ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারি ২০২২ ২০:১৩:৪৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
চলতি বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়ালো ১৬ হাজার অস্বাস্থ্যকর বাতাসের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা বেসরকারি খাত বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাটে হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ, স্বামী পলাতক ফতুল্লায় প্রাক্তন স্বামীর ঘরে স্ত্রীর মরদেহ করোনায় বিশ্বজুড়ে প্রাণহানি বেড়ে ৬ হাজার, কমেছে সংক্রমণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কমেছে মুরগির দাম, শশার কেজি ৮০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৭ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২২ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে। গেলো সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে দুই সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২৫ টাকা এবং আর সোনালি মুরগি ৮০ টাকা পর্যন্ত কমলো।

সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কমলেও ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। এমনকি সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম বাড়ার ঘটনা ঘটেছে। সব থেকে বেশি বেড়েছে শশার দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে শশার দাম বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ফুলকপি ও শিম।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি গেলো এক সপ্তাহে কমেছে সোনালি ও লাল লেয়ার মুরগি দাম। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা। গত সপ্তাহে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া লাল লেয়ার মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা বিক্রি করেছি। সরবরাহ কম থাকায় এমন দাম বেড়েছিল। তবে এখন মুরগির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তাই দাম কমেছে। আমাদের ধারণা সামনে মুরগির দাম আরও কমবে।

রামপুরা বাজারে মুরগি কিনতে আসা মহিউদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা কেজি কিনেছিলাম। আজ ২৬০ টাকা নিয়েছে। আমার মতে মুরগির দাম আরও কমা উচিত। দেখেন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আমি মনে করি ব্রয়লার মুরগির কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে থাকলে সেটা স্বাভাবিক। এর থেকে বেশি হওয়া উচিত না।


সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা শশার কেজি বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গত সপ্তাহে শশার কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে শশার দাম বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে।

শশার দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, শশার বাজারে আগুন লেগেছে। আড়তে শশার দাম শুনে প্রথমে আমরাই অবাক হয়েছি। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি দামে শশা কিনে এনেছি। বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই বাজারে শশার সরবরাহ কমে গেছে। আজ বাজারে শশা অনেক কম এসেছে। এ কারণে এমন দাম বেড়েছে। তবে আমাদের ধারণা শশার এই দাম বেশি দিন থাকবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই শশার দাম কমে যাবে।

শশার পাশাপাশি গেলো এক সপ্তাহে বেড়েছে ফুলকপির দাম। গত সপ্তাহে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপির দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে বেড়েছে শিমের দাম। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পাকা টমেটো, গাজর, মুলা, শালগমের। গত সপ্তাহের মতো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শালগমের (ওল কপি) কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এছাড়া বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাক বিক্রি হচ্ছে। আর পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এগুলোর দামও সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভরা মৌসুমেও শীতের সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে মালিবাগের ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে ফুলকপির দাম লম্ফঝম্প করছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সামনে আরও দাম বাড়বে। আর ফুলকপির দাম বাড়লে অন্য সবজির দামও বাড়তে পারে।

বাজারটিতে সবজি কিনতে আসা হারুন অর রশিদ বলেন, এখন শীতের সবজির ভরা মৌসুম। স্বাভাবিক ভাবেই এখন সবজির দাম কম হওয়ায় কথা। কিন্তু দেখেন সবজির দামে যেন আগুন লেগেছে। ৩০ টাকার শশা ৮০ টাকা হয়েছে। ৩০ টাকার ফুলকপি ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এটা কীভাবে স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে। আসলে বাজারে কারও কোনো নজরদারি নেই। যে কারণে হুটহাট করে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।

মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং ও টাকি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।

এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। ছোট ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। নলামাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।