ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৯:৪৯:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

তেলাপোকা! তেলাপোকা!

আপডেট: ০৯:০৫ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৩ সোমবার

111111111আনিস রহমান তেলাপোকা লাগবে৷ গোটা গোটা তেলাপোকা৷ একটা না৷ দুটো না৷ এক্কেবারে দু'ডজন তেলাপোকা৷ ঝকঝকে৷ চকচকে৷ ডানা-ঝাপটায়৷ যখন-তখন উল্টায়৷ গোঁফ আছে৷ পেল্লায় গোঁফ৷ সে গোঁফ নড়েচড়ে৷ তা দেয়৷ গোঁফ দিয়ে ভয় দেখায়৷ গোঁফ দেখে ভয় পায় এমন তেলাপোকা! তো সেই তেলাপোকার জন্যে তামাম বাড়ি কাঁপিয়ে তুলছে লাথিম আর নাফিম৷ জমজ দু'ভাই ওরা৷ ক'দিনের জন্য বেড়াতে এসেছে নানুর বাসায়৷ এসেই তেলাপোকা শিকারের ডিউটি পেয়েছে ওরা৷ বিন্তি খালার কলেজে কাঁটাছেঁড়া করতে হবে৷ ক্লোরোফরম দিয়ে অজ্ঞান করে তেলাপোকার বুক-পেট-মুখ চিরেচিরে দেখাতে হবে৷ কোনটা পিত্ত, কোনটা পাকস্থলি, কোনটা হৃদপিণ্ড, কোনটা বৃহদন্ত্র, কোনটা মুখগহ্বর, কোনটা দাঁত, কোনটা জিভ সব অক্ষরে অক্ষরে বুঝিয়ে দিতে হবে স্যারকে৷ তা না হলে নির্ঘাত্‍ ফেল বিন্তি খালা৷ প্রাণিবিজ্ঞান নিয়ে বিন্তির এমনিতেই মনের টানাপড়েনের শেষ নেই৷ কখনো প্রাণিবিজ্ঞান পড়বে, কখনো পড়বে না৷ কখনো পড়লে চতুর্থ বিষয় হিসেবে নেবে না-কি মূল বিষয়, এমনি টানাহেঁচড়া নানা পীড়াপীড়ির পর বিন্তি ঠিক করল ইঞ্জিনিয়ার হতে না পারলেও ডাক্তার তো হতে হবে৷ আর ডাক্তার হতে গেলে প্রাণিবিদ্যা ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ সেই প্রাণিবিদ্যার ব্যবহারিক ক্লাস দুদিন বাদেই৷ সেখানে কাটা হবে তেলাপোকা৷ স্যার বলেছে, প্রত্যেকেই পাঁচ-ছটি করে ঢাউস সাইজের তেলাপোকা নিয়ে ক্লাসে আসবে৷ যার তেলাপোকা নেই, তার নম্বরও নেই৷ আর নম্বর নেই মানে পরীক্ষায় ফেল৷ মশকারি করার মতো না বিষয়টি৷ রাতের ঘুম, রাতের আরাম হারাম হবার জোগাড় বিন্তির৷ সে সঙ্গে তার বন্ধুদের৷ ক্ষণে রিমি ফোন করছে৷ ওকে রাখতেই বৃষ্টি৷ বৃষ্টিকে ছেড়ে মৌরি৷ মৌরিকে রেখে পিয়াসি৷ এমনি করে গোলকধাঁধার মতো ফোনের ধাঁধা চলছে৷ কথা একটাই, পেয়েছিস বিন্তি? তেলাপোকার জোগাড় হলো? -এখনো হয়নি৷ তোর কী খবর? -লোক লাগিয়েছি৷ খবর পেলেই জানাবো৷ -আমার জন্য যা পারিস জোগাড় করিস৷ -তুইও আমার কথা ভুলিস না৷ -আমরা যে যা পারি জোগাড় করবো, প্রমিস? প্রমিস দিয়ে কী হবে, তেলাপোকার টিকিটিও চোখে পড়ছে না কারও৷ ভারি বিদঘুটে অবস্থা! হালের ফ্ল্যাট বাড়ি ওদের সবার৷ ঝকঝকে তকতকে কিচেন৷ মোজাইক-টাইলস আর চোখকাড়া ফিটিংসে তাক লাগার জোগাড়৷ তারওপর যখন-তখন ওষুধ ছিঁটানো হচ্ছে৷ সেখানে তেলাপোকা থাকে কি করে৷ তেলাপোকা তো তেলাপোকা! ছোট্ট ছারপোকারও জীবনের মায়া আছে৷ তাই একে একে পিছুটান দিয়ে তেলাপোকাগুলো কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে৷ কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে ছাত্রীর শরীর না গেলেও তেলাপোকা যেতে হবে, স্যারের সাফ কথা৷ এখন তেলাপোকা কোত্থেকে মেলে? একটি-দুটি হলে না হয় দেখা যেত৷ কিন্তু ছটি তেলাপোকা! ছটি কেন? সে কথাও বাতলে দিয়েছেন স্যার, তোমরা সবে নতুন৷ এখনো ছুরি-কাঁচির ওপর দখল আসেনি৷ তাই একটা কাটতে গিয়ে আনাম তেলাপোকাটাই কেটে ফেলবে না, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই পরিপাকতন্ত্র দেখাতে গিয়ে যদি পুরো তেলাপোকাই পাক হয়ে যায়, তখন বৃহদন্ত্র দেখাতে আরেকটা তেলাপোকা লাগবে৷ আবার বৃহদন্ত্র দেখাতে যদি গোটা অন্ত্রটাই গায়েব হয়ে যায় তখন মুখগহ্বর দেখাতে লাগবে আরেকটা৷ এভাবে কমপক্ষে ছয়টি৷ পারলে দশটি৷ সেই থেকে তেলাপোকা জোগাড়ে লেগে গেছে বিন্তি ও তার বন্ধুরা৷ কিন্তু ঝকঝকে বাড়ির তকতকে দেয়াল মেঝের চৌহদ্দিতে কোথাও তেলাপোকা নেই৷ এ নিয়ে যখন বিন্তির ভাবনার শেষ নেই তখনই ঠিক এসে হাজির লাথিম আর নাফিম৷ ওরা এখন এক্কেবারে হাত-পা ঝাড়া৷ ফুরফুরে সময় ওদের৷ ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষা শেষ করেছে৷ এখন কদিনের ছুটি৷ সুতরাং ত্রাতার ভূমিকায় নেমে পড়েছে ওরা দুভাই৷ ছোট খালামণির বিপদ৷ মহাবিপদ! রীতিমতো চুলটানার অবস্থা৷ টানার কী ছেঁড়ার অবস্থা! খালা এরই মধ্যে নির্ঘাত্‍ চুল টেনে ছিঁড়েছে৷ খালামণির মাথার চুলে বাড়ি সয়লাব৷ তখন ওরা চোখ-কান-মুখ বন্ধ রেখে সময় কাটায় কী করে৷ শত হলেও ছোট খালামণি৷ সময়ে সময়ে টফিটা, চকলেটটা খাওয়ায় ওদের৷ এবারও কথা দিয়েছে তেলাপোকা ধরে দিতে পারলে সারপ্রাইজ দেবে খালা৷ কিন্তু সারপ্রাইজ তো পরে, আগে তেলাপোকা তো পেতে হবে৷ অথচ তেলাপোকার কোনো পাত্তা নেই৷ এঘর-ওঘর, বারান্দা, করিডোর, শোয়ার ঘর, কিচেন, বাথরুমে ছুটে বেড়াচ্ছে ছেলে দুটো৷ মাঝে-সাঝে হই হই করে চেঁচিয়ে উঠছে ওরা৷ পেয়েছি! পেয়েছি! সবাই ছুটে গিয়ে দেখে তেলাপোকা নয়, তেলাপোকার টুকরো৷ মানে বাচ্চা তেলাপোকা৷ পিঁপড়ের সাইজ! এমনি করে কদিন ধরে বাড়ি মাতিয়ে রেখেছে নাফিম আর লাথিম৷ খাবার নেই৷ স্নান নেই৷ বিশ্রাম নেই৷ ঘুম নেই৷ তেলাপোকার নেশায় বুঁদ হয়ে আছে ওরা৷ চিমটা, বোতল, আরও সব যন্ত্রপাতি জোগাড়-যন্তরের শেষ নেই৷ কিন্তু ফলাফল শূন্য৷ এদিকে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে৷ ঠিক এমনি সময়ে কথাটি পাড়লো বিন্তি৷ খেতে খেতে বলল, মা আমি কী কুলক্ষণেই না এমন কথা বললাম৷ -কী বললি! মায়ের চোখে বিস্ময়! -আমি সবাইকে বলেছি নাথিম-নাফিম লেগে পড়েছে এখন আর চিন্তা নেই৷ একথা শুনে সবাই হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে৷ ওরা বলে কি-না বাচ্চা মানুষ ওদের আগ্রহ আছে৷ খেলার ছলে ধরে ধরে ওরা ঠিকই দু'ডজন তেলাপোকা ম্যানেজ করে ছাড়বে৷ তখন ভাগে-যোগে আমরা না-হয় নিয়ে নেব৷ তা না হলে ছটা তেলাপোকা জোগাড় করলেই তো ধেই ধেই করে নাচা যেত৷

তো সেই তেলাপোকা ধরতে গিয়ে খাওয়া নেই৷ নাওয়া নেই৷ এমনকি খেলাধুলা পর্যন্ত নেই৷ ছেলে দুটোকে এখন আর গেম টানে না৷ টিভি টানে না৷ শুধু তেলাপোকার টানে ওরা বাড়িময় ছুটে বেড়াচ্ছে দিনভর৷ রাতভর৷ নানু ক্ষেপে গিয়ে বলে, -ছেলেদুটো এসেছে বেড়াতে কদিনের জন্যে৷ আর তুই ওদের খাটিয়ে মারছিস৷ তোর কি বিচার-বিবেচনা বোধ বলে কিছুই নেইরে বিন্তি! -মা, তুমি এ নিয়ে মাথা ঘামিও না তো৷ তুমি যাকে কষ্ট ভাবছো, তাতেই ওদের আনন্দ হয়! -অন্য সময় হলে গেম রেখে টিভি, না হয় টিভি রেখে গেম৷ এর ন'ছ হবার সুযোগ হত না৷ সেখানে এখন তেলাপোকার জন্য ছেলেদুটোর জান পয়মাল হবার জোগাড়৷ কদিনেই ওদের মুখ শুকিয়ে কেমন আমসি লেগে গেছে৷ ওরা বাবা মা দেখলে কি ভাববে৷ বলবে নানুর বাসায় এসে অনাদর আর অবহেলায় নির্ঘাত্‍ ছেলেদুটো এমন শুকিয়ে কাঠ হয়েছে! -আজকালকার ছেলেমেয়েরা যেখানে খেলার সুযোগ না পেয়ে ফার্মের মুরগির মতো বড় হচ্ছে তখন এটা ওদের জন্য কত বড় আনন্দের ব্যাপার তা কি ভেবেছ? তুমি হাম হুম করলেও ওরা ঠিকই এনজয় করছে৷ -তুই রাখ তো বিন্তি৷ তোর কথাবার্তা একদম ভালো লাগছে না! বিন্তি কী যেন বলতে যাচ্ছিল তখনই হই হই শব্দে বাড়ি প্রকম্পিত৷ দুভায়ের উচ্চকিত কন্ঠ৷ সবাই দুদ্দাড় করে ছুটে গেল ওদিকে৷ কী হল কী হল বলে চারদিক থেকে ছুটে এল বাড়ির লোকজন! কী মনে করে 'জুতোর বঙ্'ে গুতোগুতি করছিল দুভাই মিলে৷ যদি কোনো তেলাপোকা মেলে৷ যেই ভাবা সেই কাজ৷ হঠাত্‍ একটা তেলাপোকা বের হয়েই দৌড়৷ দৌড়োতে-দৌড়োতে হঠাত্‍ যায় উল্টে৷ উল্টে গিয়ে হাত-পা নাড়াচ্ছিল সপ্রিংয়ের মতো৷ ওটাকে হাত দিয়ে সোজা করছিল লাথিম৷ তখনই কুটুস করে কামড়ে দেয় ওর হাতে৷ এ নিয়ে আরেক দফা হইচই বাড়ি জুড়ে৷ এমনি করে রাত বাড়ে৷ দুভায়ের চোখে-মুখে ক্লান্তি নেমে আসে৷ ওদের কন্ঠ নীরব হয়৷ ফের সকাল থেকে শুরু হয় ধুমধাম! হইচই! এর মধ্যে রাত্রি ফোন করেছে৷ শেষে বৃষ্টি৷ বিন্তিও হালচাল জানিয়ে ফোন দেয় স্বপ্নাকে৷ তারপরই আসে বড়দির ফোন৷ ঝাল ঝাড়লো বেশ খানিকটা বিন্তির ওপর৷ -ছেলেদুটোকে রোদের মধ্যে এমনই করে খাটাচ্ছিস শেষে কী হবে জানিস! স্কুল খুললেই সিটি (ক্লাস টেস্ট), তখন ওদের নিয়ে বাঁদরামি না করলে কি হত না? ওদের নিয়ে ওসব তামাশা বন্ধ কর৷ না হলে আমি আমার ছেলেদের ঠিকই এসে নিয়ে যাব! বিন্তি আর কথা বাড়ালো না৷ ওদিক থেকে রিসিভার রাখার শব্দ হতেই বিন্তিও নিঃশব্দে রিসিভার রেখে দিল৷ বড়দির আচরণে মুডটা একেবারেই অফ হয়ে গেল বিন্তির৷ এমনিতে বৃষ্টির ফোনে চারদিকে যেন মেঘ দেখল বিন্তি৷ বৃষ্টি জানালো, কোনো সুসংবাদ নেই কোথাও৷ বিন্তির অপেক্ষায় থেকে থেকে এখন সবাই সরব হয়েছে৷ বিন্তি যেখানে ওরটাই জোগাড় করতে পারছে তখন আবার আমাদের! সুতরাং যে যার মতো চেষ্টা শুরু করেছে এবার৷ যেন মরা গাঙে বান এসেছে৷ হইহই রইরই ব্যাপার সবার বাড়িতে৷ মৌরি জানালো ওর বাড়ির দারোয়ান কেয়ারটেকার, ড্রাইভার কেউ বাকি নেই! সবাই যার যার মতো লড়ে যাচ্ছে৷ বিন্তির কাছে কী চাইবে৷ উল্টো বিন্তিকেই ওরা সান্ত্বনা দিচ্ছে, ভাবিস না৷ এতগুলো জোয়ানমদ্দ লোক যখন লেগেছে তখন এস্পার কি ওস্পার! একটা কিছু হবেই! একইরকম খবর পেতে থাকে অন্যদের ফোন থেকেও৷ সবার বাড়ির লোকজন গায়ে তেল মেখে লেগেছে৷ তেলের গন্ধে যদি তেলাপোকা দেখা দেয়৷ আর একবার দেখা দিলে ধরা দিতে কতক্ষণ৷ ঠিকই পাকড়াও করে ছাড়বে৷ এতসব আশার কথার মধ্যেও মন থেকে মেঘ কাটে না বিন্তির৷ বিশেষ করে বড়দির রুখু আচরণ ওকে একটুও স্বস্তি দিচ্ছে না আর! না করবে তারও সাহসে কুলোচ্ছে না৷ খেলাচ্ছলেই শেষে যদি ছেলে দুটো তেলাপোকা পেয়ে বসে! তখন কতবড় বাঁচোয়া! নিজেকে একটু স্বার্থপর মনে হলেও এর বেশি কিছু আর ভাবতে পারছে না বিন্তি৷ তখনই ফের হইচই৷ অনেকগুলো কন্ঠ চিলি্লয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছে৷ এঘর-ওঘর করেও বিন্তি শব্দের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছে না৷ আসলে ঘরে নয়৷ শব্দ আসছে বাইরে থেকে৷ কিন্তু উত্‍সটা কোথায় ঠিক বোঝা যাচ্ছে না৷ হঠাত্‍ সিঁড়িতে ধুপধাপ শব্দ! দরজা খুলে দেখে ওপরে যাচ্ছে অনেকেই! কেউ আবার নামছে ওপর থেকে! তেলাপোকার নাকি খোঁজ মিলেছে! বিন্তির তখন হুঁশ হারাবার জোগাড়৷ এক নিঃশ্বাসে ছাদে গিয়ে দেখে নাফিম আর নাফিমকে ঘিরে অনেকেই৷ ছাদের ওপরে একটা কমু্যনিটি হল আছে৷ তার পাশেই রান্নার ব্যবস্থা৷ জন্মদিন কিংবা ছোটখাট অনুষ্ঠান হলে এখানেই আয়োজন করে অ্যাপার্টমেন্টের লোকজন৷ সেখানেই কদিন আগে এক অনুষ্ঠান ছিল ৫/এ ফ্ল্যাটের৷ বাবুর্চির ফেলে দেয়া ঝাঁকাটা ধরে টান দিতেই কয়েকটি তেলাপোকা ঝুপঝাপ লাফিয়ে পড়ে এদিক ওদকি ছুটোছুটি শুরু করে দিল৷ হাতের আঙুলের এক কড় থেকে দুকড় সমান সাইজ ওদের৷ তার মধ্যে একটা একটু বড়৷ আশা-ভরসা যা একটু ছিল ওটাকে নিয়ে সেটারও আবার ঘটেছে এক বিপত্তি৷ বড় বলে জোর ছিল গায়ে৷ তাই তেড়েমেরে দৌড়৷ কোনোভাবেই বাগে আনতে না পেরে ঝাড়ু মেরে সারা! ওতে একটা ডানা ভেঙে গেছে৷ পা খসে গেছে একটা৷ জেলির বয়ামে পা হারানো তেলপোকাটা তিরতির করে কাঁপছে৷ আরেকটা বয়ামে পাঁচ-ছটা খুদিখুদি তেলাপোকা৷ বয়ামের দেয়াল বেয়ে ওপর নিচ করছে৷ অস্থির ওরা৷ নুলো তেলাপোকার দিকে তাকিয়ে মুহূর্তে মুষড়ে পড়ে বিন্তি৷ চোখ ফেটে জল আসবে যেন৷ তখনই সুমাইয়াকে ফোন দেয় বিন্তি৷ আদ্যোপান্ত সব শুনে সুমাইয়া বলে তাতেই হবে৷ নুলা হোক, ডানা ভাঙা হোক কাজ চলবে৷ মণ্ডল স্যার বলেছে খেয়াল নেই! ওর কথায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচে বিন্তি৷ তাই মন খচখচ করলেও শেষ রক্ষে হয়েছে ভেবে একরকম স্বস্তিতে যখন চোখ বুজে আসছিল ওর, তখনই সিলমির ফোন৷ ওদের বাড়ির পাশেই একটা মুদি দোকান আছে৷ দারোয়ান সে দোকানের আলুর বস্তা ঘেটে তেলাপোকা পেয়েছে৷ একেবারে মাপমতো৷ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে৷ এরপর রাইসার ফোন৷ ওদের বুয়া গ্যারেজ পরিষ্কার করার সময় ভাঙা ফুলের টব ফেলতে যাচ্ছিল৷ মানিক রতনের মতো সেই ভাঙা ফুলের টবে মিলে গেছে এক জবরদস্ত সাইজের তেলাপোকা৷ ঝকঝকে৷ মনে হবে এই মাত্র বার্নিশ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷ হঠাত্‍ সবার তেলাপোকা পাবার খবর শুনে বিন্তির মনে হল আকাশ থেকে যেন লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ছে তেলাপোকাগুলো৷ অথচ ওর বেলায় কেবল একটা নুলোর বরাদ্দ৷ এমনি যখন বেজার মন ওর তখনই সুমাইয়ার ফোন৷ রীতিমতো হাঁপাচ্ছে ও৷ কথা বেধে বেধে যাচ্ছিল বারবার৷ কিরে সুমাইয়া ভয় পেয়েছিস কোনো! এর বেশকিছুক্ষণ পর কথা ফুটলো সুমাইয়ার কন্ঠে৷ জানিস বাগান ঘরে একসঙ্গে অনেকগুলো তেলাপোকা মিলেছে৷ ওদের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে টানা লন৷ তাতে অনেক ফুলের গাছ৷ বাগানের যাবতীয় আসবাব রাখার জন্যে নিচে একটা স্টোর রুম আছে৷ ওরা বলে বাথান ঘর৷ মালির কথা মতো ওঘরে হামলা দিতেই দেখি দশ-বারোটি তেলাপোকা৷ কোনটা রাখি কোনটা ফেলি মাথা খারাপ হবার জোগাড়৷ একেবারে চকচকে ঝকঝকে৷ যেমনটি বলেছিল স্যার৷ তুই এখন তোর খুদি তেলাপোকা আর নুলো তেলাপোকাটা ছেড়ে দে৷ আমার অনেক আছে৷ দুজনের দিব্যি হয়ে যাবে৷ অনাবিল হাসিতে ভরে যায় বিন্তির মুখ৷ খবর পেয়ে নাফিম-নাথিম ছুটে আসে৷ ওদের দুজনের হাতে দুটো প্লাস্টিকের হকিস্টিক৷ হাতে হকিস্টিক দেখে বিন্তির কন্ঠে বিস্ময়! বিস্ময় ওর দুচোখে৷ -কিরে হকিস্টিক পেলি কোথায়! ওরা দুজন হকিস্টিক দুটো শূন্যে তুলে নাচাতে নাচাতে বলে, নানু কিনে দিয়েছে৷ বলেছে শুধু তেলাপোকার পথ আটকে দাঁড়াবি, কিন্তু মারবি না! ওদের কথা শুনে বড্ড হাসি পায় বিন্তির৷ সে হাসি ছড়িয়ে পড়ে ওদের চোখে-মুখে৷