ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ২১:৫৫:৩৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

প্রধানমন্ত্রী ফ্ল্যাট দিতে চাইলেও রাজি নন ৪০ হাজার বস্তিবাসী

আপডেট: ১২:৩২ পিএম, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ মঙ্গলবার

d8e7a0ad4dbaac948258a81e155c0c8b-PM_1_15.05.2014_KALLOLpmস্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা:  কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকাটি প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দখলে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দখলে  থাকা বিশাল বস্তি তুলে দিয়ে বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন । কিন্তু বস্তির লোকজন ফ্ল্যাটে থাকতে অস্বীকৃতি জানান। আবার পৌরসভার বাইরেও যেতে চান না। তাঁদের আশঙ্কা, শুঁটকিপল্লি ছাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। এই জটিলতায় আটকে গেছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। মহেশখালীর মাতারবাড়িতে দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সদ্য চালু হওয়া শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম কার্যকর করা এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে সরকার বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে চায়। কিন্তু বস্তির সাড়ে চার হাজার পরিবার আবাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ছাড়তে চায় না। অবৈধভাবে থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের উচ্ছেদের ঝুঁকিও নিতে পারছে না। এ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা অস্বস্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের বস্তিবাসীর পক্ষে অবস্থান এবং এতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার প্রচ্ছন্ন সমর্থনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ৬৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আছে। শুরুতে প্রকল্পের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৪৫০ কোটি টাকা। এখন তা ৮৬৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, এসব পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিমানবন্দর এলাকার দুই কিলোমিটার দূরে খুরুশকুল এলাকায় চারতলা ২০০ ভবন নির্মাণ করে সেখানে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বস্তির বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভার মধ্যে বসবাসের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান ছাড়বেন না। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর আমরাও চাই, কিন্তু আমাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো মূল্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই ধরে রাখব।’ জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বস্তিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করলেও প্রায় অর্ধেক মানুষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আসার কথা নয়। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত, জেলে এবং ভূমিহীন পরিবারের সদস্যসংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজার। বাকিরা রিকশাচালক, রোহিঙ্গা শরণার্থী বা ভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে সরকারি দলের কয়েকজন নেতা নেপথ্যে থেকে বস্তিবাসীকে ইন্ধন দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে বলে মনে হয়। সাবেক জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের কমিটি আলাপ-আলোচনা করে বিষয়টি একটি পর্যায়ে নিয়েছিল। বর্তমান জেলা প্রশাসক নিজের মতো করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বস্তির নেতারা সরকারের প্রস্তাব মোটামুটি মেনে নিয়েছেন, অন্যরাও মেনে নেবেন। ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। ০২.০৯.২০১৪