ঢাকা, শনিবার ১৪, মার্চ ২০২৬ ৩:৪৬:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড বইমেলা, বিপাকে পাঠক-প্রকাশক মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ারে গেলেন প্রধানমন্ত্রী দ্রুতই চালু হবে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী রকমারি ইফতারে জমজমাট রাজধানী, স্বাদ-ঐতিহ্যের মিলনমেলা ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু, নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তীব্র হামলা, লক্ষ্য দুবাই, সৌদি ও কাতার

রকমারি ইফতারে জমজমাট রাজধানী, স্বাদ-ঐতিহ্যের মিলনমেলা

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৪৯ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

রকমারি ইফতারে জমজমাট রাজধানী, স্বাদ আর ঐতিহ্যের মিলনমেলা

রকমারি ইফতারে জমজমাট রাজধানী, স্বাদ আর ঐতিহ্যের মিলনমেলা

রমজান এলেই রাজধানী ঢাকার অলিগলি, মার্কেট এলাকা ও ব্যস্ত সড়কের পাশে বসে নানা ধরনের ইফতারের পসরা। বিকেল গড়াতেই ভাজাভুজির গন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। চপ, বেগুনি, পিয়াজু থেকে শুরু করে কাবাব, হালিম, জিলাপি—রকমারি ইফতার আইটেমে জমে ওঠে বাজার। ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকার ইফতার বাজার।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিকেল চারটার পর থেকেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারে ইফতার আয়োজনের জন্য অনেকেই বাড়ির বাইরে থেকে নানা ধরনের খাবার কিনে নিচ্ছেন।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার

ইফতারের কথা উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে পুরান ঢাকা–র ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজারের কথা। এখানে প্রতিদিন বিকেলে তৈরি হয় নানা ধরনের বিশেষ খাবার।

বোরহানি, কাবাব, মুরগির রোস্ট, নেহারি, হালিম, বুটি কাবাব, চিকেন গ্রিলসহ নানা ধরনের খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। এছাড়া জিলাপি, বাদামি জিলাপি, বাখরখানি, শাহী পরোটা ও বিভিন্ন মিষ্টান্নও ক্রেতাদের আকর্ষণ করে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে প্রতিদিনই বিক্রি ভালো থাকে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা আরও বেশি হয়।

ফুটপাতের ইফতার বাজার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতেও বসে ছোট ছোট ইফতার দোকান। বিশেষ করে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও নিউ মার্কেট এলাকাগুলোতে বিকেল হলেই জমে ওঠে ইফতার বাজার।

এসব বাজারে দেখা যায়—পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডিম চপ, মুগ ডালের বড়া, চিকেন রোল, সিঙ্গারা, সমুচা, হালিম, ফালুদা ও শরবতসহ নানা ধরনের খাবার।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই তারা ইফতার প্রস্তুতির কাজ শুরু করেন। বিকেল চারটার দিকে সব আইটেম সাজিয়ে রাখা হয়।

পণ্যের দাম

বাজারে পিয়াজু ও বেগুনি প্রতিটি ১০–১৫ টাকা, আলুর চপ ১৫–২০ টাকা, ডিম চপ ৩০–৩৫ টাকা এবং চিকেন রোল ৪০–৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

হালিম প্রতি বাটি ৮০–১০০ টাকা, জিলাপি প্রতি কেজি ২৮০–৩২০ টাকা এবং শরবত প্রতি গ্লাস ২০–৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ভিড়

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এলাকায় ইফতার কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “রোজায় প্রতিদিন সবকিছু ঘরে তৈরি করা সম্ভব হয় না। তাই বাজার থেকে কিছু আইটেম কিনে নেই।”

আরেক ক্রেতা বলেন, “বাচ্চারা ভাজাপোড়া বেশি পছন্দ করে। তাই পিয়াজু, বেগুনি, জিলাপি এসব কিনতেই হয়।”

বিক্রেতাদের কথা

একজন বিক্রেতা জানান, রমজান এলেই তাদের ব্যবসা বাড়ে। প্রতিদিন বিকেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশিরভাগ খাবার বিক্রি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন তাজা খাবার তৈরি করি। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় বিক্রিও ভালো হয়।”

স্বাস্থ্য ঝুঁকির সতর্কতা

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তার পাশের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার না খেয়ে ফল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রমজানে রাজধানীর ইফতার বাজার শুধু খাবার কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি যেন এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশও তৈরি করে। রকমারি ইফতারের স্বাদ নিতে প্রতিদিনই নগরবাসী ভিড় করছেন এসব বাজারে।