ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৯:৫০:০০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

স্কুলভ্যান : শিশুর মরনফাঁদ

আপডেট: ০৬:৫৭ এএম, ২ নভেম্বর ২০১৩ শনিবার

school vanসোমা দেব, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : রাজধানীতে প্রতিদিন প্রিজন ভ্যানের মতো রিকশাভ্যানে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে শিশুরা৷ অনুমতিবিহীন এসব যান চলছে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলো দিয়ে৷ এ সড়কগুলোতে চলাচল করছে বাস, প্রাইভেট কারসহ নানা মটরযান৷ ফলে সামান্য অসতর্কতার কারণে যে কোনও সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেড়ে নিতে পারে কোমলমতি শিশুর জীবন৷ এ ধরনের রিকশাভ্যানে করে এভাবে ছাত্রছাত্রী বহন আইনের পরিপন্থি হলেও প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসেনি৷ ফলে দিন দিন বড়েই চলছে এ ধরনের ভ্যানে ছাত্রছাত্রী যাতায়াত৷ জানা গেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা সিটি করপোরেশনের কোনও নিয়ম না মেনেই এক শ্রেণীর অসাধু ভ্যান ব্যবসায়ী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত৷ অভিভাবকরাও নিরুপায় হয়ে যাতায়াতের জন্য বাচ্চাদের মাসিক ভিত্তিতে তুলে দিচ্ছেন এসব ভ্যানগাড়িতে৷ বিভিন্ন স্কুল ও কোচিং সেন্টারের ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা জীবন বাজি রেখে প্রতিদিন তিন চাকার এ রিকশাভ্যানে চড়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করছে৷ এক সঙ্গে গাদাগাদি করে ৮/১০ জন শিক্ষার্থী বসে থাকে জেলখানার মতো বন্দি হয়ে৷ জানা গেছে রাজধানীর ২৪টি সরকারি স্কুল, অসংখ্য বেসরকারি স্কুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোর অধিকাংশেরই শিশুদের পরিবহণের জন্য নিজস্ব কোনও পরিবহন ব্যবস্থা নেই৷ ফলে ঢাকা শহরের প্রায় সব স্কুলেই গড়ে উঠেছে ভ্যান কালচার৷ এসব ভ্যানে চাপাচাপি করেই যাতায়াত করছে স্কুল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফলে সড়ক দূর্ঘটনাসহ নানা রকম হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন স্কুলের লাখ লাখ শিক্ষার্থী। রাজধানীতে কতটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে কিংবা কতগুলো কোচিং সেন্টার রয়েছে তার সঠিক কোনও পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি৷ তবে ঢাকা শহরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই নিয়মিত ভ্যানগাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়৷ ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, একটি ভ্যানে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে ভ্যানগাড়িতে চড়ার কারণে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়৷ একজন ড্রাইভারের পক্ষে স্বাচ্ছন্দে এত শিক্ষার্থীকে বহন করা অনেক সময়েই সম্ভব হয় না৷ তাছাড়া রাজধানীর ভাঙ্গাচোড়া রাস্তার কারণে অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা আহত হয়ে বাসায় ফেরে৷ কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছুই করার থাকে না৷ কয়েকজন অভিভাবক জানান, আমরা যারা চাকরি করি তাদের পক্ষে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া সম্ভব না৷ তাই বাধ্য হয়েই ভ্যানে দিতে হয়৷ জানা গেছে, রাজধানীর বেসরকারি দুয়েকটি স্কুলে মিনিবাস বা বাস সার্ভিস থাকলেও সরকারি কোনও স্কুলে বাস সার্ভিস নেই৷ এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণীর ভ্যান ব্যবসায়ী৷ স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও অনুমতি ছাড়াই তারা এ ব্যবসা করছে৷ কিছু অসাধু স্কুল শিক্ষকও এ ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এদিকে ঢাকা সিটি করপোরশন (ডিসিসি) সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের কোনও গাড়ি ব্যবহারের জন্য ডিসিসির কোন অনুমোদন নেই৷ এমনকি এর চালকদেরও কোনও লাইসেন্স নেই৷ অধিকাংশ চালকই রিক্সা চালকদের মতো লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার৷ তবে ঢাকায় এ ধরনের ভ্যানগাড়ির সংখ্যা কত তা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ৷ জানা গেছে রাজধানীর ২৪টি সরকারি স্কুলের কোনটিতেই বাচ্চাদের পরিবহনের ব্যবস্থা নেই৷ স্কুলে যাতায়াতের ব্যাপারে তাই অভিভাবকরাও বাধ্য হয়েই বাচ্চাদের ভ্যান গাড়িতে দিচ্ছেন৷ মাসে একজন অভিভাবককে ভ্যানগাড়ির জন্য গুণতে হয় সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে আরও বেশি৷ একটি ভ্যান একসঙ্গে কম পক্ষে ৮ থেকে ১২টি বাচ্চাকে বহন করে৷ ফলে প্রায়ই এসব বাচ্চাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিসহ বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে থাকে৷ কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রনের জন্য তখন এক ভ্যানচালক ছাড়া আর কেউই থাকে না৷ এ প্রসঙ্গে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা ইসলাম বলেন, এক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়৷ প্রতিটি স্কুলেরই নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকা জরুরী৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তা করার ক্ষমতা অধিকাংশ স্কুলেরই নেই৷ ঘটা করে এক্ষুনি তা করাও সম্ভব নয়৷ তবে ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা করতে পারলে বেশ ভালো হয়৷ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহানারা বেগম বলেন, ভ্যানগাড়ির চালকরা যে সব সময় ভালো থাকে তা নয়৷ আগে স্কুল থেকে বাচ্চা হারিয়ে যেত৷ এখনও মাঝেমধ্যে দেখা যায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা৷ তাই বাচ্চাদের পরিবহনের জন্য ভ্যানগাড়ির বদলে মাইক্রোবাস সার্ভিস চালু করা গেলে ভালো হতো৷ ২ নভেম্বর'২০১৩