাও ক্যানসার কোষের জন্ম হলে তা খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে গিয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

‘টিএকে১’ প্রোটিনটি যতদিন না রাসায়নিক বদল হচ্ছে, ততদিন ঠিক থাকে। কোষের ক্ষত মেরামতেও সাহায্য করে থাকে। কিন্তু যে মুহূর্ত থেকে তার ভেতরে বদল আসতে থাকে, তখন থেকেই সে সুস্থ কোষগুলোর শত্রু হয়ে ওঠে। শরীরের রোগপ্রতিরোধকারী টি-কোষের সঙ্গেও সমানে টক্কর দিতে পারে সেই প্রোটিন। 

গবেষকরা বলছেন, যখন ক্যানসার কোষের বিভাজন শুরু হয়, তখন শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধী কোষগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার মধ্যে একটি হলো— টি-কোষ, যারা ছুটে গিয়ে ক্যানসার কোষগুলোকে আক্রমণ করতে শুরু করে। কিন্তু এই প্রোটিনটি সে কাজে বাধা দেয়। উল্টে টি-কোষের সঙ্গে লড়াই করে ক্যানসার কোষগুলোকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। তাই এই প্রোটিনকে জব্দ করতে পারলেই ক্যানসারের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হয় ও সহজেই চিকিৎসায় সেগুলোকে বিনষ্ট করা যায় বলেই জানান গবেষকরা।

‘সেল রিপোর্ট’ জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এমন ওষুধ তৈরি হচ্ছে, যা প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় তো করবেই, ক্যানসার কোষগুলোকেও ধ্বংস করবে। আপাতত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া গেছে। মানুষের শরীরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেই এ ব্যাপারে বিশদ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।