ঢাকা, রবিবার ০৮, মার্চ ২০২৬ ০:৪২:২৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা জরুরি: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দশম দিনের বইমেলা: ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের ভিড় ‘গণতন্ত্রের অদম্য নারী’ সম্মান পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত অনেকেই

খিলগাঁওয়ে ইফতার বাজারে ক্রেতার ভিড়

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:০৬ পিএম, ৩ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজধানীর ইফতার বাজার। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই বাড়ছে ক্রেতার চাপ। ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে স্থায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁ—সবখানেই ইফতার সামগ্রী কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৪টার পর থেকেই খিলগাঁও তালতলা মোড়, ত্রিমোহনী ও আশপাশের সড়কে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসেছে। দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে বেগুনি, আলুর চপ, পেঁয়াজু, ডিমচপ, চিকেন রোল, সমুচা, হালিম, ছোলা-মুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের শরবত। রঙিন আলোর সাজ আর ভাজা খাবারের ঘ্রাণে পুরো এলাকা যেন ইফতারের আগেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

ক্রেতাদের ব্যস্ততা: ইফতারের আগে সময় কম থাকায় অনেকেই অফিস বা কর্মস্থল থেকে ফিরেই বাজারে ঢুঁ মারছেন। এক ক্রেতা বলেন,
“সারাদিন অফিস করে বাসায় গিয়ে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই এখান থেকেই ইফতার কিনে নেই। দাম একটু বেশি হলেও সময় বাঁচে।”

আরেক গৃহিণী জানান, “বাচ্চারা পেঁয়াজু আর বেগুনি খুব পছন্দ করে। তাই প্রতিদিনই কিছু না কিছু কিনতে হয়। তবে দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।”

বিক্রেতাদের কথা: বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরু থেকেই বিক্রি ভালো। বিশেষ করে শুক্র ও ছুটির দিনে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। এক ভাজাপোড়া বিক্রেতা বলেন, “বিকেল থেকে মাগরিব পর্যন্ত আমাদের দম ফেলার সময় থাকে না। বেচাকেনা ভালো হলেও তেলের দাম আর সবজির দাম বাড়ায় লাভ কমে গেছে।”

হালিম বিক্রেতারা জানান, সন্ধ্যার আগেই অনেক সময় হাঁড়ি খালি হয়ে যায়। কেউ কেউ আগাম অর্ডারও নিচ্ছেন।

দাম ও মান নিয়ে প্রশ: বাজারে ইফতার সামগ্রীর দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। দোকানভেদে বেগুনি-পেঁয়াজুর দাম নির্ধারিত হচ্ছে পিস হিসেবে। শরবত ও হালিমের ক্ষেত্রেও দামে ভিন্নতা রয়েছে।
কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও একই পণ্যের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। আবার স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা: অনেক দোকানে খোলা জায়গায় খাবার রাখা হচ্ছে, যা ধুলাবালি ও দূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে একজন পথচারী বলেন, “ইফতার তো সারা দিন রোজা রাখার পর খাওয়া হয়। তাই খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

প্রশাসনের তৎপরতা: স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে তদারকির কথা জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রির বিষয়ে বিক্রেতাদের সতর্ক করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

জমজমাট হলেও শৃঙ্খলার অভাব: অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিকেলের দিকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্দিষ্ট জায়গায় বাজার বসালে এই ভোগান্তি কমানো সম্ভব।

রমজানের আমেজ: সব মিলিয়ে খিলগাঁওয়ের ইফতার বাজারে এখন রমজানের পূর্ণ আমেজ। ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল, ভাজা খাবারের গন্ধ আর আজানের অপেক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে সন্ধ্যার আগে এলাকাটি যেন এক আলাদা রূপ নেয়।