ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ২০:১৫:৪৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

নারীদের আত্নহত্যা বাড়ছে

আপডেট: ০৮:৩১ এএম, ৫ নভেম্বর ২০১৪ বুধবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : সংসার ও সন্তান ফেলে রেখে আরেক নারীর সঙ্গে স্বামী চলে যাওয়ায় ক্ষোভ ও অভিমানে দুই সন্তানসহ আত্নহত্যা করেন এক স্ত্রী। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় যখন কোন সমাধান জুটছিলো না তখন গায়ে কোরোসিন ঢেলে দুই সন্তানসহ আত্নহত্যার চেষ্টা চালায় আরেক গৃহবধু। মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মাসহ দুই সন্তান। সম্প্রতি একই ধরণের একটি ঘটনায় বনানী এলাকায় রেলগাড়ির নিচে শিশু সন্তানসহ ঝাপিয়ে পড়ে আত্নহত্যার চেষ্টা চালায় আরেক গৃহবধু। পরের দিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। গত তিন মাসে দেশে ঘটেছে এধরনের বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা। শুধু রাজধানী নয় এমন ঘটনা রাজধানীর বাইরেও ঘটে চলেছে। সম্প্রতি দেশে সন্তানসহ নারীদের আত্নহননের ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কেন ঘটছে এমন আত্নহত্যা ও হত্যার মতো ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে এবং সমাজে কারো কাছে আশ্রয় না পেয়ে আত্নহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে অসহায় নারীরা। তারা বলছেন, দাম্পত্ত জীবনে পারস্পরিক সম্পর্কের আস্থাহীনতা ও বিশ্বাসহীনতার কারণে এধরণের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে বহুগামীতা, পরকিয়া প্রেম ও অস্থির মনোষ্কতা এই অবস্থার জন্য দায়ি বলে মনে করছেন মনো-সমাজ বিজ্ঞানীরা। পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়া এবং হতাশার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পারিবারিক নানা জটিলতা তৈরি হলেও সমাজে কারো কাছে আশ্রয় না পেয়েই নারীরা আত্নহননের পথ বেছে নিচ্ছে। নারীদের এই আত্নহনন রোধ করতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। মনোবিজ্ঞানী ও লেখক ডা. মুহিত কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, যারা তীব্র হতাশা ও অসহায়ত্বের মধ্যে আছে তাদের কাছে এধরণের ঘটনাই একমাত্র মুক্তির পথ। এক ধরণের মনোস্তাত্বিক সংকটের কারণেই তখন ঐ নারী আত্নহত্যার মতো মারাত্বক পথটি বেছে নেয়। তার কাছে অন্য কোন পথ থাকে না। এদিকে আত্নহননের এমন ঘটনা যখন দেশে একের পর এক ঘটে চলেছে তখন সম্পর্কের টানাপোড়েনে আছেন এমন অনেক নারীও এপথ বেছে নিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মাহমুদা ইসলাম বলেন, সমাজে ঘন ঘন এধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা অন্য একজন নির্যাতিত নারীকে উৎসাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। নিজে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলে এধরণের ঘটনা তাকে সাহস যোগায়। তিনি বলেন, যে কোন মা মনে করেন সন্তান হচ্ছে তার একান্ত নিজের সম্পদ। তার অবর্তমানে এই সন্তানকে কোন রকম কষ্ট, বিপদ বা অনিশ্চয়তায় রেখে যেতে চান না। এই ভাবনা থেকেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধন্ত নেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আত্নহননের ঘটনা রোধে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও সামাজিক যে বন্ধনগুলো রয়েছে সেগুলোকে জোরদার করা জরুরী। একই সঙ্গে নারীদের শিক্ষার হার বাড়ানো ও স্বাবলম্বি হওয়া জরুরী বলে মনে করছেন তারা। অধ্যাপক মাহমুদা ইসলাম বলেছেন, এমন অবস্থায় পরিবার বা আশেপাশের মানুষকে তার সঙ্গে থাকতে হবে। বোঝাতে হবে আত্নহত্যাই সমাধান নয়। তাদেরকে স্বাবলম্বি হতে সহায়তা করতে হবে। সংসার ভেঙ্গে যাওয়া বা যে কোন নেতিবাচক ঘটনা জীবনে আসতেই পারে। এক্ষেত্রে মেয়েটি নিজে আয় করতে পারে সে ব্যাপারে মেয়েদের সচেতনতা দরকার। আর তাই শুধু শহর নয় তৃণমুলের নারীদেরও শিক্ষা গ্রহণ করার উচিত। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে অক্টোবর মাসে পারিবারিক কলহের কারণে এবং পরকিয়ার জের ধরে নির্যাতিত হয়ে নিহত হয়েছে ৩৫ জন নারী এবং আহত হয়েছে ১০ জন নারী। অন্য এক পরিসংখ্যান মতে, গত ১০ বছরে সারা দেশে আত্নহত্যার করছে ৪ হাজার ৭শ ৪৭ জন নির্যাতিত নারী। এই আত্নহত্যার পেছনে রয়েছে বঞ্চনা, নিপীড়ন, পারিবারিক নির্যাতন ও সামাজিক বৈষম্য। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে গত ছয় মাসে সারাদেশে ইভটিজিং, ধর্ষণ, আত্নহত্যা, শারীরিক নির্যাতনসহ নানা কারণে প্রাণ হারিয়েছে ৬৮ জন নারী। ০৫.১১.২০১৪