ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০২:১৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

হাজারী গুড়ের জন্য খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৫ এএম, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শীতের আগমনী বার্তায় খেজুরগাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সুস্বাদু খেজুর রস সবারই পছন্দ। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বসে খেজুরের রস দিয়ে মুড়ি ও বিভিন্ন রকমের পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। সকালের শিশির ভেজা ঘাস ও কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত আসছে। আগমনী বার্তা পেয়ে খেজুর গাছ প্রস্তুতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন মানিকগঞ্জের গাছিরা।

কারণ খেজুরের রস ও পিঠা না হলে শীত জমে না। শীতের আবহে সবকিছুই যেন বদলাতে শুরু করেছে। হাতে দা, বাটাল, নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা-ছোলা ও নলি বসানোর কাজ করছেন গাছিরা। কয়েকদিন পরেই গাছে বাঁধানো হবে হাঁড়ি। এরপর চলবে রস সংগ্রহের কাজ। সেই রস থেকেই খেজুরের গুড় পাটালি ও হাজারী তৈরি করা হবে।

মানিকগঞ্জের অনেক এলাকায় এখনো গাছিরা তাদের আগের পেশা ধরে রেখে খেজুর রস সংগ্রহ করেন। তবে তা আগের তুলনায় একেবারেই নামমাত্র বলা চলে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে খেজুর গাছ পরির্চযা বা চাচাইয়ের কাজেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।


বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার খেঁজুর গাছ ও হাজারী গুড় আমাদের দেশের এক বিশাল কৃষিভিত্তিক লোকায়ত সম্পদ। ব্রিটিশ শাসনামলে এই গুড়ের সুনাম এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনো এই গুড়ের কদর দেশ বিদেশে রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

ঝিটকা কলাহাটা গ্রামের গাছি মো. মোস্তফা জানান, অনেক বছর আগে থেকেই আমি খেজুর গাছ ঝোড়া ও গুড় তৈরীর কাজ করি। আরোও ১০ থেকে ১৫ দিন পরে রস এবং গুড় পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, খেজুর গাছের সংখ্যা এখন কমে যাওয়ায় রস ও গুড়ের দাম বেশি। কিন্তু এরপর চাহিদা আছে।


ঝিটকা শিকদারপাড়া গ্রামের গাছি মো. মিজান খন্দকার জানান, "কৃষিকাজ কাজের ফাঁকে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ কাটি। প্রতি বছরই আমরা গুড় বানাই। তবে আগের মতো এখন আর গাছ নাই। রসও তেমন হয় না। নিজস্ব গাছ কম থাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে গাছ প্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে কিনে নিয়ে কাটি। লাল গুড়ের পাশাপাশি হাজারি গুড় বানাই। এ বছর শতাধিক গাছ প্রস্তুত করেছি। ৫ দিন পর থেকেই রস নামতে পারে।"

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘কালের বিবর্তনে আমাদের দেশের খেজুর গাছগুলো অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশি বেশি খেঁজুর গাছ রোপণ করে এর চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই খেজুরের গুড়ের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং গাছিরাও লাভবান হবে।’ উপজেলা কৃষি অফিস এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জের ঐতিহ্য হাজারী গুড়। এই গুড় মানিজগঞ্জ জেলার একটি ব্র্যান্ড। কিন্তু কিছু অসাধু গাছিরা বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করছে। যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছরই ভেজাল রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ বছরও ভেজালরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, খেজুর গাছগুলো অনেকটাই বিলুপ্তির পথে এজন্য এ বছর আমরা উপজেলায় ৫ লাখ খেজুর গাছের চারা রোপন করার উদ্যোগ নিয়েছি। খেজুর গাছের চারা সচরাচর পাওয়া যায় দেখে আমরা যশোরে চারা অর্ডার দিয়েছি। অলরেডি আমার বাসার সামনে একটা খেজুরের বাগান করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে সারা উপজেলায় চারা রোপণ করা হবে।