ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১:৩৭:৪৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

একসঙ্গে দৌড়ালেন হাজার নারী, সঙ্গে শিশুরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩২ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। শীতের হালকা কুয়াশায় মোড়া হাতিরঝিল লেক যেন নিঃশব্দ এক দৃশ্যপট। নেই চিরচেনা যানজট, নেই কোলাহল। লেকঘেঁষা সড়ক দেখে মনে হচ্ছিল রাজধানীবাসী এখনও ঘুমে আচ্ছন্ন। তবে সময় গড়াতেই বোঝা গেল, গতকাল শুক্রবারের এই ভোরটা অন্যরকম। 

হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে জমতে শুরু করে ভিড়। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভাসমান মুক্তমঞ্চটি মুহূর্তের মধ্যে কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে। একই রঙের পোশাকে কয়েকশ নারী ও শিশু দৌড়ের আগে অনুশীলন করছিল। কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবার নিয়ে। দ্বিতীয়বারের মতো নারীদের জন্য এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছে ‘অ্যাক্টিভ পালস বাংলাদেশ’। 

ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে ৬টা বাজতেই আয়োজকদের ঘোষণা– সবাই ট্র্যাকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। 

সাত ও দুই কিলোমিটারের দুটি ইভেন্ট। দৌড় শুরুর আগে বাজানো হলো জাতীয় সংগীত। এরপর কাউন্টডাউন। মুহূর্তেই ট্র্যাকে নামলেন এক হাজার নারী। সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারী– পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে সত্তোর্ধ্ব নারী। দুই কিলোমিটারে অংশ নেন ৩০০ জন, সাত কিলোমিটারে ৭০০ জন। সকাল পৌনে ৭টায় শুরু হয় দৌড়। 

ট্র্যাকে অনেকের মাঝে নজর কাড়ে ছয় বছরের ছোট্ট শিশু। পরিচয় জানতে চাইলে চটপট উত্তরে জানাল– ওর নাম ওয়াসেনাথ বিনতে কবির। মা জাকিয়া ফারজানা ও আট বছরের বোন ওয়ানিয়া বিনতে কবিরের সঙ্গে সেও নেমেছে ট্র্যাকে। 

দৌড় শেষ করে দুই বোন গিয়ে দাঁড়ায় অপেক্ষমাণ বাবার পাশে। বাবা ফজলুর কবির বলেন, পরিবারের সবাই দৌড় ভালোবাসেন। বড় মেয়ে আগেও একাধিক ম্যারাথনে অংশ নিয়েছে। শুক্রবারের দৌড়ের জন্য ভোর ৪টা থেকেই প্রস্তুতি শুরু। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে রওনা হয়ে সকাল ৬টার মধ্যেই হাতিরঝিলে পৌঁছে যান তারা। মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলে নার্সারিতে পড়ে ওয়াসেনাথ, আর বোন ওয়ানিয়া দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

ফজলুর কবির বলেন, আমার স্ত্রীও এখন পর্যন্ত চারটি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছে। সময় পেলে ঘুরতে পছন্দ করে পরিবারের সদস্যরা। বাবার পাশে দাঁড়ানো ওয়াসেনাথ বলল, ‘আপুকে নিয়ে আমার দৌড় শেষ। মায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আবার দৌড়াব।’ 

আরও অনেক শিশুও তাদের মা-বাবার সঙ্গে শীত উপেক্ষা করে হাতিরঝিলে দৌড়াতে আসে। শেষে মেডেল গলায় পরানোর সময় ওদের মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। আয়োজনের শেষ পর্বে ছিল র‍্যাফেল ড্র। 

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ২০২৩ সাল থেকে অ্যাক্টিভ পালস বাংলাদেশের যাত্রাটা শুরু। এখন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৪টি লাইভ ম্যারাথনের আয়োজন করেছে তারা। ২০২৫ সালে নারীদের অংশগ্রহণে প্রথম ম্যারাথনের পর এবার হলো দ্বিতীয় আয়োজন। 

এবারের ম্যারাথনের মূল লক্ষ্য– সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান অধিকার এবং সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা। আয়োজনে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পুলিশ উইম্যান্স নেটওয়ার্ক ও জেসিআই বাংলাদেশ। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সাফোলা অ্যাক্টিভ প্লাস। 

অ্যাক্টিভ পালস বাংলাদেশের কো-ফাউন্ডার মোরছালিন আহমেদ বলেন, দৌড়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। দৌড় মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। 

এদিন শীতের ভোরে হাতিরঝিল শুধু দৌড়ের ট্র্যাকই ছিল না; সেখানে ফুটে ওঠে নারীর শক্তি, পরিবার আর সক্রিয় জীবনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।