ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ১৫:২৮:২৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৯৫ ভাগ নারী

আপডেট: ০৭:০৯ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৪ মঙ্গলবার

উইমেননিউজ ডেস্ক, ঢাকা : শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণে দেশের ৯৫ ভাগ নারী কোন না কোনভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সচেতন হলেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের এ ঝুঁকির মাত্রা বেশি। কারণ, এই বয়সের মেয়েরা তাদের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিঃসঙ্কোচে কথা বলতে পারে না। পরিবারের সদস্যরাও অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এক্ষেত্রে পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা একটু যত্নশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারী পিরিয়ড নিয়ে লজ্জিত থাকেন। কারও সামনে প্রকাশ করতে চান না। এজন্য দোকান থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন না কিনে ঘরে কাপড়, তুলা বা টিস্যু যা পান তাই ব্যবহার করেন। এভাবে অস্বাস্থ্যকর কাপড়, তুলা, টিস্যু ব্যবহারের কারণে ৯৫ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশী নারী সার্ভিক্যাল ইনফেকশনের মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখোমুখি হন। এর প্রমাণ উঠে এসেছে গবেষণায়। দেখা গেছে দেশের ৯৭% নারী সার্ভিক্যাল ইনফেকশনে ভুগে থাকেন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, সার্ভিক্যাল ইনফেকশন থেকে ক্যান্সার হওয়া অস্বাভাবিক নয়। স্বাস্থ্য ঝুঁকির মারাত্মক এ প্রবণতাটির বড় কারণ অসচেতনতা। সচরাচর দেখা যায় না কোন বোন তার ভাইকে কখনও স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। এমনকি একজন মা তার সন্তানের জন্য বাবাকে এমনটি বলেছেন সে নজিরও কম। শুধু তাই নয়, দেখা গেছে বাসাবাড়ির কাছের কোন দোকানের দোকানদার পরিচিত হওয়ায় সেখান থেকে অনেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনেন না। সংকোচ বোধ করেন। মেয়েদের স্বাভাবিক এ পরিবর্তন নিয়ে কথা বলাটাও লজ্জাজনক মনে করেন অনেকে। বলতে গেলে বাংলাদেশে এটা ট্যাবু অর্থাৎ নিষিদ্ধ কোন বিষয়ের মতো। এমনকি মায়েদের সামনেও মেয়েরা পিরিয়ড নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। বাবা, ভাইদের সামনে তো প্রশ্নই ওঠে না। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে টিভিতে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হলে চ্যানেল পরিবর্তন করে দেয়াটাই শ্রেয় অনুমান করে মেয়েরা। অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহারের ফলে মারাত্মক অস্বস্তি অনুভূত হলেও বেশিরভাগ মেয়েরা স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে দেয়ার কথা বলে না। মূলত সংকোচ আর দ্বিধার কারণেই বাংলাদেশের মেয়েরা স্যানিটারি ন্যাপকিন ক্রয় এবং ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। পুরুষ দোকানিদের কাছে তা উল্লেখ করতে বিব্রত বোধ করে। যারাও কেনার সাহস করে, সেটা বাসা থেকে দূরে কোন দোকান থেকে। অযথা এ সংকোচের কারণে প্রায় ৯৭% নারী সার্ভিক্যাল ইনফেকশনে ভুগে থাকেন। জরিপে দেখা গেছে ৫৩ শতাংশ স্কুলছাত্রী পিরিয়ডের সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ যৌন সমস্যার জন্য দায়ী হলো অস্বাস্থকর ন্যাপকিন ব্যবহার। বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ নারী পিরিয়ডের সময় স্বাস্থসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না। স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে তাদের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে মা-বাবাদের খেয়াল রাখা। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয়া। পিরিয়ডের সময় মানসম্পন্ন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে অভ্যস্ত করা। ১২.১১.২০১৪        

 000000