ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ ২৩:৩০:৫২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ চেকিয়া বনাম দ. আফ্রিকার খেলা সামলাচ্ছেন নারী রেফারি টোরি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু গৃহপরিচারিকা মিলন দাস নির্যাতন: এএসআই ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৮৬৩৯ বাংলাদেশি, মৃত্যু ৫২ দেশের নানা অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

গৃহপরিচারিকা মিলন দাস নির্যাতন: এএসআই ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:০৩ পিএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

গৃহপরিচারিকা মিলন দাস নির্যাতন: এএসআই ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

গৃহপরিচারিকা মিলন দাস নির্যাতন: এএসআই ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

খুলনায় গৃহপরিচারিকা মিলন দাসের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তার মা মিনতি রানী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় কুমার সরকার এবং তার স্ত্রী পপি রানী সাহাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর বৃহস্পতিবার তাদের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার স্ত্রী পপি রানী সাহাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী মিলনের মা মিনতি রানী সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে রান্নার সময় তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী মিলন দাসকে মারধর করেন পপি রানী সাহা। শুধু মারধরই নয়, তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার মিলনের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন দাস প্রায় পাঁচ বছর ধরে এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকারের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিলেন। বুধবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, রাতেই মিলনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তার মা খুলনায় এসে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত দম্পতিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি দেখে মিলনের মা খুলনায় আসার উদ্যোগ নেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী গৃহকর্মীর পরিচয় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

এদিকে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত দু’জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মিলন দাস ও তার পরিবারকে আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে।ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।