রেমডেসিভির ঔষধের প্রচারণায় সতর্ক হবার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
ডেস্ক রিপোর্ট | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ১২:০৭ পিএম, ১০ মে ২০২০ রবিবার
ছবি: ইন্টারনেট
যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়ার্ড সায়েন্স কোম্পানির অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ কোভিড-১৯-এর চিকিৎসায় এমারজেন্সি ভিত্তিতে রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন।
এরপর বাংলাদেশেও আটটি কোম্পানি এ ঔষধ তৈরি করার অনুমোদন পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, রেমডেসিভিরকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে একমাত্র ঔষধ হিসেবে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টা আসলে সে রকম নয়।
গবেষণার বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেখা গেছে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে এ ঔষধ ব্যবহার করা হয়েছে তারা ১১ দিনে সুস্থ হয়েছে এবং যাদের ক্ষেত্রে এ ঔষধ ব্যবহার করা হয়নি তারা ১৫ দিনে সুস্থ হয়েছে। পার্থক্যটা শুধু এখানেই।
রেমডেসিভির নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছিল – সার্স করোনা, মার্স করোনা এবং ইবোলা ভাইরাসের বিপক্ষে। তখন এ ঔষধ কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত এফডিএ’র অনুমোদন পায়নি। এবার রেমডেসিভির নিয়ে প্রথম গবেষণাটি হয়েছিল চীনে। কিন্তু চীন বলেছিল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এ ঔষধ কার্যকরী নয়।
ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক রাজদৌলা রাফি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, কোভিড১৯ রোগীর মৃত্যু ঠেকাতে এই ঔষধ কার্যকরী নয়। যারা সুস্থ হবে তাদের শুধু চারদিন হাসপাতালে কম থাকতে হবে। পার্থক্যটা এখানেই বলে উল্লেখ করেন মি: রাফি।
তিনি বলেন, “চীনের সেই গবেষণা ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এ ঔষধ কার্যকরী না।”
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়ার্ড সায়েন্স আরেকটা ইনফিউশন তৈরি করে। এটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করা হয়। এই গবেষণা ১০৬০ জন রোগীর উপর করা হয়। এখানে দুটি ভাগ করা হয়। একটি দলকে রেমডিসিভির দেয়া হয়েছিল, অপর দলটিকে রেমডেসিভির দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, যাদের রেমডিসিভির দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশ তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়েছে। দেখা গেছে, যাদের ১৫ দিনে সুস্থ হবার কথা তারা ১১ দিনে সুস্থ হয়েছে। অন্যদিকে যাদের ক্ষেত্রে রেসডেসিভির দেয়া হয়নি তারা স্বাভাবিকভাবে ১৫ দিনে সুস্থ হয়েছে।
কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মৃত্যুর হারে তেমন একটা তারতম্য দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“যারা খুব বেশি সিভিয়ার কন্ডিশনে যাবে, মারা যাবার অবস্থায় যাবে, তাদের ক্ষেত্রে এটা কোন কাজ করবে না,” বলছিলেন মি: রাফি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে যেসব কোম্পানি রেমডেসিভির ঔষধ তৈরি করছে তাদের কেউ-কেউ এর পক্ষে জোরালো প্রচারণা করে এমন একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করছে যে রেমডেসিভির ব্যবহার করলেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, একটি ঔষধ কতটা কার্যকরী সেটা বোঝার জন্য যেসব বৈজ্ঞানিক ধাপ পার করতে হয়, রেমডেসিভির-এর ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। এ ধাপগুলো হচ্ছে:
১. প্রথমত ঔষধটাকে চিহ্নিত করা
২. ঔষধটা কার্যকর কি না সেটা দেখা। এজন্য প্রাণীর উপর গবেষণা করা হয়।
৩. বাজারে অন্যান্য ঔষধগুলোর সাথে কার্যকারিতা তুলনা করা
৪. ঔষধটির কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া আছে কি না সেটি দেখা।
মি: বেন্নুর বলেন, উপরিউক্ত কাজগুলো করতে অন্তত ১৬ মাস সময়ের প্রয়োজন।
“কিন্তু বর্তমানে এমন একটা জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, এই ঔষধটাকে (রেমডেসিভির) দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাপ পরীক্ষার পরেই আপাতত একটা অন্তর্বর্তীকালীন অনুমোদন দেয়া হয়েছে,” বলছিলেন মি: বেন্নুর।
“এটা ব্যবহার করলেই যে কোভিড১৯ সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে, এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আমার অন্তত জানা নেই।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেমডেসিভির সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য দেয়াটা খুব জরুরি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক রাজদৌলা রাফি বলেন, আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন রেমডেসিভিরকে এমারজেন্সি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, এ ঔষধের উপর মানুষ পুরোপুরি নির্ভর ক’রে বেশি আশাবাদী হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
“আমরা যদি মানুষকে ফলস হোপ (মিথ্যা আশা) দেই, মানুষকে যদি বলি যে করোনার বিপক্ষে রেমডিসিভির একমাত্র ঔষধ, তাহলে মানুষ আসলে ভুল পথে ধাবিত হবে,” বলেন মি: রাফি।
“আমাদের দেশে মানুষের এমনিতেই সচেতনতা কম। এটার মাধ্যমে যদি আমারা একটা ফলস হোপ দেই, তাহলে মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখা যাবে না। “
তিনি বলেন, রেমডেসিভির সম্পর্কে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টা ততটা কার্যকরী না। সূত্র: বিবিসি বাংলা
-জেডসি
- গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের
- স্পিকারের স্ত্রীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
- ডানায় রঙের মায়া, প্রজাপতির বিস্ময়কর জগৎ
- সুলতানা কামাল: সবুজ মাঠ থেকে স্বপ্নের উড়ান
- রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, বৃষ্টির সম্ভাবনা
- তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন, নজরদারি জোরদার
- রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবন শেষ পদ্মায়
- স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী মারা গেছেন
- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সব দায় নারীর কাঁধে, নীতিতে ফাঁকফোকর
- ডিমের বাজারে অস্থিরতা: পাইকারদের অভিযোগ
- দেশের বাজারে এবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার
- দেশের ১৯ জেলায় ঝড়ের সতর্কবার্তা
- টাঙ্গাইলে ট্রেনের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন নিহত
- ছোট গল্প : নিঃশব্দ শহরে এক অদ্ভূত ফড়িং
- রাজধানীর আকাশ আজ মেঘলা, বৃষ্টির সম্ভাবনা
- কমছে মাছ-মুরগির দাম, শাক-সবজির বাজারে স্বস্তি
- দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম
- গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু আজ, লড়ছেন ২৫ হাজার ভর্তিচ্ছু
- ঈদযাত্রার ১২ দিনে প্রাণ গেল ২৪১ জনের
- দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর, অল্পের জন্য রক্ষা মমতার বিমান
- ছোট গল্প : নিঃশব্দ শহরে এক অদ্ভূত ফড়িং
- রাজধানীতে সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রকোপ
- বসন্তে রঙিন বাংলার প্রকৃতি—ফুলের মেলায় সাজে দেশ
- শপথ নিলেন নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
- দুপুরের মধ্যে ৪ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
- ঢাকা বিমানবন্দরে ২৮ দিনে ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল
- আমার এলাকায় ওয়াজো হবে, কীর্তন-বাউল গানও হবে: রুমিন ফারহানা
- রঙবেরঙের ফড়িং—ডানায় ভর করে রঙিন স্বপ্ন
- ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল ২৫%




