ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩২:০৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

আজও ঢাকা বেশ ফাঁকা, নেই জ্যাম, নেই সেই ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:৪৭ পিএম, ৩১ মে ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদুল আজহার ছুটির শেষভাগেও রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা। চিরচেনা যানজট, মানুষের ভিড় আর কর্মব্যস্ততার শহরটি এখনো যেন ছুটির আমেজে ডুবে আছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম, ফুটপাতেও মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। ফলে নগরজীবনে বিরল এক স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে।

রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, মতিঝিল, গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

মিরপুরের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, “সাধারণ দিনে মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে যায়। আজ মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেছি। ঈদের সময় ঢাকাকে অন্যরকম লাগে।”

ধানমন্ডির বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, “বছরের এই সময়টাতে ঢাকায় থাকলে একটু শান্তি পাওয়া যায়। রাস্তায় শব্দ কম, ধোঁয়া কম, মানুষের ভিড়ও নেই। মনে হয় শহরটা একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। অনেক বাসেই খালি আসন দেখা গেছে। অন্যদিকে রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, শহর ফাঁকা থাকায় তাদের আয়ও কিছুটা কমে গেছে।

ফার্মগেট এলাকার রিকশাচালক আবদুল জলিল বলেন, “জ্যাম নেই, এটা ভালো। কিন্তু যাত্রীও কম। সকাল থেকে আগের মতো ভাড়া পাচ্ছি না।”

মতিঝিলের এক চা-দোকানি রফিকুল ইসলাম বলেন, “অফিসপাড়া এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তাই বেচাকেনাও কম। অফিস খুললে আবার আগের মতো ব্যস্ততা ফিরে আসবে।”

এদিকে রাজধানীতে ফেরা মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়লেও এখনো তার প্রভাব নগরীর সড়কে পুরোপুরি পড়েনি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ফিরতে শুরু করলে রাজধানী আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে। তখন সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়বে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ছুটির এই ফাঁকা ঢাকা আবারও মনে করিয়ে দেয় রাজধানীর ওপর জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি। বছরের অন্য সময় যে শহর যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে, ছুটির কয়েকটি দিনে সেই শহরই হয়ে ওঠে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও বাসযোগ্য।

ছুটি শেষ হওয়ার পথে হলেও আপাতত রাজধানীজুড়ে এখনো বিরাজ করছে ঈদের শান্ত আবহ। তাই শহরে থাকা মানুষজনও উপভোগ করছেন ব্যস্ততাহীন ঢাকার এই বিরল রূপ।