ঢাকা, শুক্রবার ০৫, জুন ২০২৬ ১৬:৫৩:০৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় নতুন নিয়ম: যে নির্দেশনা দিলো ঢাকার দূতাবাস খেলাপি ঋণ অর্থনীতিকে প্রচণ্ড চাপে ফেলছে: ড. ফাহমিদা বাস-অটোভ্যান সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩ ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়ার পথে খয়ালিনস্কা অবশেষে ‘খোঁজ’ মিলল দুবাই রাজপরিবারের সাবেক পুত্রবধূর ঈদ-পরবর্তী স্বস্তি, তবু মাছের বাজারে আগুন আজ দেশের ৮ বিভাগেই বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা আবারও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস ডুবি

রাজধানীজুড়ে মশার দাপট, ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ডিএসসিসির ৬৩ ওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১৭ পিএম, ৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—প্রায় সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। দিনের বেলাতেও ঘর, অফিস কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বস্তিতে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মশকনিধনে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি থাকলেও বাস্তবে মশার সংখ্যা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না নগরবাসী। ফলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সর্বশেষ জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির উদ্যোগে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জরিপে দেখা যায়, ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি লার্ভা শনাক্ত হয়েছে বহুতল ভবনে। এছাড়া একক বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও সেমিপাকা বাড়িতেও উল্লেখযোগ্য হারে এডিসের উপস্থিতি মিলেছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, মেঝেতে জমে থাকা পানি, বালতি, প্লাস্টিকের ড্রামসহ বিভিন্ন পাত্রে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেওয়া এডিস মশার বিস্তার রোধে শুধু ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়; উৎসস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে পাঁচ দিনের এ কর্মসূচিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরে আরও ৩৬টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, পুরান ঢাকা, লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, সবুজবাগ, বাসাবো, মুগদা, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত ধোঁয়া ছিটালেও মশার উপদ্রব কমছে না। বরং দিনের বেলাতেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “দিনের বেলাতেও মশার কারণে ঘরে বসে থাকা যায় না। মশারি, কয়েল—সব ব্যবহার করেও স্বস্তি মিলছে না।” অন্যদিকে যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী কবির হোসেনের অভিযোগ, “সিটি করপোরেশনের লোকজন মাঝে মাঝে ধোঁয়া দিয়ে যায়, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আবার আগের অবস্থা ফিরে আসে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাসা-বাড়ি, ছাদবাগান, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বর্ষা শুরুর আগেই রাজধানীর অধিকাংশ ওয়ার্ডে এডিস মশার উচ্চ উপস্থিতি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগামী মাসগুলোতে নগরবাসীকে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।