ঢাকা, সোমবার ১০, মে ২০২১ ১:৪৮:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৫৬ মার্কেটে মানুষের ঢল, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়: প্রধানমন্ত্রী ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েনের পরও ঘরমুখো মানুষের ঢল কাবুলে বিস্ফোরণে নিহত ৫৫ জনের অধিকাংশই ছাত্রী আজ মা দিবস, মাগো…ওগো দরদিনী মা

মিনা পাল থেকে ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী

বিনোদন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৩ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তীতুল্য অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। সত্তর-আশির দশকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাকে যতটা নিজেদের মানুষ ভাবতে পেরেছিলেন, ততটা হয়তো অন্য কোনও অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পারেননি। নেপথ্য কারণও আছে। মিষ্টি হাসি আর অভিনয়ের নৈপুণ্য দিয়ে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন সিনেমা প্রেমীদের।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত এ অভিনেত্রী। তার মৃত্যুতে শোকের বিষাদ ঢেলে দিয়েছে সংস্কৃতি অঙ্গনে।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশ খালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রী কৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। বেড়ে উঠেছেন সংস্কৃতির চর্চাকে সঙ্গী করে। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন কবরী। তারপর টেলিভিশন ও সবশেষে আসেন সিনেমায়।

অভিনেত্রী হিসেবে মানুষের হৃদয়ের কাছে যেতে পারা, মানুষের ভালোবাসার পাত্র হতে পারাটাই কবরীর সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন কবরীর সমসাময়িক অভিনয় শিল্পীরা। এটিই কবরীকে ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি দিয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

‘মিষ্টি মেয়ে’ ছাড়াও তিনি ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কারণ তার চেহারায়, আচরণে, অভিনয়ে সেই বিষয়টা ছিল। খুব বেশি মেক আপ করতো না, এমনকি চুলটাও একদম সাধারণ একটা মেয়ের মত রাখতো। যার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে খুব আপন হয়ে ধরা দিতো।

কবরী ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন মাত্র ১৪ বছরে। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে উপহার দেন ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিসহ প্রায় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ ও নায়ক ফারুকের সঙ্গে তার ‘সারেং বউ’ ও ‘সুজন সখী’ সিনেমাগুলো কালজয়ী হয়ে আছে। কবরী পার্বতী চরিত্রেও দর্শক মাতিয়েছেন বুলবুল আহমেদের সঙ্গে ‘দেবদাস’ সিনেমায়। তিনি নায়িকা হয়েছেন সোহেল রানা, উজ্জ্বল, আলমগীর, জাফর ইকবালের বিপরীতেও।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি ছবি নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। ওই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। সর্বশেষ শুরু করেছিলেন সরকারি অনুদানের একটি সিনেমার নির্মাণকাজ। কিন্তু শেষ করে যেতে পারলেন না। তাকে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ সরকার।

যুক্ত ছিলেন রাজনীতিতেও। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ব্যক্তিজীবনে কবরী বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সে দাম্পত্যজীবন ভেঙ্গে যায়। পরে ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী ছিলেন পাঁচ সন্তানের জননী।

-জেডসি