ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬ ১৭:০৪:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী ড্রেসিংরুমে আবেগঘন চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লো ইরান দল ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ২ শিশুর মৃত্যু নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন রেকর্ডের মুকুটে মেসি

তিব্বতেও এবার পৌঁছে গেছে হাইস্পিড ট্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:২৫ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

‘পৃথিবীর স্বর্গ’ বললেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বরফেঢাকা পাহাড়, মেঘে ঢাকা উপত্যকা আর শান্ত নীল আকাশের ছবি। চীনের সিচাং, বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এই স্থানকে তিব্বত নামেই চেনে।

শত শত বছর ধরে রহস্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই অঞ্চল এখন নতুন এক পরিবর্তনের সাক্ষী। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ আর মেঘ ছোঁয়া উপত্যকার মাঝ দিয়ে এখন ছুটে চলছে আধুনিক হাইস্পিড ট্রেন।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মালভূমি অঞ্চল বহু বছর ধরেই ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জের কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নে পিছিয়ে ছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৪ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই অঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে রেললাইন বসানো পর্যন্ত সবকিছুই ছিল কঠিন এক যুদ্ধ। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে চীন।

এখন লাসার পাহাড়ি উপত্যকা পেরিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন ছুটে চলে আধুনিক স্টেশনের দিকে। বিশেষ করে সিচুয়ান-তিব্বত রেলপথ এবং লাসাকেন্দ্রিক রেল যোগাযোগকে ঘিরে নতুন করে বদলে যাচ্ছে পুরো অঞ্চলটির অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা। জানালার পাশে বসলে দেখা যায়, একদিকে বরফে ঢাকা পাহাড়, অন্যদিকে আঁকাবাঁকা নদী। আর সেই প্রকৃতির বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে চকচকে আধুনিক ট্রেন।

এই রেলপথ শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও নতুন গতি দিয়েছে। পর্যটন শিল্পের পরিধি বেড়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হয়েছে, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পরিবহন এখন অনেক দ্রুত হচ্ছে। আগে যেখানে কয়েকদিন সময় লাগত, এখন অনেক পথ ঘণ্টার ব্যবধানে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষ করে লাসা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত ও আধুনিক এক শহর। নতুন আবাসন, আধুনিক সড়ক, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং পর্যটন অবকাঠামো বদলে দিয়েছে শহরটির চিত্র। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন। অনেকেই ট্রেনে করে সিচাংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখেন। অনেকের কাছে এই রেলপথ এখন শুধু পরিবহন নয়, বরং একটি অসাধারণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মালভূমিতে রেল চলাচল অবশ্য সহজ কাজ ছিল না। প্রকৌশলীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কম অক্সিজেন এবং হিমশীতল আবহাওয়া। এখানের আবহাওয়া এমন যে ক্ষণে ক্ষণে তা বদলে যায় । এসব স্থানে কাজ করা প্রকৌশলীদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই রেল লাইন নির্মান করতে অনেক জায়গায় সুড়ঙ্গ কেটে পাহাড় ভেদ করতে হয়েছে, আবার কোথাও তৈরি করতে হয়েছে বিশাল সেতু। 

আজ তিব্বতের পাহাড়ে শুধু প্রার্থনার ঘণ্টাধ্বনি নয়, শোনা যায় দ্রুতগতির ট্রেনের ছন্দও। যে অঞ্চল একসময় ছিল বিচ্ছিন্ন, এখন সেই অঞ্চলই আধুনিক প্রযুক্তি আর উন্নয়নের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠছে। বরফে ঢাকা পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলা সেই ট্রেন যেন জানিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবীর স্বর্গেও পৌঁছে গেছে আধুনিকতার নতুন অধ্যায়।

এই বিভাগের জনপ্রিয়