ঢাকা, বুধবার ২৭, জানুয়ারি ২০২১ ১৬:২০:১৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন কারা, সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিলেন কমলা হ্যারিস করোনাতাণ্ডবে বিশ্বে মৃত্যু ২১ লাখ ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে বাইডেন প্রশাসনে আরেক বাংলাদেশী নারী করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ মেক্সিকোতে করোনায় মৃতের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে

ইউরোপের সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০৭ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০ সোমবার

ইউরোপের সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড

ইউরোপের সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ড

সুইস বা সুইজারল্যান্ড ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। তবে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। এর মুদ্রার নাম সুইস ফ্রাংক এবং বাৎসরিক স্থূল দেশজ উৎপাদের পরিমাণ ৫১২.১ বিলিয়ন সুইস ফ্রাংক (২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ)। এটি পৃথিবীর ধনী রাষ্ট্রসমূহের অন্যতম।

২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে জনসংখ্যা ছিল প্রায় পৌণে এক কোটি। এদেশে মানুষের মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ৬৭,৮২৩ সুইস ফ্রাংক (২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ)। বের্ন শহরটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী। অন্যতম বিখ্যাত অন্য দুটি শহর হলো জুরিখ এবং জেনিভা।

জুরিখের দিকের লোকেরা জার্মান এবং জেনিভার দিকের লোকেরা ফরাসি ভাষায় কথা বলে। আল্পস পর্বতমালা ও প্রশস্ত হ্রদ সুইজারল্যান্ডকে অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রূপে ভূষিত করেছে। বিশ্বের পর্যটকদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয় একটি দেশ।

সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি, ট্রেন এবং চকলেট খ্যাতি বিশ্বজোড়া। অবশ্য সুইস ব্যাংকগুলো কালো টাকা নিরাপদের সংরক্ষণের জন্য কুখ্যাত। দেশটির কোন নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই।

ইতিহাস : ১৮৪৮ সালে সুইস কনফেডারেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুইজারল্যান্ডের ঘটনাবলি বিবৃত করে। ১৮৪৮ সাল থেকে সুইস কনফেডারেশন সায়ত্ত্বশাসিত ক্যান্টনের ফেডারেল প্রজাতন্ত্র ছিল, এর মধ্যে কিছু কনফেডারেসি ৭০০ বছরের অধিক পুরনো ছিল। ফলে এটি এখনো বিদ্যমান বিশ্বের প্রাচীনতম কনফেডারেসির একটি।

এই অঞ্চলের শুরুর ইতিহাস আলপাইন সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত। হেলভেট্টি জাতি সুইজারল্যান্ডে বসবাস করত। দেশটি খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে রোমান শাসনের অধীনে আসে। ধ্রুপদী সভ্যতার শেষভাগে গ্যালো সংস্কৃতি জার্মান প্রভাবে প্রভাবিত হয় এবং সুইজারল্যান্ডের পূর্ব অংশ আলেমানিক ভূখণ্ডের অংশ হয়। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে সুইজারল্যান্ড এলাকাটি ফ্রানকিস সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত হয়। মধ্যযুগের মধ্যবর্তী সময়ে পূর্ব অংশটি পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সোয়াবিয়া ডিউকশাসিত এলাকা এবং পশ্চিম অংশটি বুরগুন্ডির অংশ হয়।

প্রাক-ইতিহাস : প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ১৫০,০০০ বছর পূর্বে মধ্য পুরা প্রস্তর যুগে শিকার-সংগ্রহকারীরা আল্পস পর্বতের উত্তরের নিম্নভূমিতে বসবাস করত। নব্য প্রস্তর যুগে এই এলাকাটি গণবসতিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮০০ অব্দের ব্রোঞ্জ যুগের পাইল বসবাসকারীদের অবশিষ্টাংশ অনেক হ্রদ এলাকায় পাওয়া যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে কেল্টীয় আদিবাসীরা এই এলাকায় বসবাস করত। রেটীয় জাতি পূর্ব অঞ্চলে এবং হেলভেট্টি জাতি পশ্চিম অঞ্চলে বাস করত।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে আউসের্সিলে কার্ন স্কুল কমপ্লেক্সের জন্য নির্মাণ প্রকল্পের খোদাই কাজের সময়ে একটি গাছের ট্রাঙ্ক থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দের একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল আনুমানিক ৪০ বছর এবং তিনি জীবিত অবস্থায় শারীরিক পরিশ্রম করতেন। ওই নারীর সাথে ভেড়ার চামড়ার কোট, বেল্টের চেইন, পশমের পোশাক, একটি ওড়না, একটি দোদুল্যমান কাচ ও হলদে পাথরের তসবিহ আবিষ্কৃত হয়।

মধ্যযুগ : মধ্যযুগে সুইজারল্যান্ডে ক্যারোলিঞ্জীয় রাজাদের অধীনে সামন্তবাদ বিকশিত হয় এবং রাজতন্ত্র ও বিশপদের রাজত্ব শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করত। ৮৪৩ সালে বুরগুন্ডি ও লোথারিঞ্জিয়ার মধ্যে এবং আলেমানিয়া ও জার্মান লুইসের পূর্ব রাজ্যের মধ্যে ভেরডুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

দশম শতাব্দীতে ক্যারোলিঞ্জীয়দের প্রভাব হ্রাস পায় এবং ম্যাগিয়াররা ৯১৭ সালে বাসেল ও ৯২৬ সালে সেন্ট গ্যালেন ধ্বংস করে।

শিল্পায়ন ও আধুনিক সুইজারল্যান্ড : গৃহযুদ্ধের ফলে সুইজারল্যান্ডে ১৮৪৮ সালে ফেডারেল সংবিধান গ্রহণ করে। ১৮৭৪ সালে এতে ব্যাপক সংশোধন আনা হয় এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও আইনি বিষয়ে ফেডারেল সরকারে উপর ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ক্যান্টোনাল সরকারের উপর দায়ভার ন্যস্ত করা হয়। তখন থেকে ২০শ শতাব্দীর অধিকাংশ সময়ে সুইস ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধি এসেছে।

সুইজারল্যান্ড মূলত গ্রামীণ এলাকা হলেও ১৯শ শতাব্দীর শেষভাগে শহরগুলোতে শিল্প বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে, বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাসেলে রেশমসহ টেক্সটাইল ছিল অন্যতম প্রধান শিল্প। ১৮৮৮ সালে নারীরা ৪৪ শতাংশ পারিশ্রমিক গ্রহীতা ছিল। অর্ধেকের কাছাকাছি নারী টেক্সটাইল মিলে কাজ করতেন।
অন্যদিকে গৃহপরিচারিকা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মের শাখা। ১৮৯০ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৭০-এর দশকের চেয়ে বেশি ছিল।

রাজনীতি : দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা ভারসাম্যমূলক ও অত্যন্ত সুস্থির। সুইস সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিবছর ১লা জানুয়ারী তারিখে এর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তিত হয়। ছয় বছরের জন্য গঠিত মন্ত্রীপরিষদের একেকজন মন্ত্রী পালাক্রমে এক বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ : সুইজারল্যান্ডে মোট ২৬টি ক্যান্টন রয়েছে। ঐতিহাসিক কনফেডারেশনের সময় এর প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল যাদের পৃথক সীমানা ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও ছিল। বর্তমানে এর সবগুলো সুইজারল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত।

ভূগোল : সুইজারল্যান্ড পশ্চিম ইউরোপের মধ্যভাগে অবস্থিত। এর উত্তরে জার্মানি, পূর্বে অস্ট্রিয়া ও লিশটেনষ্টাইন, দক্ষিণে ইতালি এবং পশ্চিমে ফ্রান্স। সুইজারল্যান্ড একটি ক্ষুদ্র পর্বতময় দেশ। এটি কেন্দ্রীয় আল্পস পর্বতমালা এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রাক-আল্পস পর্বতমালার কিয়দংশ নিয়ে গঠিত। এখানে পর্বত, পাহাড়, নদী ও হ্রদের বিচিত্র সমাহার ঘটেছে। দেশটির আয়তন ৪১,২৮৫ বর্গকিলোমিটার এবং এটি উত্তর-দক্ষিণে ২২০ কিলোমিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। দক্ষিণের মাগগিওরে হ্রদের তীরে সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র ১৯২ মিটার উঁচুতে রয়েছে পাইন অরণ্যের সারি। অন্যদিকে সেখান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ৪০০০ মিটারেরও বেশি উঁচু ৪৮টি বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ। সুইজারল্যান্ডের তিনটি প্রধান ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়, জুরা, সুইজারল্যান্ডীয় মালভূমি এবং আল্পস পর্বতমালা।

অর্থনীতি : সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি পৃথিবীর অন্যতম স্থিতিশীল অর্থনীতি। দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশটির অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা সুইজারল্যান্ডকে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটী আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিনিয়োগকারীদের পরিচিত করে তুলেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির নির্ভরতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শিল্প ও বাণিজ্য সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বের সর্বোচ্চ মাথা-পিছু আয়ের দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ড অন্যতম। সুইজারল্যান্ডে বেকারত্বের হার কম। এছাড়া দেশটির সেবা খাত ক্রমেই অর্থনীতির একটি বড় অংশ হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে।

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক এ এই দেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে। এদেশে মানুষের মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ৬৭,৮২৩ সুইস ফ্রাংক (২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ)। বের্ন শহরটি সুইজারল্যান্ডের রাজধানী। অন্যতম বিখ্যাত অন্য দুটি শহর হলো জুরিখ এবং জেনিভা।