ঢাকা, শনিবার ১৩, জুলাই ২০২৪ ৯:০২:২৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
কোটা আন্দোলনকারীদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ আজ সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি লাখো মানুষ নেপালের সড়কে ভূমিধস, দুই বাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ ৬৩ চট্টগ্রামে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নারী-শিশুর মৃত্যু ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা শুরু ভোর থেকে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

কৈশরবান্ধব স্কুল ও নারীবান্ধব হাসপাতাল গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫১ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কৈশরবান্ধব স্কুল ও নারীবান্ধব হাসপাতাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, আমাদের সমাজের প্রচলিত টাবু ও কুসংস্কার প্রথা ভেঙে নারী ও কিশোরীদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সিলেবাসে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


সচেতনতা বাড়াতে সরকার, রাজনীতিবিদ, সিভিল সোসাইটি, শিক্ষকসমাজ এবং পরিবারকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে কমিনিটি ক্লিনিকসহ সারাদেশের সকল হাসপাতাল নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সোমবার সকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিস) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী 'জাতীয় এসআরএইচআর কনফারেন্স ও যুব সম্মেলন-২৩' এর প্রথমদিনে এ আহ্বান জানান বক্তারা।


যুব ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিশ্চিত হোক যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার এই স্লোগান পালিত সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের চেয়ারপার্সন শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী। সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপিএস নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিবিএইসসি ট্রাস্ট ও বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। বিএনপিএস ডেপুটি ডিরেক্টর শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ফাস্ট সেক্রেটারী ও টিম লিডার ইনক্লুসিভ গভানেন্স এনজিকো লরেনজো, নেদারল্যান্ডস এম্বেসীর পলিসি এডভাইজার, সোস্যাল সেক্টর মুশফিকা জামান সাতিয়ার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেএমকেএস এর নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা, সিমাভি বাংলাদেশের এমএন্ডই অফিসার তুহীন সরকার।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ার লাইফ আওয়ার হেলথ প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ হাজার ছেলে-মেয়েদের কাছে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতন ও তাদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। তাদের মধ্যে ৩০০ ক্লাব গড়ে কানেকটিভিটি আরও বাড়ানো হয়েছে। আগামীতে সরকার ও সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা পেলে সারাদেশে নারীদের মাঝে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বৃহৎ আকারে পৌঁছে দিতে পারব।


প্রধান অতিথির বক্তব্য সৈয়দ মোছাচ্ছের আলী বলেন, সমাজের মুলধারা থেকে যারা বাইরে রয়েছে বিশেষ করে নারী সমাজকে হাতে হাত রেখে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারন নারী সমাজকে পেছনে রেখে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। তাই জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, স্কুলে সবচেয়ে বেশি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য প্রজনন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া দরকার। কিন্তু স্কুলে এসব বিষয়ে পাঠদান করাতে চায় না শিক্ষকরা। আমাদের সমাজ ও পরিবারের মাঝে একটা টাবু আছে তারাও মেয়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মোটেও আলোচনা করতে আগ্রহী না। এটাও একটা ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু হাত মেলালে হবে হার্ট দিয়ে একত্রে কাজ করলেই আসবে সফলতা। এখন আমাদের দায়িত্ব হবে নারীদের যৌন ও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনে কমিনিটি ক্লিনিক নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করারও অঙ্গীকার দেন মোচ্ছাদের আলী।


অনুষ্ঠানে রোকেয়া কবীর বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা একটি প্রকল্প মিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া লক্ষ্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মুশফিকা জামান সতিয়ার বলেন, বর্তমানে দেশে নারীদের সংখ্যা ৫১ শতাংশ। তাই আমাদের সিভিল সোসাইটি, সরকার ও সুশীল সমাজ ও সহযোগী ডোনার রাষ্ট্রগুলো সবাই যদি একত্রে কাজ করলে নারীরা আরও রাষ্ট্রের উন্নয়নশীল কাজে সহায়ক ভুমিকা হিসেবে গড়ে উঠবে। এবং ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখবে।

শ্যামলী নাসরিন বলেন, নারীরা ৩০-৪০ আগে যেসব কথা বলতে পারত না এখন তারা তাদের স্বাস্থ্যসেবার মুখফুটে কথা বলতে পারছে। আজকের নারীরা আলোর করে সামনে দিকে এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা করি।