ঢাকা, শনিবার ০৭, নভেম্বর ২০২৬ ১৮:১৭:২০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, শিক্ষিকাসহ নিহত ২ আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা আজ ৭ নভেম্বর: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান

উদ্যামী নারী ফুলকেরিয়া

আপডেট: ০২:২৭ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৫ বুধবার

2daa3d460c78a79163642f9ad55965a5উইমেননিউজ ডেস্ক : স্রেফ তেঁতুল আর মহুয়া ফল বিক্রি করে বছরে ৭ লাখ টাকা রোজগার। শুধু নারী মহলেই নয়, গোটা অঞ্চলের চোখে উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ছত্তিশগড়ের সেলভা গ্রামের নিরক্ষর গৃহবধূ ফুলকেরিয়া মিঞ্জ।
একদা চরম দারিদ্রের সঙ্গে ছিল তাঁর নিত্য সংগ্রাম। আড়াই দশক পার করে সেই ফুলকেরিয়া দেবীর সৌজন্যে বছরে অন্তত ৫০ দিনের কাজ পান গ্রামের পুরুষরা। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে তুখোড় ব্যবসায়িক বুদ্ধি এবং প্রবল পরিশ্রম।
১৯৯০ সালে নিরক্ষর অনিল মিঞ্জের সঙ্গে ঘর বাঁধেন ফুলকেরিয়া। ছোট্ট সংসারে অর্থাভাব ছিল প্রবল। এই সময় পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন ওই বধূ। খুচরো আনাজের বেচা-কেনা দিয়ে রোজগারে হাতেখড়ি। পরে ২০০৮ সালে মহিলা সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে মাত্র ৯ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাইকারি সব্জির ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি, হিসেব-পত্র বুঝতে নিজ উদ্যোগে লেখাপড়ার তালিম নেন। ক্রমে ব্যবসার বহর বাড়ায় ২০১১ সালে ব্যাঙ্ক থেকে ফের ১.২৮ লাখ টাকা ধার নেন ফুলকেরিয়া।
সঠিক ব্যবসায়িক কৌশল এবং পরিশ্রমের ফলে আরও উন্নতি ঘটে। তেঁতুল, মহুয়া, কুল, ডুমুরের মতো মরশুমি ফল-সব্জির পাশাপাশি ধানের ব্যবসাতেও দারুণ লাভ হয়। বাত্সরিক আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬-৭ লক্ষ টাকা। ফুলকেরিয়ার সাফল্যে রয়েছে তাঁর স্বামীর অবদানও। ব্যবসা নিয়ে স্ত্রী যখন ব্যস্ত, অনিল সেই সময় দুই হাতে সংসার সামলেছেন। ঘরকন্নার কাজের সঙ্গে নিজেদের একফালি জমিতে ফসল ফলিয়েছেন। নিজেরা নিরক্ষর হলেও তিন সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে ভালো স্কুলে পড়িয়েছেন এই দম্পতি।
আর্থিক সুখ এলেও শোক পিছু ছাড়েনি ফুলকেরিয়ার। ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর বড় ছেলে অনুজ ইঞ্জিনিয়ারিং ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনার শিকার হন। তাঁর মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন ফুলকেরিয়া। পরে দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আরও একবার নিয়তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি হয়েছেন। নিরন্তর কর্মব্যস্ততা হয়ে উঠেছে তাঁর বেঁচে থাকার ইউএসপি।
২২.০৪.২০১৫