ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৩:২২:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

মায়ের ত্যাগই প্রধানমন্ত্রীর প্রেরণা

আপডেট: ১০:৫২ এএম, ৮ আগস্ট ২০১৪ শুক্রবার

hasina-6স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা:আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,আমার মা শুধু আমার মাই নন, তিনি বঙ্গমাতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আমি আমার মায়ের কাছ থেকে অনেক শিখেছি। তার কাছ থেকে পেয়েছি অনেক স্নেহ ও ভালোবাসা। মায়ের ত্যাগ থেকেই আমি রাজনৈতিক জীবনের সব শিক্ষা পেয়েছি। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবার সান্নিধ্য যদিও কম পেয়েছি কিন্তু মায়ের স্নেহ পেয়েছি পুরোপুরি। রাজনৈতিক বড় বড় মোড়গুলোতে মায়ের দৃঢ়তা, ত্যাগ ও সময়োচিত পদক্ষেপ দেখেছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মা নিজের ঘরে খাবার আছে কি না তার চেয়েও বেশি চিন্তা করতেন নেতাকর্মীরা ভাল আছেন কি না তা নিয়ে। ভোগ-বিলাসের কথা কখনো ভাবেননি। আবার দৈন্যতার প্রকাশও কখনো দেখিনি তার কথা ও কাজে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন জেলখানায় থাকতেন, তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাজারের টাকা পৌঁছে দিয়েছেন আমার মা। তিনি ভোগ বিলাসী হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসতো না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে দেখতাম প্রতিটি বিষয়ে মায়ের সঙ্গে আলোচনা করতেন এবং মা প্রতিটি সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাতেন। পরবর্তীতে দেখা যেত সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি আমাদের দেখাশোনা করতেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে যখন ফ্রিজ বিক্রি করতে হলো, তখন মা বললেন- এই ফ্রিজের পানি খেয়ে গলায় ঠাণ্ডা লেগে যায়, এটা রাখার দরকার নাই। গহনা যখন বিক্রি করতে হলো তখন বললেন, এগুলো পুরাতন হয়ে গেছে।’ মায়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন মা বলেছেন আজ আমরা গরীব খিচুড়ি খাব, কিন্তু প্রকাশ করেননি বাজার করার টাকা নেই। তিনি সব সময় বলতেন আমরা মধ্যবিত্ত, আমাদের এভাবেই চলতে হবে।’ শেখ ফজিলাতুন্নেছা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল শক্তি যুগিয়েছিল, তার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আমরা মা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবা জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শনে বিশ্বাস করতেন। তাই মাঝে মধ্যেই মাকে রাসেলের দর্শন শোনাতেন। সে কারণেই আমার ছোট ভাইয়ের জন্মের মা তার নাম রাখেন রাসেল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অপরিসীম অবদানের কথা মাথায় রেখেই ১৫ আগস্টের খুনিরা মাকেও রেহাই দেয়নি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ যখন নির্বিচারে ফিলিস্তিনের নারী শিশুদের হত্যা করতে দেখি তখন একাত্তরের কথা মনে পড়ে যায়। ওই সময় বাংলাদেশের নারী ও শিশুদেরকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই কত কংগ্রেসম্যানের চিঠি পাই, কত প্রতিবাদ শুনতে পাই। কিন্তু আজ যখন ফিলিস্তিনের নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে তখন তারা নীরব কেন? আমরা এর প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই।’ ০৮.০৮.২০১৪