ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫:৪০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

শিকল ভেঙে আলো ছুঁতে চান তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩০ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২২ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিষ্টি চৌধুরী। তৃতীয় লিঙ্গের পরিচয়ে বেড়ে ওঠা মিষ্টির পথচলাও আর বাকি আট-দশজনের মতোই ছিল। হিজড়া বলে তিরস্কার শুনতে হতো তাকে ।

কিন্তু মিষ্টি আজ একজন সফল রাজনৈতিক নেতা। অন্য দশজন মানুষের মতো সম্মান নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি। জানা গেছে, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে একদিন হাজির হন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলার কাছে। মিষ্টির রাজনীতির হাতেখড়ি এখানেই।

ধীরে ধীরে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং সাভার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবের সংস্পর্শে আসেন তিনি ।

এই তিনজনের সাহচার্যে রাজনৈতিক মাঠে পদচারণা শুরু করেন মিষ্টি চৌধুরী। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাভার শাখার সহ-দপ্তর সম্পাদক পদ লাভ করেন মিষ্টি ।

রাজনীতিতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ মিষ্টি চৌধুরী । বিষয়টি নিজের এবং নিজ কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত গর্বের হিসেবেই দেখছেন তিনি ।

মিষ্টি জানান, তার এই উত্তরণের পথ এত সহজ ছিল না । ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি করার প্রবল ইচ্ছে পুষে রেখেছেন মনের ভেতর। হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর মস্তিষ্কে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব তাকে পুলকিত করতো। কিন্তু পদে পদে উপহাস, বঞ্চনা, নির্যাতনই যেন নিয়তি ছিল মিষ্টির।

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন মিষ্টি। লিঙ্গের বৈষম্য দূর করে তিনি এখন অন্য সাধারণ দশজনের একজন। সম্মানের সাথে রাজপথে এবং নিজ কর্মে তিনি বলিয়ান হয়ে উঠেন।

তবে স্বীকৃতি পেলেও সাধারণ জনগণের চোখে এখনো তারা সমাজে ভিন্ন এক রুপ। তবুও জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চলছে । শিকল ভেঙে আলো ছুঁতে চান মিষ্টি চৌধুরী । শত বাঁধা পেরিয়ে তিনি পাড়ি দিতে চান নীল আকাশের স্বপ্নে ।

মিষ্টি চৌধুরীর ছেলেবেলা কেটেছে ধামরাই ও টাঙ্গাইলে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন । মিষ্টি চৌধুরী বলেন তার বেড়ে উঠার গল্প। বয়সের সাথে সাথে নিজের শারীরিক পরিবর্তন তিনি বুঝতে পারেন। পারিবারিক লাঞ্ছনা ও সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে যুক্ত হোন তার কমিউনিটির (হিজড়া) মানুষদের সাথে।

তিনি ছেলেবেলায় যে স্বপ্ন দেখে বড় হয়েছেন। তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ ধারণ করে একদিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাভার উপজেলা শাখার উপ-দপ্তর সম্পাদক পদ লাভ করেন মিষ্টি। রাজনীতিতে নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন বলে জানান। ধর্মীয়ভাবে তিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী।

ব্যক্তি জীবনে তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষকে আইডল হিসেবে মনে করেন। যিনি ওপার বাংলার জনপ্রিয় পরিচালক।

তার সারাদিনের দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকেন তার গর্ভধারিণী মায়ের মুখ দেখে। মিষ্টি বলেন, দিন শেষে বাসায় ফিরে যখন মায়ের মুখের হাসি দেখি তখন এক ঝলকে সব কষ্ট চলে যায়। ব্যক্তি জীবনে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে কাজের পরিকল্পনা করছেন।

তিনি রাজনীতির পাশাপাশি হিজড়া কমিউনিটিদের নিয়ে জীবন গঠন উন্নয়ন সংস্থা নামের সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন।

মিষ্টি চৌধূরি বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। আমরাও মানুষ, আমাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে এই সমাজে। আমি প্রমাণ করে দিয়েছি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও অন্য দশ জনের মত মান সম্মান নিয়ে বাঁচার যোগ্যতা রাখেন।

তাই আসুন মিষ্টিদের অসম্মান কিংবা অবজ্ঞা নয় একটু সুযোগ দিন, মিষ্টিরাও কাজ করবে এ দেশের জন্য।