ঢাকা, রবিবার ২১, জুন ২০২৬ ২১:৪৬:২৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ৬৮ বছরে দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা আজ বাবা দিবস: ভালোবাসায় বাবাকে স্মরণের দিন ‘২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে’ বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে দিল জাপান লিবিয়া উপকূলে নারীসহ ১৫ অভিবাসীর লাশ উদ্ধার

২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ: মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো

বিশেষ প্রতিনিধি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৩০ পিএম, ২১ জুন ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দেশে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে দক্ষ মিডওয়াইফের বিকল্প নেই। তবে জনসংখ্যার তুলনায় দেশে এখনো মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিডওয়াইফ কী?

মিডওয়াইফ বা ধাত্রী হচ্ছেন এমন একজন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যিনি গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসবকালীন সময় এবং সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতকের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু প্রসব করান না, বরং গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি পরামর্শ, পরিবার পরিকল্পনা, প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং নবজাতকের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেও সহায়তা দিয়ে থাকেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, স্বাভাবিক প্রসব নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা জটিলতার লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত হাসপাতালে রেফার করেন, যা মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় সহায়ক হয়।

কেন প্রয়োজন মিডওয়াইফ?

বাংলাদেশে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। অনেক এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা গাইনি বিশেষজ্ঞের সহজলভ্যতা নেই। সেখানে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফরা মাতৃস্বাস্থ্যসেবার প্রথম সারির কর্মী হিসেবে কাজ করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ মিডওয়াইফের মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ স্বাভাবিক প্রসব নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কমে, মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকিও হ্রাস পায়।

দেশে বর্তমান অবস্থা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বাংলাদেশে মিডওয়াইফ তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়েছে। বর্তমানে কয়েক হাজার মিডওয়াইফ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন।

তবে স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের জনসংখ্যা ও প্রসূতি মায়েদের সংখ্যা বিবেচনায় এই সংখ্যা এখনো অপর্যাপ্ত। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দক্ষ মিডওয়াইফের সংকট রয়েছে।

২৫ হাজার নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হলে দেশের মাতৃস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দক্ষ জনবল বাড়বে। ফলে গর্ভবতী নারীরা নিজ এলাকার কাছাকাছি মানসম্মত সেবা পাবেন।

এছাড়া প্রসবজনিত জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা, নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও এ নিয়োগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাতৃমৃত্যু কমাতে বড় ভূমিকা

বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে মাতৃমৃত্যু হার কমাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তারপরও প্রতি বছর বহু নারী গর্ভধারণ ও প্রসবজনিত জটিলতায় প্রাণ হারান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই হার আরও কমানো সম্ভব।

তাদের মতে, একজন মিডওয়াইফ শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মী নন; তিনি মা ও নবজাতকের নিরাপদ জীবনের অন্যতম রক্ষক।

নতুন প্রত্যাশা

সরকারের ঘোষিত ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জনবলের অন্যতম প্রধান অংশ হচ্ছেন মিডওয়াইফরা, যারা নীরবে প্রতিদিন হাজারো মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।