ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৮:৫১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

প্রশাসনের শীর্ষ পদে বাড়ছে নারীর সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৬ পিএম, ৮ মার্চ ২০২০ রবিবার

প্রশাসনের শীর্ষ পদে বাড়ছে নারীর সংখ্যা

প্রশাসনের শীর্ষ পদে বাড়ছে নারীর সংখ্যা

দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে অবদান রেখে চলেছেন নারীরা। জনপ্রশাসনের শীর্ষ কয়েকটি পদে আসীন হওয়া ছাড়াও দিন দিন সরকারি চাকরিতে তাদের সংখ্যা বাড়ছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কসহ ৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদে রয়েছেন নারীরা। ৮ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে আছেন ৮ জন নারী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রশাসনে সচিব/সিনিয়র সচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ৮২ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক পদসহ ৯টি পদে রয়েছেন নারীরা। অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ নারী প্রশাসনে সচিব পদে কাজ করছেন। এ ছাড়া গ্রেড-১ পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবেও আছেন একজন নারী।

নারীদের মধ্যে প্রথম ১৯৯৮ সালে সচিব হন জাকিয়া আক্তার চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব হয়েছিলেন। এরপর থেকেই মূলত প্রশাসনে নারী সচিবের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন সাবেক সচিব নাছিমা বেগম। এ ছাড়া দেশের অন্যতম বড় দুটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদেও রয়েছেন দুজন নারী।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও গবেষণা অনুবিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটেসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ-২০১৯’-এর হিসাব বলছে, দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৫ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৭ জন নারী, যা মোট চাকরিজীবীর প্রায় ২৭ শতাংশ। ২০১০ সালে মোট চাকরিজীবীর মধ্যে নারী ছিলেন ২১ শতাংশ। সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে।


কোন দপ্তরে কোন নারী সচিব : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক পদে দায়িত্বে আছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ। চাকরির মেয়াদ শেষে তাকে এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) পদে আছেন হোসনে আরা বেগম। ২০১৭ সালের ৩১ মে তিনি দুই বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ পান। ২০১৯ সালের ১২ জুন তাকে এ পদে ফের দুই বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব করা হয় ফাতিমা ইয়াসমিনকে। পরিকল্পনা কমিশনে সদস্য পদে কাজ করছেন সিনিয়র সচিব শামীমা নার্গিস ও সিনিয়র সচিব সাহিন আহমেদ চৌধুরী। তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একজন নারী সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে রাষ্ট্রপতির কোটায় সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হন বিসিএস অষ্টম ব্যাচের নাজমানারা খানুম। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার। বিসিএস (প্রশাসন) সপ্তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা মাঠপ্রশাসনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন শেষে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে রেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) পদে রয়েছেন উম্মুল হাছনা।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালেই সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে রেক্টর হিসেবে যোগদান করেন বদরুন নেছা। তিনি মাঠপ্রশাসন ও সচিবালয়ে বিভিন্ন পদেও দায়িত্ব পালন করেন। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে রয়েছেন পারভীন আক্তার। তিনি গ্রেড-১ পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

যেসব জেলায় নারী ডিসি : নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন (বিসিএস ২০ ব্যাচ), রাজবাড়ীতে দিলশাদ বেগম (২১ ব্যাচ), নড়াইলে আঞ্জুমান আরা (২১ ব্যাচ), শেরপুরে আনার কলি মাহবুব (২০ ব্যাচ), কুড়িগ্রামে সুলতানা পারভীন (২০ ব্যাচ), পঞ্চগড়ে সাবিনা ইয়াসমিন (২১ ব্যাচ), মৌলভীবাজারে নাজিয়া শিরিন (২০ ব্যাচ) এবং গোপালগঞ্জে শাহিদা সুলতানা (২১ ব্যাচ) ডিসির দায়িত্ব পালন করছেন।