ঢাকা, শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬ ১৭:৪৮:৫৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
থাই রাজকুমারী দেব্যাভতি মারা গেছেন বাজারে দাম চড়া, ক্রেতাদের ভোগান্তি চলছেই আজ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু তিন লাল কার্ডের উদ্বোধনী ম্যাচ জিতল মেক্সিকো বাজেটে কমেছে ও বেড়েছে যেসব পণ্যের দাম সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কমছে না আলুর দাম

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১৫ পিএম, ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে।

ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ ঘিরে যখন উৎসবে মেতেছে মেক্সিকো, তখন সেই উন্মাদনার অংশ হতে দেখা গেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন উপলক্ষে তিনি মেক্সিকো সিটির একটি ফ্যান ফেস্টে উপস্থিত হয়ে সমর্থকদের সঙ্গে খেলা উপভোগ করেন এবং জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন জানান। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের আবহে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এনেছে সেই নারীকে, যিনি ইতিহাস গড়ে মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞানী থেকে রাষ্ট্রনায়ক

ক্লাউদিয়া শেইনবাউম পার্দোর জন্ম ১৯৬২ সালের ২৪ জুন, মেক্সিকো সিটিতে। তাঁর পরিবার ছিল শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন। বাবা কার্লোস শেইনবাউম ছিলেন একজন রসায়ন প্রকৌশলী এবং মা অ্যানি পার্দো ছিলেন জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক।

শৈশব থেকেই মেধাবী শেইনবাউম মেক্সিকোর বিখ্যাত National Autonomous University of Mexico (ইউএনএএম) থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। পরে জ্বালানি ও পরিবেশ প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। গবেষক হিসেবে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা Intergovernmental Panel on Climate Change-এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। ২০০৭ সালে আইপিসিসি যখন শান্তিতে Nobel Peace Prize লাভ করে, তখন ওই গবেষণা দলের একজন সদস্য ছিলেন তিনি।

রাজনীতিতে উত্থান

শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন শেইনবাউম। ২০০০ সালে মেক্সিকো সিটির তৎকালীন মেয়র Andrés Manuel López Obrador তাঁকে পরিবেশবিষয়ক দায়িত্বে নিয়োগ দেন।

এরপর ধীরে ধীরে তিনি মেক্সিকোর বামঘরানার রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালে তিনি মেক্সিকো সিটির তালপান (Tlalpan) এলাকার মেয়র নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালে ইতিহাস গড়ে মেক্সিকো সিটির প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হন। রাজধানীর গণপরিবহন উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি মেক্সিকোর ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

তাঁর বিজয় শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, লাতিন আমেরিকায় নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

কেন এত জনপ্রিয়?

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন শেইনবাউম। ফলে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে তাঁর অনুমোদনের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বামপন্থী নেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট লোপেজ ওব্রাদরের সামাজিক কল্যাণনীতি বজায় রাখার পাশাপাশি নিজের প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তববাদী নেতৃত্বের কারণে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।

সাফল্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়

তবে তাঁর পথ একেবারে মসৃণ নয়। মাদকচক্রের সহিংসতা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের রহস্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক—এসব বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাঁকে।

বিশেষ করে মেক্সিকোর দীর্ঘদিনের মাদক-সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার কারণে জনপ্রিয়তা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

নারী নেতৃত্বের নতুন প্রতীক

ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের গল্প শুধু একজন রাজনীতিকের সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন বিজ্ঞানীর রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হওয়ার গল্প, একজন নারীর পুরুষশাসিত রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছানোর গল্প।

আজ বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসে সমর্থকদের মাঝে উপস্থিত সেই নারীকে অনেক মেক্সিকান শুধু প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দেখেন না; তাঁরা তাঁকে আধুনিক, প্রগতিশীল ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচনা করেন। আর সে কারণেই ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এখন শুধু মেক্সিকোর নয়, বিশ্ব রাজনীতিরও অন্যতম আলোচিত নাম।