ঢাকা, রবিবার ০৭, জুন ২০২৬ ১:৩৫:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু ভারতের কাছে হেরে ইতিহাস গড়া হলো না বাংলাদেশের মরণোত্তর জাতিসংঘ পদকে ভূষিত বাংলাদেশের ৬ বীর হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৩২,৮৩২ হাজি, মৃত্যু ৪৮ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

ভারতের কাছে হেরে ইতিহাস গড়া হলো না বাংলাদেশের

খেলাধুলা ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১১ পিএম, ৬ জুন ২০২৬ শনিবার

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বল দখলের লড়াই। ছবি : বাফুফে

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বল দখলের লড়াই। ছবি : বাফুফে

ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল বাংলাদেশ। ভারতকে হারালেই হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততো বাংলার বাঘিনীরা। শুরুটাও করেছিল দারুণ। প্রথমার্ধে গোল হজম করলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে দিয়েছিল লড়াইয়ের আভাস। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর সেটি ধরে রাখতে পারল না ঋতুপর্ণা-আনিকারা। এই অর্ধে আরও দু’বার বাংলাদেশের জালে বল জড়াল ভারত। এতে দক্ষিণ এশিয়ান নারী ফুটবলে চার বছরের আধিপত্য শেষ হলো বাংলাদেশের।

আজ শনিবার (৬ জুন) ভারতের গোয়ার জওহেরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে বাংলাদেশ। দারুণ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে ঋতুপর্ণা চাকমা-আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীরা। কিন্তু গোলের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। বার দুয়েক অবশ্য গোল মিসও করেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের ১২তম মিনিটে প্রথম গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণা বল বাড়িয়েছিলেন গোলমুখে। খুব কাছাকাছি থাকলেও পা ছোঁয়াতে পারেননি শামসুন্নাহার।

এর দুই মিনিট পর দ্বিতীয় সুযোগ হাতছাড়া করে কোচ পিটার বাটলারের দল। বক্সের সামনে বল পাওয়ার পর ভারতীয় গোলকিপারকে প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। তবে জুলি কিশান এসে তাকে শট নিতে দেননি।

ম্যাচের ১৬তম মিনিটে সুযোগ নষ্ট করে ভারতও। নির্মলা দেবীর শট মিলি আক্তার এগিয়ে এসে ধরতে চাইলেও হাতে নিতে পারেননি। এরপর ভালোভাবে বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি কোহাতি কিসুকও। এরপর বল পেয়ে যান আস্তাম ওরাওনে। কিন্তু বল গোলমুখে রাখতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। বল নিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে যাওয়া মনিষা কল্যাণ শট নিয়েছিলেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে তা রুখে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি।

এর চার মিনিট পর অবশ্য আর বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারেননি মিলি। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন পেয়ারি জাজা। তাকে আটকাতে ছুটে গিয়েছিলেন সুরভী। তবে ব্লক করতে পারেননি। উল্টো বল তাঁর গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে। গোলকিপার মিলি অনেকটাই সামনে এগিয়ে থাকায় বলটি তাঁর মাথার ওপর দিয়ে ভাসতে ভাসতে বল জালে জড়িয়ে যায়।

ভাতের সেই আনন্দ অবশ্য বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আনিকার কাছ থেকে বল পেয়ে তহুরা থ্রু বাড়িয়েছিলেন ঋতুপর্ণাকে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ভারতীয় গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে।

এরপর বাংলাদেশ আরও একবার চেষ্টা করেছিল। তবে জাল খুঁজে পায়নি। সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতিতে থেকে ফিরেই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় ভারত। পেয়ারি জাজার বাড়ানো ক্রসে হেড নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন সানফিদা।

ম্যাচের ৫১তম মিনিটে সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে আসা বলে হেড নিয়েছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। কিন্তু তার হেড চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ উল্টো হজম করে বসে আরও এক গোল। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে বদলি নেমে ব্যবধান বাড়ান ভারতের লিন্ডা কম।

ম্যাচের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ৩-১ গোলের জয়ে শিরোপা জিতে নিল স্বাগতিক ভারত।