ঢাকা, শনিবার ১০, অক্টোবর ২০২৬ ৫:৩০:০২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: চট্টগ্রামে অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার শান্তিতে নোবেল পেলেন অধিকারকর্মী নাভানেথেম পিল্লাই বছরে ৫০০ কোটির বেশি ঘাটতি, ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ডাক বিভাগ টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা, একাদশে আছেন যারা শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল ফ্রান্স, থামছে না বিক্ষোভ সারাদেশে বৃষ্টির আভাস, রাতে তাপমাত্রা কমতে পারে

পেঁয়াজ-আলুর দাম বাড়তি, চাপে সাধারণ ক্রেতা

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৫৭ এএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। চাল, ডাল, তেল, ডিম ও মাংসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও আলুর দাম বেড়েছে। শাক-সবজির দামেও রয়েছে ওঠানামা। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্যবৃদ্ধির চাপ যুক্ত হওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে এলেও অনেকে পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতা থাকলেও বিক্রিতে আগের মতো গতি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গত ৮ অক্টোবর ঢাকার কারওয়ান বাজারের বাজারদর নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে আদা ও রসুনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আলুর দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। তবে চাল, ডাল, ডিম, ভোজ্যতেল ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

পেঁয়াজ, আদা ও রসুনে বাড়তি চাপ

রান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ পেঁয়াজ কিনতে এখন আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কারওয়ান বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা। ৮ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়। মান ও ধরনভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে আদার দাম কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় উঠেছে। বড় আকারের রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৩০ টাকা। ছোট আকারের রসুনের দাম কেজিতে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা।

পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত পণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে পরিবারের খাদ্যব্যয়ে। বিশেষ করে যেসব পরিবার নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য অল্প অল্প করে দাম বাড়াও মাস শেষে বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে।

আলুতে বাড়তি দাম, সবজিতে ভিন্নতা

আলু দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাদ্য হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এ পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারে লাল ও সাদা আলু খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ১ থেকে ২ টাকা।

অন্যদিকে সবজির বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও ধরন অনুযায়ী দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে ঝিঙে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ টাকা, ধুন্দুল ২০ থেকে ২২ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ২৪ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

পাইকারি ও খুচরা দামের এই ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ও দোকানভাড়া খুচরা দামে প্রভাব ফেললেও কোন পর্যায়ে কতটা খরচ যুক্ত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে কঠিন। ফলে বাজারে গিয়ে ক্রেতারা প্রায়ই বুঝতে পারেন না, উৎপাদন বা পাইকারি পর্যায়ে কম দামের পণ্য খুচরা পর্যায়ে এসে এত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কেন।

চাল, ডাল ও তেলের বাজার

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মধ্যে চালের দামও সাধারণ মানুষের ব্যয়ের বড় অংশ দখল করে আছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৬৮ থেকে ৬৯ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯২ টাকা এবং চিনিগুঁড়া চাল ১৮৯ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। দোকান ও মানভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ডালের বাজারে দেশি মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১৫০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯০ টাকা এবং ছোলা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার টাকা। দাম অপরিবর্তিত থাকলেও চাল, ডাল ও তেলের মতো পণ্যে পরিবারের নিয়মিত ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত। একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে এসব পণ্য কিনতেই মাসিক আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হয়ে যায়।

ডিম ও মাংসের দাম

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও স্বস্তির চিত্র সীমিত। কারওয়ান বাজারের তথ্য অনুযায়ী, খামারের লাল ডিমের এক ডজনের দাম ছিল ১৪৫ টাকা এবং সাদা ডিমের এক ডজন ১৪০ টাকা। বড় ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা ও মাঝারি আকারের ব্রয়লার ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। সোনালি মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা।

গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

দাম স্থিতিশীল থাকা মানেই যে এসব পণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে, তা নয়। যেসব পরিবারের আয় সীমিত, তাদের অনেকের কাছে নিয়মিত মাংস কেনা কঠিন। ডিম ও মুরগির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী আমিষের দামও খাদ্যতালিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিক্রি কমছে, কমছে কেনাকাটাও

বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে পড়ছে। ক্রেতারা আগের মতো পরিমাণে পণ্য কিনছেন না। কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে অন্য খরচ কমাচ্ছেন, কেউ আবার কেনাকাটার তালিকা ছোট করছেন।

কারওয়ান বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বিক্রি কমেছে। বাজারের এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, কেবল পণ্যের দাম না বাড়লেই ভোক্তারা স্বস্তি পান না। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে অপরিবর্তিত দামও অনেক পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

একইভাবে কর্মজীবী মানুষের জন্য মাসের শুরুতে যে আয় দিয়ে সংসার চালানোর পরিকল্পনা করা হয়, মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে এসে তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ মেটাতে গিয়ে খাদ্য কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হয় অনেক পরিবারকে।

বাজার তদারকি ও জবাবদিহি জরুরি

নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অযৌক্তিক মুনাফা এবং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি জোরদার করা, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে বাজারে কোন পণ্যের দাম কী কারণে বাড়ছে, কোথায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে এবং কোথায় অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে—তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না; বাজারের সরবরাহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থার সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং পণ্যের দাম নির্ধারণে কার্যকর নজরদারি থাকবে। কারণ, বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব শুধু কেনাকাটার তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পরিবারের পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।