ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩০, জুলাই ২০২৬ ৪:৪৭:৩০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক যেসব ক্ষতির কারণ অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন এবার চিনিতেও মিলল ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্যাস সংকটে বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন, বাসায়ও জ্বলছে না চুলা সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে যা জানা গেল

এবার চিনিতেও মিলল ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চিনিতে ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ অজান্তেই এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছে।

সম্প্রতি Journal of Food Composition and Analysis–এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। গবেষণার জন্য ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের বাণিজ্যিক চিনি ব্র্যান্ডেড ও খোলা উভয় ধরনের বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩২২টি এবং খোলা বা নন-ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। যদিও দুই ধরনের চিনির মধ্যে পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়, তবে খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।

পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার আকার ছিল প্রায় ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩.১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল তন্তু (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ গোলাকার কণা। গবেষকদের ধারণা, এসব কণা প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ক্ষয়প্রাপ্ত প্লাস্টিক থেকে খাদ্যে মিশে থাকতে পারে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল বিউটাডিয়েন স্টাইরিন (এবিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি), পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন (পিটিএফই), উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন (এইচডিপিই) এবং নাইলনসহ আরও কয়েক ধরনের পলিমার।

গবেষণায় মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। যদিও এই মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, তবুও গবেষকদের মতে, চিনি মানুষের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের একটি ধারাবাহিক উৎস হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে চিনি উৎপাদন ও পরিশোধনের বিভিন্ন ধাপে প্লাস্টিকভিত্তিক ফিল্টার, পাইপ, বস্তা, কনভেয়ার ও প্যাকেজিং উপকরণ ব্যবহারের কারণে দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সময় বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক চিনিতে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তাদের সুপারিশ, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বাস্থ্যসম্মত মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং এ বিষয়ে বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি।
 

এই বিভাগের জনপ্রিয়