ঢাকা, মঙ্গলবার ৩০, জুন ২০২৬ ৭:৩২:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্য প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, কিশোরী গ্রেপ্তার ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নিউজার্সির গভর্নর ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৫০০

শ্রীলঙ্কায় ২০দিনের মুসলিম শিশুর লাশ দাহ, ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:০১ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

শ্রীলঙ্কায় ২০ দিনের মুসলিম শিশুর লাশ দাহ, ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলমানরা

শ্রীলঙ্কায় ২০ দিনের মুসলিম শিশুর লাশ দাহ, ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলমানরা

রাজধানী কলম্বোতে গত ৯ ডিসেম্বর ২০ দিন বয়সী একটি মুসলিম শিশুকে বাবা-মায়ের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও দাহ করার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।

ওই ঘটনায় শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বিশ্বের আরও অনেক দেশ থেকে ক্ষোভ ও নিন্দার খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

কোভিড-১৯ রোগে মরলেই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় এমনিতেই নাখোশ। তাদের কথা, গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় স্পর্শকাতরতাকে ইচ্ছা করে অবজ্ঞা করছে।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ১০৭ জন মুসলমানকে জোর করে দাহ করা হয়েছে।

কোভিডে আক্রান্ত সন্দেহে মৃত শেখ নামের শিশুটিকে জোর করে দাহ করার ঘটনা মুসলিমদের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে।

কলম্বোর যে ক্রিমেটোরিয়াম বা দাহ করার স্থানে শিশুটিকে দাহ করা হয়, সেখানে মুসলিমরা রোববার দলে দলে হাজির হয়ে দেয়ালে গেটে সাদা ফিতা ঝুলিয়ে দেয়। সারা শ্রীলঙ্কা জুড়েই বহু মুসলমান তাদের দরজা-জানালায়-দেয়ালে সাদা ফিতা বেঁধে প্রতিবাদ করছে।

প্রতিবাদ চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘স্টপফোর্সডক্রিমেশন‘ এই হ্যাশট্যাগে।

আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেও প্রবাসী শ্রীলঙ্কান মুসলমানেরা বিক্ষোভ করেছেন। তাদের সাথে যোগ দেন অন্য দেশের মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীরা। চারজন ব্রিটিশ এমপি এক যৌথ বিবৃতিতে দাহ করার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারে শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ দিতে ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ করেছেন।
মুসলমানদের প্রতিবাদ

এছাড়া, ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসি গত সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত বিবৃতি জারী করে মুসলিমদের দাহ করার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি করছে।

শিশু শেখের দাহ :

কলম্বোর এক দরিদ্র মুসলমান দম্পতির যে শিশুর মরদেহ জোর করে দাহ করা হয়, তার কোভিড হয়েছিল কিনা সে বিতর্কের এখনও সুরাহা হয়নি।

ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিবিসি সিনহলা ভাষা বিভাগের সরোজ পাথিরানা কথা বলেন শিশুটির বাবা অটোচালক মোহাম্মদ ফাহিমের সাথে।

মোহাম্মদ ফাহিম এবং তার স্ত্রী সাফিনা ছয় বছর চেষ্টার পর ছেলের জন্ম হওয়ায় খুশি হয়েছিলেন প্রচন্ড। ৭ ডিসেম্বর বাচ্চাটি অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত তাকে তারা কলম্বোর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

কোভিড সনাক্ত করতে ডাক্তাররা সেই রাতেই তিনজনের শরীরে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করেন। ফাহিম এবং সাফিনা করোনাভাইরাস নেগেটিভ হিসেবে শনাক্ত হলেও তাদের বাচ্চা পজিটিভ বলে জানানো হয়। ডাক্তাররা বাচ্চাটিকে রেখে রাতেই জোর করে বাবা-মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

মোহাম্মদ ফাহিম বিবিসিকে বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী কান্নাকাটি করেছি যেন আমাদের বাচ্চার পাশে থাকতে দেয়া হয়। তারা তা দেয়নি।

পরদিন অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, শিশুটি কোভিডে মারা গেছে। ফাহিম এখনও মানতে চান না যে তার বাচ্চার আসলেই কোভিড হয়েছিল। তার কথা, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই যেখানে নেগেটিভ, বাচ্চার কীভাবে কোভিড হয়।

শুধু অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া সিদ্ধান্ত তিনি মানছেন না।

কিন্তু শুধু সন্তানের মৃত্যুই নয়, যেভাবে জোর করে তাদের আপত্তি পায়ে ঠেলে ২০ দিনের বাচ্চাকে দাহ করা হয়েছে, তা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ পুরো পরিবার। দেশে-বিদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, বাচ্চার মরদেহ নিতে বাবা-মা অস্বীকার করার পর দাহ করার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মোহাম্মদ ফাহিম অবশ্য বিবিসিকে বলেন, হাসপাতালের কথা ‘ডাহা মিথ্যা’। বরঞ্চ তাকে ডেকে নিয়ে জোর করে কাগজে সই করার জন্য চাপ দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, দাহ করার আগ মূহুর্তে তাকে ফোন করে ক্রিমেটোরিয়ামে আসতে বলা হয়। তিনি গিয়েছিলেন, কিন্তু ভেতরে ঢোকেননি।

টেলিফোনে বিবিসির সরোজ পাথিরানাকে মোহাম্মদ ফাহিম বলেন,‘আমি কী করে দেখবো, আমার ২০ দিনের বাচ্চাকে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন কষ্ট যেন আর কাউকে সহ্য করতে না হয়,’।