রাজধানীতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ঘটছে বিয়ে বিচ্ছেদ, এগিয়ে নারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০১:০৪ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২০ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় দাম্পত্য কলহের হার দিন দিন বাড়ছে। শুধু রাজধানীতে স্বামী-স্ত্রীর কলহে প্রতি ঘণ্টায় একটিরও বেশি সংসার ভেঙে যাচ্ছে। মাসে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে ৮৪৩টিরও বেশি পরিবার। এর মধ্যে বিচ্ছেদে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। হিসাব অনুযায়ী, তালাক নোটিশ প্রেরণকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী। যার মধ্যে গুলশান ও বনানীর অভিজাত পরিবারের শিক্ষিত ও বিত্তবান নারী থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারীর সংখ্যাই বেশি।
তবে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তবে বিয়ে বিচ্ছেদের হার আরো বেশি। কারণ অনেক মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীসহ অনেক পরিবার রয়েছেন যাদের বিচ্ছেদ পারিবারিক সালিশের মাধ্যমে ঘটে থাকে। যার হিসেব সিটি করপোরেশনে বা কিংবা কোথাও দালিলিকভাবে লিপিবদ্ধ থাকে না।
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের হিসেব মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয়মাস হলেও লকডাউনে একমাস বন্ধ ছিল। বাকি ৫ মাসে দুই সিটিতে তালাক চেয়ে নোটিশ জমা পড়েছে ৪ হাজার ২১৬টি। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ২২০০ এবং দক্ষিণে ২০১৬। আবেদনকারীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৩০ শতাংশ আর নারীদের ৭০ শতাংশ।
এর মধ্যে জানুয়ারিতে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪১ জন, মার্চে ৪৫৫ জন বিচ্ছেদের আবেদন করেন। সাধারণ ছুটির কারণে এপ্রিলে কোনো আবেদন করা হয়নি। মে মাসে ৫৪টি এবং জুন মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩২ জনে দাঁড়ায়। একইভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানুয়ারিতে ৫২৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪২ জন, মার্চে ৪৯২ জন বিচ্ছেদের আবেদন করেন। উত্তরের মতো দক্ষিণেও এপ্রিল মাসে বিচ্ছেদের কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে মে মাসে ১১৩ জন ও জুনে ৪৪১ জন বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন।
বিচ্ছেদের আবেদন নিষ্পত্তি করেন এমন কর্মকর্তাদের মতে, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা আবেদনে কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বামীর সন্দেহবাতিক মানসিকতা, পরকীয়া, স্বামী প্রবাসে থাকা, যৌতুক, মাদকাসক্তি, ফেসবুকে আসক্তি, ব্যক্তিত্বের সঙ্ঘাত। অন্য দিকে স্বামীর পক্ষে আবেদনের ক্ষেত্রে-স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের ইচ্ছায় চলা, ফেসবুক আসক্তি, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি কম মনোযোগ দেয়া, ধর্মকর্মে উদাসীনতা, বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ শতাংশ দম্পতি বিচ্ছেদে না গিয়ে পুনরায় সংসার করার বিষয়ে একমত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীরা বর্তমানে ঝুঁকিতে আছেন। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি হাজারে ১০.৮ শতাংশ নারী বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন। এর বিপরীতে প্রতি হাজারে ১.৫ শতাংশ পুরুষ বিচ্ছেদ করেছেন। আর বিচ্ছেদের আবেদনকারীদের মধ্যে যারা উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন তাদের সংখ্যা বেশি (হাজারে এক দশমিক ৭ জন)। আর অশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার হাজারে শূন্য দশমিক ৫। অন্য দিকে গ্রামাঞ্চলে বিচ্ছেদের হার যেখানে হাজারে এক দশমিক ৩ শতাংশ আর শহরে এই হার হাজারে শূন্য দশমিক ৮ জন। এক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আবেদন করছেন।
বিবিএসের সর্বশেষ গবেষণা বলছে, ঢাকার তুলনায় অন্য বিভাগীয় অঞ্চল ও জেলাশহরগুলোতে নারী-পুরুষদের বিবাহ বিচ্ছেদের হার ও আশঙ্কা উভয়ই বেশি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গ্রামের দম্পতিরা শহরের দম্পতিদের তুলনায় বিবাহ বিচ্ছেদে বেশি আগ্রহী। এর মধ্যে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রাজশাহী এলাকার মানুষ (প্রতি হাজারে ১.৭ শতাংশ হারে) বিচ্ছেদের আবেদন করেন। এরপর বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে খুলনা (প্রতি হাজারে ১.৪ শতাংশ)। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিবাহ বিচ্ছেদের হার দেশের অন্য বিভাগের তুলনায় কম (প্রতি হাজারে তা ০.৫ শতাংশ)। তথ্যানুযায়ী ২৫ থেকে শুরু করে ২৯ বছর বয়সী নারী-পুরুষরা সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন।
গবেষণামতে, যারা ২৭ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বিয়ে করেন তাদের দাম্পত্য জীবন তুলনামূলক বেশি টেকসই ও স্থায়ী হয়ে থাকে। অন্য দিকে যারা টিনএজ (১৩-১৯ বছর) বা ৩২+ বয়সে বিয়ে করে তাদের ডিভোর্সের হার বেশি। বিশেষ করে কম বয়সে বিবাহবন্ধনে যারা আবদ্ধ হয় তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক আবেদনের ৯০ দিনের মধ্যে কোনো পক্ষ আপস বা তালাক প্রত্যাহারের আবেদন না করলে তালাক কার্যকর হয়ে যায়।
এ বিষযে ঢাকা উত্তর সিটির আইন কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করার তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ শালিসি বৈঠকের ব্যবস্থা করে। কিন্তু যারা আগে থেকেই বিচ্ছেদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন- তারা এই বৈঠকে আসেন না। আবার কেউ কেউ বিশেষ করে সন্তানের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ যাবেন না বলেও আপসে যেতে রাজি হন। তবে এর হার মাত্র ৫ শতাংশ।
-জেডসি
- এই ঈদে দর্শক চাহিদায় বাড়ল ‘দম’-এর শো
- ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা রাজধানী
- এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণের তারিখ ঘোষণা
- কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১২
- বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৩ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস
- পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে
- ১০ দিনে নেপাল-তিব্বত: পাহাড় ও বিস্ময়ের এক ভ্রমণকাহিনি
- রোগী দেখতে ঢামেক হাসপাতালে এসে শিশু নিঁখোজ
- দেশের যেসব অঞ্চলে চার দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা
- দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন
- নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সিদ্ধান্ত ফিফার
- কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা: ২ গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে ৩ কমিটি
- অনেক নারী এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত: এড. দিলশাদ
- আজ ঢাকার আকাশ মেঘলা, মাঝে মাঝে বৃষ্টির আশঙ্কা
- ঈদ সালামি: শিশুদের আনন্দের ঝুলি, ঐতিহ্যের মধুর বন্ধন
- চাঁদরাতে কেনাকাটা: ভিড়ে মুখর নগর জীবন
- রাজধানীতে আজ বন্ধ থাকছে মেট্রোরেল
- রাজধানীর কোথায় কখন ঈদের জামাত জেনে নিন
- ঈদে তারকাদের ব্যস্ততা-আনন্দ, কেমন কাটছে উৎসব
- আজ ঢাকার আকাশ মেঘলা, মাঝে মাঝে বৃষ্টির আশঙ্কা
- আজ ঈদুল ফিতর, দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসব
- ঈদের দিন ফাঁকা রাজধানী, নিস্তব্ধতায় ভিন্ন এক ঢাকা
- ঈদের দিন রাজধানীর কোথায় কোথায় বেড়াতে যেতে পারেন
- জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী
- ঈদ সালামি: শিশুদের আনন্দের ঝুলি, ঐতিহ্যের মধুর বন্ধন
- অনেক নারী এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত: এড. দিলশাদ
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘যমুনা’য় জনতার ঢল
- দাদাভাইকে যেমন দেখেছি: আইরীন নিয়াজী মান্না
- ঈদের সেমাই: ঐতিহ্য ও স্বাদের অপূর্ব মেলবন্ধন
- নারীদের জন্য রাজধানীর কোথায় কখন ঈদ জামাত






