ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২, এপ্রিল ২০২১ ২:২০:১৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের মাদক কমিশনের সদস্য নির্বাচিত লকডাউনে দরিদ্রদের জন্য সাড়ে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রীর করোনায় মারা গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ ‘‌লকডাউন ধনীবান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয়’ খালেদা জিয়ার শরীরে ব্যথা নেই, ২-৩ দিন পর ফের পরীক্ষা

জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনা ৯২ নারীসহ নিহত ৪৮৪

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:১৪ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত এক মাসে (জানুয়ারি) সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪২৭টি। এতে মারা গেছেন ৪৮৪ জন। নিহতের মধ্যে ৯২ জন নারী ও ৪৭ জন শিশু রয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৭৩ জন।

শনিবার বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬৮ জন, যা মোট নিহতের ৩৪.৭১ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭.২৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৪৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৩০.১৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১০.৯৫ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত, চারজন আহত এবং ছয়জন নিখোঁজ হয়েছেন। ১১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া লোকজনের মধ্যে বাসের যাত্রী ৩১, ট্রাক যাত্রী ১৪, পিকআপ যাত্রী ৪, ট্রলি যাত্রী ১, ট্রাক্টর যাত্রী ৩, মাইক্রোবাস যাত্রী ২, প্রাইভেটকার যাত্রী ৭, অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী ২, জিপ যাত্রী ৭, সিএনজি যাত্রী ১১, ইজিবাইক-অটোরিকশা-মিশুক-লেগুনা-টেম্পু যাত্রী-৫৫, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-বোরাক যাত্রী ২১, টমটম ৪, বাই-সাইকেল ৬, মাটিকাটার ভেকু মেশিন গাড়ি ১ এবং হ্যালোবাইক আরোহী রয়েছেন একজন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৩টি (৩৫.৮৩%) জাতীয় মহাসড়কে, ১০৭টি (২৫.০৫%) আঞ্চলিক সড়কে, ৯৭টি (২২.৭১%) গ্রামীণ সড়কে, ৫৯টি (১৩.৮১%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ১১টি (২.৫৭%) সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের ৮৮টি (২০.৬০%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩৯টি (৩২.৫৫%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৪৪টি (৩৩.৭২%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৪৭টি (১১%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৯টি (২.১০%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২৪.৭৫ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৩.৬৫ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৩.২৩ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১১.৬৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৩.০৬ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-লেগুনা-মিশুক) ২০.৮১ শতাংশ, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-বোরাক-টমটম ৮.২৯ শতাংশ, রিকশা-রিকশাভ্যান, বাই-সাইকেল ২.৮১ শতাংশ এবং অন্যান্য (পুলিশের পিকআপ, কোস্ট গার্ডের ট্রাক, হ্যান্ড ট্রলি, হ্যালোবাইক, মিকচার মেশিন, মাটি কাটার ভেকু মেশিন) ১.৬৮ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭১১টি। (ট্রাক ১১৯, বাস ৮৩, কাভার্ডভ্যান ২১, পিকআপ ৩৬, লরি ৫, ট্রলি ১৩, ট্রাক্টর ৮, মাইক্রোবাস ৭, প্রাইভেটকার ৯, অ্যাম্বুলেন্স ৪, জিপ ৩, পুলিশের পিকআপ ৩, কোস্ট গার্ডের ট্রাক ১, ডিসিসি’র ময়লাবাহী ট্রাক ১, হ্যান্ড ট্রলি ২, হ্যালোবাইক ৩, মিকচার মেশিন ১, মাটিকাটার ভেকু মেশিন গাড়ি ১, টমটম ৬, মোটরসাইকেল ১৬৪, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-বোরাক ৫৩, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-লেগুনা-মিশুক ১৪৮, বাই-সাইকেল ৯ এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১১টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ২.১০%, সকালে ৩২.৩১%, দুপুরে ১৯.২০%, বিকালে ২২%, সন্ধ্যায় ৯.৬০% এবং রাতে ১৪.৭৫%।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২৮ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৩১টি দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত। সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায়। ২টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে যেসব বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকদের বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা রাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করা, পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার করে সড়ক পথের উপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

-জেডসি