ঢাকা, শনিবার ৩১, অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৩১:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা এইচএসসির ফল প্রকাশ: কোন বোর্ডে পাসের হার কত এইচএসসির ফল: জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ অনলাইনে দ্রুত এইএসসির ফল জানবেন যেভাবে আজ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, জানবেন যেভাবে

বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহে ঝুঁকিতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪০ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা, বিস্তৃতি ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভের শিশুর ওপর। দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহে মায়ের শারীরিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি শিশুর কম ওজন, অপরিণত জন্ম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মেক্সিকোতে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ বা হিট স্টর্মের মুখে পড়লে অপরিণত সন্তান জন্মের হার সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ বিশ্লেষণে দেশটির ৮০ লাখের বেশি শিশুর জন্মসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে আসা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:

১. বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা

গত সাড়ে ছয় দশকে তাপপ্রবাহের ধরন ও ব্যাপ্তিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা দেওয়া তাপপ্রবাহ এখন কখনো কখনো মাস কিংবা বছরজুড়ে স্থায়ী হচ্ছে। এ ধরনের ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহকে রয়টার্স ‘হিট স্টর্ম’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সঙ্গে পরামর্শ করে রয়টার্স তাপপ্রবাহের একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় টানা পাঁচ দিন ঐতিহাসিক তাপমাত্রার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে সেটিকে তাপপ্রবাহ বলা হবে। আর কোনো তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ বিস্তারের সময় পৃথিবীর অন্তত ১ শতাংশ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে বলা হচ্ছে হিট স্টর্ম।

১৯৬০ সাল থেকে প্রতিদিনের প্রতি ঘণ্টার তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে এমন হিট স্টর্মের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০টি। অথচ চলতি দশকেই এ সংখ্যা ৬৬৫ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় একটি হিট স্টর্ম প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা অতিক্রম করেছিল।

২. অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য তাপপ্রবাহ বেশি বিপজ্জনক

বিভিন্ন চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র গরমের সঙ্গে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, জন্মগত ত্রুটি, গর্ভপাত ও মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষকদের মতে, শুধু নির্দিষ্ট তাপমাত্রাই বিপদের কারণ নয়; একজন নারী যে তাপমাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত, তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রাও ক্ষতিকর হতে পারে। স্বাভাবিক অভ্যস্ত তাপমাত্রার চেয়ে প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১ দশমিক ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা বৃদ্ধি গর্ভাবস্থার জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সবচেয়ে স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে অপরিণত সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে। মেক্সিকোর লাখ লাখ জন্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, গর্ভাবস্থার শেষ মাসে তাপপ্রবাহের সংস্পর্শ যত বাড়ে, অপরিণত সন্তান জন্মের হারও তত বাড়ে।

৩. তাপপ্রবাহের ঝুঁকি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়

বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু ও ভৌগোলিক অঞ্চলে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য তাপপ্রবাহ ঝুঁকি তৈরি করছে।

মেক্সিকোর মরুভূমি, আর্দ্র জঙ্গল ও নাতিশীতোষ্ণ পাহাড়ি অঞ্চল, সব জায়গাতেই তাপপ্রবাহের সঙ্গে অপরিণত সন্তান জন্মের হার বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

চীন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রেও গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। অর্থাৎ এই ঝুঁকি কোনো একটি দেশ বা জলবায়ুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

৪. কীভাবে ক্ষতি করে তাপপ্রবাহ, তা নিয়ে গবেষণা চলছে

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গর্ভাবস্থায় ঠিক কীভাবে জটিলতা তৈরি হয়, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে গবেষণা করছেন।

গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল থেকে রক্তপ্রবাহ শরীরের অন্য অংশে সরিয়ে নিতে পারে। এতে গর্ভের শিশুর প্রয়োজনীয় রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ভ্রূণের হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপও বাড়তে পারে।

তাপের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি পর্যন্ত কোথাও বড় কিনারাযুক্ত টুপি, কোথাও ভবনের ছাদ সাদা রঙ করা এবং কোথাও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সুরক্ষার চেষ্টা চলছে।

৫. বিশেষজ্ঞরাও তাপপ্রবাহের ঝুঁকির বাইরে নন

গর্ভাবস্থায় তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে গবেষণাকারী চিকিৎসক দর্শনিকা লাখুও নিজেই এর শিকার হয়েছেন।

তিনি ২০২৪ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা গবেষণার সহলেখক ছিলেন। সেখানে গর্ভাবস্থায় তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণাপত্রটি লেখার সময় নিজেও তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে যমজ সন্তান নিয়ে গর্ভবতী ছিলেন লাখু। যমজ সন্তান ধারণের কারণে এমনিতেই অপরিণত জন্মসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি থাকে। এর সঙ্গে তাপপ্রবাহের প্রভাব যুক্ত হয়ে তাঁর গর্ভাবস্থায় তিনটি গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের ছয় সপ্তাহ আগেই সন্তান জন্ম দিতে হয় তাকে।

লাখু রয়টার্সকে বলেন, ‘উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে কেউই নিরাপদ থাকবে না। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা।’

রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তাপপ্রবাহ এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের জন্যও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গরমের প্রভাব অপরিণত সন্তান জন্মের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

তবে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং তাপপ্রবাহের সময় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা এর কারণ ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: রয়টার্স