ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৫:৫৫:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

অর্থনীতি ও নারী উদ্যোক্তা

আপডেট: ০৯:৩৫ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৪ শুক্রবার

smeমোমিন মেহেদী ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে নারী উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছিল অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাসরুটস উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স বাংলাদেশ৷ তাদের বক্তব্য ছিল বাজেটে ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে৷ সংগঠনের সভাপতি মৌসুমী ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সে সময় বাজেটকে এভাবেই স্বাগত জানায় অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রাসরুটস উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার্স৷ একই সঙ্গে বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ছিল৷ তাদের বক্তব্য ছিল প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেটে ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখার বিষয়টি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হবে৷ এতে নারীদের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে৷ নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে৷ এ ছাড়া বাজেটে নারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার কথা ঘোষণা অত্যন্ত ইতিবাচক৷ তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সব সময়ই গড়িমসি করে এবং শেষ পর্যন্ত এ ধরনের ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়৷ এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন৷ এ ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের বেশি যেন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি ছিল সংগঠনটির৷ দাবির বাস্তবায়ন জরুরি, জরুরি ঋণ নেওয়ার পথটাও সুন্দর ও স্বচ্ছ রাখা৷ আমাদের নারী সমাজের একটি বিরাট অংশ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রাখার যোগ্যতা ও মেধা রাখলেও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায় ঘাটতি থাকায় পিছিয়ে পড়ছে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তারা৷ আমাদের অর্থনীতির রঙিন সময় গড়ে তুলতে হলে সরকারকে হতে হবে বাংলাদেশের নারী উদ্যেক্তাদের জন্য আরো আন্তরিক৷ সুন্দর পরিপাটি অর্থনীতি গড়তে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে৷ তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটেও একটি কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করতে হবে৷ কথাটি হল আমাদের অর্থনীতির একটা মজবুত ভিত্তি গড়ে ওঠার পেছনে মূলত শ্রমিকরাই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন৷ পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে অনেক দায়িত্ব পালন করছেন৷ দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে৷ বিশেষ করে বাংলাদেশের বৃহত্তর শ্রম সংস্থান গার্মেন্টের অধিকাংশ শ্রমিকই নারী৷ নারী শ্রমিকদের কারণেই বাংলাদেশের পক্ষে তৈরি পোশাক শিল্পের এ বৃহত্তর মার্কেট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে৷ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনীতির মূল ধারায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন৷ কিন্তু নারীদের এ বিষয়ে অংশগ্রহণের বাস্তবতা খুবই কম৷ এর পেছনেও নানা কারণ রয়েছে৷ প্রথমত. ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তারা অনেকটাই অবহেলিত৷ তাছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা শঙ্কা৷ এ শঙ্কা কাটাতে তৈরি হতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে, বাংলাদেশ ব্যাংককে৷ 'বাংলাদেশ ব্যাংক নারী ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ পরিচালনায় ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নারী উদ্যোক্তাদের কৃষি ও এসএমই ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিয়েছে৷ এ স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন৷ এ ঋণের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত গ্যারান্টির জামানত হিসেবে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান করবে৷ এরই মধ্যে এ স্কিমের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ২০১০ সালে প্রায় ১৮০৫ কোটি টাকা এবং ২০১১ সালে প্রায় ২০৪৮ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করে৷ ২০১২ সালের এ সময়ের মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রায় ১১২৯ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে৷' বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনেক আশার আলো জ্বলে উঠলেও বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন৷ আমরা বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্য সব সময় কথা এবং কাজের মিল কামনা করি৷ সরকারের এ সহজ শর্তে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের কারণে নারীদের মধ্যে উত্‍সাহ বেড়েছে৷ অনেক নারীই এখন উদ্যোগী হয়েছেন একটা কিছু করতে৷ ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত ৫ হাজার নারী উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন৷ ঋণকৃত এ অর্থ দিয়ে তারা নিজেদের স্বাবলম্বী করার জন্য ছোট ছোট অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যা শুধু তাদের জীবন থেকে দারিদ্র্য নামের অভিশাপ দূর করেনি; দেশের অর্থনীতিতেও সূচনা করেছে নবোদ্যমের কিংবা নবযুগের৷ যার প্রভাব বিস্তার করছে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে৷ তাই নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে৷ এজন্য তাদের উত্‍সাহ-উদ্দীপনা ও সহায়তা করতে হবে৷ সেই সঙ্গে অবহেলিত উত্‍পাদনমুখী খাতগুলো সচল করার প্রচেষ্টায় নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণের পরিমাণ বাড়াতে হবে৷ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩