ঢাকা, রবিবার ২৯, মার্চ ২০২৬ ১৯:০৯:৪৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টিউলিপকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ ১১ জেলার ডিসি প্রত্যাহার, নতুন ডিসি নিয়োগ কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত পর্যটন খাত উন্নয়নে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্ববাজারের প্রভাব, দোলাচলে সোনার দাম ইরানে একদিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড

রাজধানীতে হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৩:২৪ পিএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার

রাজধানীতে হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। পরিস্থিতি এখনো মহামারী আকার ধারণ না করলেও উদ্বিগ্ন নগরবাসী। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর সাথে সাথে সিটি করপোরেশনগুলোকেও উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর হঠাৎ করেই রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, হাতিরপুল, আজিমপুর কলোনি, পুরাতন ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাসাবো, খিলগাঁও, মানিকনগর ও যাত্রাবাড়িতে এর প্রকোপ বেশি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কমবেশি ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম। ঘনঘন বৃষ্টিপাতে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা বংশ বিস্তার করে থাকে। শীত আসার আগ পর্যন্ত এই জ্বরের প্রাদুর্ভাব থাকবে। শীতকালে এডিস মশা তেমন একটা বংশ বিস্তার করে না। এ কারণে শীত মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরে তেমন কেউ আক্রান্ত হয় না। এ বছর এ পর্যন্ত ১০ জন ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে।

 

ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত দুই ধরনের। ক্ল্যাসিক ও হেমোরেজিক ডেঙ্গু। হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্তর সংখ্যাই বেশি। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে হেমোরেজিকের সংখ্যা বেশি। এটাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। ডেঙ্গু জ্বরে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 


এদিকে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, মশার কোনো বাউন্ডারি নেই, এক জায়গার মশা অন্য জায়গাতে উড়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যেভাবে এগিয়ে এসেছে অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়ররাও এভাবেই এগিয়ে আসবে বলে আমার প্রত্যাশা।

 

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উত্তর সিটি করপোরেশনও একই উদ্যোগ না নিলে ভেস্তে যাবে মূল উদ্দেশ্য।


রাজধানীতে বিগত দুই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ১ হাজার ৭৩১ জন। এর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বর্ষার সময়টা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে বলে জানান তারা। এই সময়ে একদিনের বেশি জ্বর থাকলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

 

এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস ছড়ায়। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস আছে। এগুলো হলো ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। এবার সবচেয়ে ঝুঁকি বেশি হেমোরেজিক। সঠিক চিকিত্সা পদ্ধতি গ্রহণ করা না হলে এতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

 

এদিকে ডেঙ্গু বেশি দেখা দিলেও এবার চিকুনগুনিয়ার তেমন প্রাদুর্ভাব নেই। কারণ কারো একবার চিকুনগুনিয়া হলে দ্বিতীয়বার আর হয় না। গত বছর ব্যাপক হারে চিকুনগুনিয়া হয়েছিল। তবে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু হয় একই মশার কামড়ে। 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এ বছর ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৮৪ জন। এরমধ্যে কেবল জুলাই ও আগস্ট মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭৩১জন। জুলাই মাসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন ৮৬৪ জন, আর আগস্টে ৮৬৭ জন চিকিৎসা নেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যে ৯ জন রোগীর মৃত্যুর খবর রোগ তত্ত্ব বিভাগে আছে, তাদের ৬ জনই মারা গেছে এই দুই মাসে।

 


হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার বাইরেও ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগী আছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। মশাবাহিত এই রোগ মুক্ত থাকতে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। জ্বর হলেই পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ব্যথার ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ও চিকিত্সক অনুষদের ডিন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জানান, সঠিকভাবে চিকিত্সা করা হলে সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত প্রায় শতভাগ রোগীই ভালো হয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, যদিও বলা হয় যে ডেঙ্গু হেমোরেজিকে মৃত্যুর হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে নিজ অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে এই হার ১ শতাংশেরও কম। তাই ডেঙ্গু নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

 

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় দিন থাকে এবং তারপর জ্বর সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো দুই বা তিন দিন পর আবার জ্বর আসতে পারে। জ্বর কমে গেলে বা ভালো হয়ে গেলে অনেক রোগী এমনকি অনেক চিকিত্সকও মনে করেন যে রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে গেছে।

 

তিনি আরো বলেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু জ্বরে মারাত্মক সমস্যা হওয়ার সময় এটাই। এ সময় প্লাটিলেট কাউন্ট কমে যায় এবং রক্তক্ষরণসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী কিছুদিনকে তাই বলা হয় ঝুকিপূর্ণ সময়। এ সময়টাতে সবারই সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।