ঢাকা, শনিবার ৩১, অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৫১:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা এইচএসসির ফল প্রকাশ: কোন বোর্ডে পাসের হার কত এইচএসসির ফল: জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ অনলাইনে দ্রুত এইএসসির ফল জানবেন যেভাবে আজ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, জানবেন যেভাবে

মুখ খুললেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৫ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক (৫০) প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। ৫০ বছর বয়সি এই নারী জানিয়েছেন, তিনি এখন সারাক্ষণ শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। এমনকি কথা বলতেও তার কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তার আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান তিনি।

ক্রিস্টা পাইক বলেন, ‘সেই রাতের পর থেকে এমন একটি মুহূর্তও আসেনি, যখন আমি ব্যথামুক্ত ছিলাম। এই যন্ত্রণা শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনেরই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই রাতের পর বেঁচে থাকার কথা আমি কখনো ভাবিনি। আর যাদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তাতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’

১৯৯৫ সালে ক্রিস্টা পাইক ও তার প্রেমিক মিলে ১৯ বছর বয়সি এক সহপাঠীকে নির্যাতন, ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। এ অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে ফ্লোরিডা থেকে এসেছিলেন নিহত তরুণীর মা।

বিবৃতিতে পাইক বলেন, নিহতের পরিবার এবং তাদের সহ্য করা ভয়াবহ যন্ত্রণা ও ক্ষতির কথা তিনি এখনো ভাবেন।
পাইকের আইনজীবীদের দাবি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে প্রাণঘাতী ওষুধ ফেনোবারবিটালের দুটি পৃথক ডোজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওষুধটি রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করায় তার মৃত্যু হয়নি। বরং ওষুধটি তার দুই বাহুতে জমা হয়ে সেগুলো পুড়িয়ে দেয় এবং ফোসকা সৃষ্টি করে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর কয়েক দিন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পাইক। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে আবার টেনেসির কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পরও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। আপাতত তাকে নির্জন কারাকক্ষে রাখা হয়েছে।

পাইকের আইনজীবীরা তাকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ দিতে একটি ফেডারেল আদালতের কাছে আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর এভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখায় পাইক গুরুতর মানসিক ক্ষতি ও মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছেন।

এ ছাড়া তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের জন্য টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছেও আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর বিল লি বলেন, আদালত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে পাইকের সাজা আগের মতোই বহাল থাকবে বলে তিনি মনে করছেন।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনাটি তদন্তে স্বাধীন পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। একই সঙ্গে চলতি বছর টেনেসিতে নির্ধারিত অন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সূচিও স্থগিত করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা