ঈদ বাজার : কেনাকাটায় মুখরিত ‘দেশিদশ’
আপডেট: ০৭:৩৮ পিএম, ৬ জুলাই ২০১৫ সোমবার
মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : ঈদ এগিয়ে এসেছে। চলছে হরদম কেনাকাটা। জমে উঠেছে ফ্যাশান হাউজগুলো। বুসন্ধরা সিটির লেভেল-৭ এর দেশিদশে এখন ক্রেতা সমাগম তুঙ্গে। বিক্রেতারা ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই ছাদের নিচে রকমারি দেশীয় ঐতিহ্যের বুটিক হাউজ হওয়ার কারণে ক্রেতা আকর্ষণে বেশ এগিয়ে দেশিদশ।
সরেজমিন ঘুরে ঈদের পোশাক কেনাকাটা নিয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে দেশিদশে। দেশীয় ১০টি বুটিকস্ হাউস নিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশিদশ বর্তমানে শতকরা ৬০ ভাগ ক্রেতার চাহিদা পূরণে সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন বাংলার মেলার সেলস্ সুপারভাইজার মিল্লাত হোসেন। তার কথার সত্যতার বহিঃ প্রকাশ মেলে, বাড্ডা থেকে বসুন্ধরা সিটির দেশিদশে সপরিবারে কেনাকাটা করতে আসা মেহজাবিন আক্তারের সঙ্গে আলাপচারিতায়।
ক্রে-ক্রাফেটর শোরুমে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানালেন, যখন অধিকাংশ ক্রেতা ভারতীয় পোশাকের ওপর প্রায় নির্ভরশীল, তখন একবারের নতুন আঙ্গিকে দেশীয় ও মানসম্মত পোশাক ক্রেতাদের কাছে উপহার দিতে পেরেছে এসব বুটিক হাউসগুলো।
রঙ : রঙের সেলসম্যান ইনসান আহমেদ উইমেননিউজকে জানালেন, এবারের ঈদে রঙে ঈদ কালেকশন হিসেবে এসেছে পাহাড়ি কটন শাড়ি। এগুলোর দাম ১ হাজার ৭৯০ টাকা। এগুলো ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে বলেও জানান তিনি। উত্সব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এছাড়া রঙে পাওয়া যাচ্ছে মুসলিম শাড়ি। দাম ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার ৮০০ টাকা। ফ্যাশন প্রিয় তরুণীদের কথা মাথায় রেখে রঙ বিভিন্ন ডিজাইনের জুয়েলারি আইটেমও রেখেছেন। রঙয়ের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশান ডিজাইনার বিপ্লব সাহা উইমেননিউজকে জানান, ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দের দিকে লক্ষ্য রেখেই এবারো তারা পোশাক তুলেছেন। বরাবরের মত এবারো উজ্জ্বল রংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দামের দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছে।
সাদাকালো : ঈদে সাদাকালোর পোশাকে নতুন আয়োজন হিসেবে রয়েছে, হাতের কাজ। সাদাকালোর ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ দিয়ে ঈদ উপলক্ষে নানারকম ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, ফতুয়া ও কুর্তা। পোশাকে হাতের কাজের প্রাধান্য পাশাপাশি স্ক্রিন এবং ব্লক প্রিন্টে কাজ করেও হাতের কাজ মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে একই রকম যুগল পোশাক।
সাদাকালোয় শাড়ির দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, থ্রিপিস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ৮৮০ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে, আনস্টিচ থ্রিপিস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া সাদাকালোর নতুন আয়োজন মাতৃত্বকালীন পোশাক। এর মধ্যে রয়েছে সালোয়ার, ম্যাক্সি, টপস এবং বিশেষ ধরনের জুতা। মাতৃত্বকালীন এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।
নাগরদোলা : নাগরদোলায় এবার ঈদে ব্লক ও লেগিন্স ত্রয়ী থ্রি পিছ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। জামদানি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার ৪৯০ টাকা ১০ হাজার ৯৯০ টাকায়। জুট মিলের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। কটনের শাড়ি ৩৯০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮৯০ টাকা। ঘাস সিল্ক পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪৯০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৯০ টাকায়।
রাজশাহী সিল্কের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৩৯০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮৯০ টাকায়। ক্রে-ক্রাফেট : ক্রে-ক্রাফেট ইয়োক বসানো থ্রি-পিছগুলো ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এগুলোর দাম ২ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই শোরুমের সেলসম্যান রনি জানালেন, শুরুতে বেচাকেনা কম থাকলেও বর্তমানে তাদের বিক্রি বেশ ভালো।
বাংলার মেলা : দেশি দশের আরেক জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস বাংলার মেলা। শাড়ি বাংলার মেলার অন্যতম আকর্ষণ। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে বাংলার মেলায় সব কালেকশান রয়েছে বলে জানান সেলস এক্সিকিউটিভ সোলায়মান। অর্গানজা সিল্ক, এন্ডি, হাফসিল্ক, এন্ডি কটন ব্লেন্ড ও টাঙ্গাইল শাড়ি রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে। সালোয়ার কামিজে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ডিজাইন ও রঙের ভেরিয়েশন। ঈদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি যাদের মাঝে লক্ষ্য করা যায়, সেই বাচ্চাদের জন্য বাংলার মেলায় রয়েছে ঈদের পোশাকের ভিন্ন আয়োজন।
বাংলার মেলায় শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৬৫০ থেকে ১১ হাজার টাকা, থ্রিপিস ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং মেয়েদের টপস ও ফতুয়া ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।
নিপুন : এবারের ঈদের কেনাকাটায় নিপুনের ফ্রেবিক্সের শাড়ির বেশি চাহিদা রয়েছে বলে জানান সেলস এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান। এছাড়া কটন ও সিল্কের মধ্যে সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, বাচ্চাদের থ্রি-পিসের কাটতিও ভালো বলে জানান তিনি। দাম সম্পর্কে বলেন, শাড়ি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ১ হাজার ৬৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, কটন পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, সিল্ক পাঞ্জাবি ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা, ছেলেদের ফতুয়া ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা, বাচ্ছাদের থ্রি-পিস ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
দেশাল : দেশি তাঁতের ওপর লোকজ ও হাল ফ্যাশনের ওপর নির্ভর করে দেশালের ঈদ কালেকশন সাজানো হয়েছে বলে জানান সেলস এক্সিকিউটিভ মো. মহসীন। নানা ডিজাইনের টপস, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিস, ছেলেদের ফতুয়া, বাচ্চাদের ফ্রক, ফতুয়া নিয়ে সকলের জন্য নানা পোশাকের সব আয়োজন রয়েছে।
দেশালে সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের টপস ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং শাড়ি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। এছাড়া বাচ্চাদের সালোয়ার কামিজ ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে কেনা যাবে।
অঞ্জন’স : দেশীদশে বেশ উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল অঞ্জন’সে। বিক্রেতা পারভেজ আক্তার জানান, এবার মেয়েদের থ্রি-পিস, ফতুয়া, সালোয়ার কামিজ, শাড়িসহ নিজস্ব প্রোডাক্টস নিয়ে ঈদ আয়োজন সাজিয়েছে অঞ্জনস।
রাজশাহী সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, টাঙ্গাইল সুতি, হাফসিল্ক কাপড়ে শাড়িগুলো করা হয়েছে। ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, এ্যাম্বয়ডারি করা হয়েছে শাড়িগুলোতে। সুতি শাড়ি ৭৫০-৪০০০ টাকা, হাফসিল্ক ৩৫০০-৬০০০ টাকা, সিল্ক ১০০০০-১৮০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নরসিংদীর তাঁত কটন, লিনেন কটন, জ্যাকার্ড কটন, ডফি কটন, মানিকগঞ্জের এন্ডি কটন, রাজশাহীর সিল্ক ও এন্ডি সিল্ক দিয়ে ঈদের সালোয়ার কামিজগুলো করা হয়েছে। প্লেন, ষ্ট্রাইপ, চেক, লিলেন কটন কাপড়ে অনেক নতুন ধরনের সালোয়ার কামিজ করা হয়েছে। কটন কাপড়ের সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাবে ২০০০-৪০০০ টাকায়, লিনেন কটন ৩৫০০-৫৫০০ টাকায়, এন্ডি কটন ৪৫০০-৮০০০ টাকায়, সিল্ক ও এন্ডি সিল্ক ৮০০০-১৬০০০ টাকায়। এছাড়া ঘর সাজাতে কটন, খাদি কাপড়, বেডশিট, ফুশন কভার, পর্দা, ডাইনিং-কিচেন সেট নিয়ে এসেছে অঞ্জনস।
বিবিয়ানা : ঈদ উপলক্ষে বিবিয়ানায় মেয়েদের ফতুয়া, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি-পিস, বাচ্চাদের শার্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিবিয়ানার ম্যানেজার খন্দকার আফজাল হোসেন। বিবিয়ানায় মেয়েদের ফতুয়া ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ৯০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, শাড়ি ৮০০ থেকে ৮ হাজার টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-পিস ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে কেনা যাবে।
প্রবর্তনা : দেশিদশে একমাত্র গজ কাপড় পাওয়া যায় প্রবর্তনায়। নিজস্ব নকশায় তাঁতে বোনা কাপড়। প্রতি গজ পড়বে ১৯০ থেকে ৬৩৫ টাকা পর্যন্ত। শাড়ির মধ্যে রয়েছে কাতান, সিল্ক, টাঙ্গাইল। দাম ৪০০ থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে।
এসব দোকানের কর্মচারিরা জানান, ঈদ বাজার জমে উঠেছে। গতবারের চেয়ে এবার ঈদে তাদের বিক্রি বেশ ভালো। তারা জানান, দেশিদশে ক্রেতারা সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কেনাকাটা করছেন। তবে, ২০ রোজার পর থেকে ঈদের আগের দিন গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে দেশিদশে।
০৭.০৭.২০১৫ - বিদেশে নাগরিকত্ব রয়েছে যেসব বলিউড তারকার
- ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে
- `আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে`
- চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, শিক্ষিকাসহ নিহত ২
- প্রতিবাদ প্রতিরোধে আজো প্রাসঙ্গিক নজরুল
- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
- মশলাদার এবং সুস্বাদু চিকেন কষার রেসিপি
- টোল ছাড়াই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের সুযোগ আজ
- জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- আজ ৭ নভেম্বর: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’
- আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় বাংলাদেশের সোবহানা
- স্নাতক পাশেই ব্যাংকে চাকরি
- তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- সংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
- মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ
- স্নাতক পাশেই ব্যাংকে চাকরি
- কাছের মানুষের ছোট ছোট অবহেলা কেন বেশি কষ্ট দেয়?
- ফের গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী উর্মি
- গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
- তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম
- সংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
- মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ
- মধ্যরাতে চিত্রনায়িকা পরীমনির রহস্যময় পোস্ট
- রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট
- আজ ৭ নভেম্বর: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’
- মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান
- মশলাদার এবং সুস্বাদু চিকেন কষার রেসিপি
- জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী











