যৌনদাসী থেকে আজ নোবেলজয়ী নাদিয়া মুরাদ
অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪.কমআপডেট: ০১:২৩ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার
এ যেন ঠিক সিনেমার গল্পের মত, সত্যি যেন স্বপ্ন। ইসলামিক স্টেট-এর যৌনদাসী হিসেবে দিনের পর দিন গণধর্ষিতা হয়েছেন। সইতে হয়েছে আরও নানা অকথ্য অত্যাচার। কাঁদতে কাঁদতে চোখের জলও শুকিয়ে গিয়েছিল এক সময়। কিন্তু শরীর আর মনের নিদারুণ যন্ত্রণার মধ্যেও বার বার ভেবে গিয়েছিলেন একটা কথাই-এখান থেকে পালাতে হবে। পালাতেই হবে। চরম ঝুঁকি নিয়ে সেই নরক থেকে বেরিয়ে আসা নাদিয়া মুরাদ আজ লাভ করলেন শান্তিতে নোবেল।
গত বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিজের ‘পুনরুজ্জীবন’এর কাহিনি শুনিয়েছেন নাদিয়া। শিউরে ওঠার মতো সে কাহিনি। পাকিস্তানের নারী অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফ জাইয়ের পর সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানজনক এই পুরস্কার জিতলেন ইয়াজিদি এই তরুণী। পুরো নাম নাদিয়া মুরাদ। বয়স সবে ২৫।
‘দ্য লাস্ট গার্ল’ বইয়ের লেখক নাদিয়া বলেন, ‘সব সময় এই বেদনাদায়ক গল্প বলতে আমার ভালো লাগে না। এ কারণেই এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ আমি বইয়ে লিখেছি।’
ইরাকের শিনজারে বেড়ে উঠেছেন নাদিয়া। ইরাকের কুর্দ জনগোষ্ঠীর ইয়াজিদি ধর্মের মেয়ে নাদিয়া মুরাদ। ২০১৪-এর ইরাক যখন ইসলামিক স্টেটের দখলে একটু একটু চলে যাচ্ছিল তখন সদ্য যৌবনের কোঠায় পা রেখেছেন নাদিয়া। ১৯ বছর বয়স। ইসলামিক স্টেটের তখন তাণ্ডব চলছে ইরাকের নানা অংশ জুড়ে। দুর্ভাগ্যবশত তেমনই এক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন নাদিয়ার পরিবার। মা, বাবা এবং ছয় ভাইয়ের সঙ্গে দিব্য কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু আইএস-এর নারকীয় তাণ্ডব ভেঙে তছনছ করে দিয়ে যায় তাঁর সেই সুখের দিন।
তখন চারদিকে ইয়াজিদি মহিলাদের জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে আইএস-এর লোকেরা। নাদিয়াও বাদ গেলেন না। যে ৫ হাজার মহিলাকে অপহরণ করেছিল আইএস, তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন।
নাদিয়া বর্ণনা দেন, এক দিন আইএস জঙ্গিরা গ্রামে এসে ঢোকে। ইয়াজিদিদের তারা ইসলামে ধর্মান্তরণ শুরু করে। যারা বিরোধিতা করেছিলেন, মুখে কলাশনিকভ-এর নল ঢুকিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছিল তাঁদের। ইয়াজিদি মেয়েরা ভয়ে গ্রামেরই একটি স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁদের টেনে টেনে বের করে তুলে নিয়ে যায় জঙ্গিরা।
শুরু হয় এক দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর বাসযাত্রা। ঠাসাঠাসি বাসে তখন ইয়াজিদি মেয়েদের আর্ত চিত্কার। নাদিয়ার কথায়, এই দেখে জঙ্গিরা জোরে জোরে হাসছিল আর বলছিল, ‘এখন তোরা আইএস-এর। তোদের বিয়ে করা হবে।’ বাসে যেতেই যেতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল যৌন নির্যাতন।
যে দিন তাকে অপহরণ করা হয়, মা-বাবা এবং ভাইয়েরা প্রতিরোধ করতে গিয়েছিলেন। চোখের সামনে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় তাদের। ওই দিনই গ্রামেরই আরও ৩০০ পুরুষকে খুন করে আইএস-এর লোকেরা।
নাদিয়া এবং তার তুতো বোনেদের তুলে নিয়ে যায় আইএস। নাদিয়া জানান, এর পরই শুরু হয় ধর্ষণ। ধর্ষণ বললে ভুল হবে, শুরু হয় গণধর্ষণ। দিন নেই, রাত নেই, সময় নেই, যখনই মনে হত তাঁদের ধর্ষণ করা হত।
প্রথমবার ধর্ষণের কথাটা আলাদা ভাবে মনে আছে নাদিয়ার। আইএস ধর্ষকের মোবাইলে হঠাত্ জ্বলে উঠেছিল একটা নাম। সারা। এই একটা মাত্র নামই নাদিয়া জানতে পেরেছিল সেই নরক জীবনে। কে এই সারা? নাদিয়া জানতে পারে, সারা ওই লোকটার মেয়ের নাম।
নাদিয়ার কথায়, যারা ইয়াজিদি মহিলাদের যৌনদাসী বানিয়ে ধর্ষণ করত, তাদের স্ত্রী-রাও জানত গোটা বিষয়। আর এটাকে মেনেও নিত তারা। নাদিয়া বলেন, “আইএস মহিলারা ইয়াজিদি মহিলাদের পশুর থেকেও অধম মনে করত।”
নাদিয়া মুরাদ বলেন, মসুলে ২০ লাখ মানুষের বাস। দুই হাজার মেয়েকে আটকে রেখেছিল জঙ্গিরা। মসুলের বাসিন্দারা কেউ এগিয়ে আসেননি তাদের উদ্ধারে। যারা এগিয়ে এসেছিলেন তারা হাজার হাজার ডলার দাবি করছিলেন। বন্দি থাকাকালীন ইউরোপ, সৌদি আরব, তিউনিশিয়া থেকে একের পর এক জঙ্গি আসতো, আর নিয়মিত ধর্ষণ করত তাকে। ধর্ষণের আগে প্রার্থনাও করিয়ে নেয়া হতো।
তিনি বলেন, আমাদের জন্য, বিশেষ করে ইয়াজিদিদের জন্য, তারা (আইএস জঙ্গিরা) পুরুষদের হত্যা করছে এবং নারী ও শিশুদেরকে তাদের আস্তানায় নিয়ে যাচ্ছে। তারা ধর্মের নামে খুন, হত্যা, ধর্ষণ-সহ সব ধরনের অপরাধ করছে।
তিন মাসের বেশি বন্দি ছিলেন নাদিয়া। এই তিন মাসে কত বার ধর্ষিত হয়েছেন, কত বার তাকে মারধর করা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নাদিয়া বলেন, ধর্ষণের আগে তাদের দিয়ে প্রার্থনা করানো হত। তার পর শুরু হত মার, যৌন অত্যাচার, ধর্ষণ। ‘এক এক সময় মনে হত আত্মহত্যা করি। এই অত্যাচার সহ্য করা যায় না। পর ক্ষণেই মনে হত, না, মরব না। বেঁচে থাকব এবং এখান থেকে পালাব।’
পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে কয়েক বার গলা উচিয়ে ছিলেন নাদিয়া। কিন্তু তার পরিণতি আরও ভয়ঙ্কর হল। ছোট্ট অন্ধকার কুঠুরিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। বন্ধ করে দেওয়া হল খাবার। তবে মারধর আর ধর্ষণ কিন্তু থেমে থাকেনি।
থেনে থাকেননি নাদিয়াও। প্রতি মুহূর্তেই তিনি ছক কষেছেন কী ভাবে পালানো যায়। প্রথম বার পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। তার পর ছ’জন মিলে ধর্ষণ করতে থাকে নাদিয়াকে, তত ক্ষণ পর্যন্ত মনে আছে, যত ক্ষণ না পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত পালাতে পারেন নাদিয়া। অগস্টে অপহৃত হয়েছিলেন। পালাতে পারলেন নভেম্বরে। পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় পান এক জার্মান অ্যাসাইলামে। চিকিত্সা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হলেন শারীরিক ভাবে। কিন্তু মানসিক অবস্থা পৌঁছেছিল একেবারে তলানিতে। এই অবস্থা থেকে তাকে আলোর পথ দেখান আমল ক্লুনি নামে এক মহিলা আইনজীবী। ক্লুনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মী। নাদিয়ার মতো আরও অনেক নারী যারা আইএস-এর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের পরিস্থিতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একটি মামলা করেন।
এর পর থেকে নাদিয়াওকাজ শুরু করেন তারই মতো অত্যাচারিত, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের নিয়ে। আর সেই কাজেরই জন্য নাদিয়া মুরাদকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের গুডউইল অ্যাম্বাসাডর করে জাতিসংঘ। আর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আজ তিনি যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করলেন।
শান্তিতে নোবেল জয়ী নাদিয়া মুরাদ এখন অপ্রতিরোধ্য ও মানসিক শক্তিতে বলীয়ান। যৌনদাসী থেকেএক পর্যায়ে এসে নোবেল পাওয়া মুরাদ তীব্র মনোবলেরই প্রতিচ্ছবি।
- কীসের আশঙ্কায় খাবার ও পানি মজুতের পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ
- এআইভিত্তিক কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আনল গিগাবাইট
- কুমিল্লার ব্লু ওয়াটার পার্কে দুই দিনের আনন্দভ্রমণ
- শিশু সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল : ৯ মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড
- গাজীপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ঢাকা-টাঙ্গাইল যান চলাচল বন্ধ
- এলপিজির দাম বেড়ে আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে
- চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিনের ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ
- নব্বই দশকের প্রেম-স্মৃতি নিয়ে কোয়েলের নতুন যাত্রা
- বনানীতে আগুনে দগ্ধ ফিলিপাইনের নারী মারা গেছেন
- জেল হত্যা দিবস: শোক ও বেদনায় জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ
- মারুফাকে ছাড়া নারী টি-টোয়েন্টি দল
- স্কুল খোলার পর ফ্রান্সে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- সেই বীথি এখন হেড কোচ, স্বপ্নের পরিসর আরও বড়
- ১২০ কিমি গতিতে অন্ধ্র উপকূলে ‘মুরাসু’র আঘাত
- বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ইলিয়ানা
- কীসের আশঙ্কায় খাবার ও পানি মজুতের পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ
- কুমিল্লার ব্লু ওয়াটার পার্কে দুই দিনের আনন্দভ্রমণ
- চলতি সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি
- মিরপুরে সড়কে নামার চেষ্টা শ্রমিকদের, পুলিশের ধাওয়া
- চার মাসে রপ্তানি আয় ছাড়াল ১৭ বিলিয়ন ডলার
- ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯
- ‘স্বর্ণের ডিম’ আবুধাবিতে ফেরত নেওয়ার পথে আটক
- অভাব-অনটন জয় করে যমজ দুই বোন পেলেন জিপিএ-৫
- গাজীপুরে আজও শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর
- এলপিজির দাম বেড়ে আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে
- মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ
- টানা ৪ দিন গ্যাস সংকটে ভুগবে ঢাকাসহ সারাদেশ
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’, সর্বশেষ যা জানা গেল
- সোনার শহরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সোনার রাস্তা











