ঢাকা, রবিবার ২৯, মার্চ ২০২৬ ১৯:২৩:৫০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টিউলিপকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ ১১ জেলার ডিসি প্রত্যাহার, নতুন ডিসি নিয়োগ কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত পর্যটন খাত উন্নয়নে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্ববাজারের প্রভাব, দোলাচলে সোনার দাম ইরানে একদিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস : ঝুঁকিতে দেশের পার্বত্য অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০১:০৪ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আজ বুধবার। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ’ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রস্তুত আমরা’। প্রস্তুতির কথা বলা হলেও এখনো দেশের পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ম্যালেরিয়াপ্রবণ এবং কক্সবাজার মধ্য ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকার প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

এই ঝুঁকির মধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দিবসটির উদ্বোধন করবেন।

 

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে এবং ব্র্যাকের সহযোগিতায় সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

 

এ ছাড়া আজ (বুধবার) দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে।

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বলেন, আমরা যে ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি তাতে নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। এর মধ্যে ২০২১ সালের মধ্যে ১৩টি ম্যালেরিয়াপ্রবণ জেলার বার্ষিক সংক্রমণের হার হাজারে শূন্য দশমিক ৪৬-এর নিচে নামিয়ে আনা। একই সময়ে ১৩টি ম্যালেরিয়াপ্রবণ জেলার আটটিতে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ রোধ করা। ২০২১ সালের মধ্যে ৫১টি জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত নিশ্চিত করা।

 

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের তুলনায় বর্তমানে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে ৬৫ শতাংশ। মৃত্যুহার কমেছে ৯২ শতাংশ। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ম্যালেরিয়াপ্রবণ এবং কক্সবাজার মধ্য ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।  এসব এলাকার প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্য মতে, দেশের মোট ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ৯৩ শতাংশই তিন পার্বত্য জেলায়। ২০১৭ সালের ম্যালেরিয়া রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ রোগীই ফ্যালসিপেরাম জীবাণুঘটিত। যা পরে ম্যালেরিয়া এবং এ রোগে মৃত্যুর জন্য দায়ী। ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে দেশে ৩৯ হাজার ৭১৯ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু ঘটে। ২০১৬ সালে ২৭ হাজার ৭৩৭ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং ১৭ জনের মৃত্যু ঘটে। ২০১৭ সালে ২৯ হাজার ২৩৭ জন আক্রান্ত হয় এবং ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।

 

এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত ২০১৭ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ বিশ্ব ম্যালেরিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৬ সালে ২১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চার লাখ ৪৫ হাজার জনের মৃত্যু ঘটে। যদিও এর আগের বছর এ রোগে মৃতের সংখ্যা ছিল চার লাখ ৪৬ হাজার। ম্যালেরিয়া একটি বাহকবাহিত রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়ার্ল্ড ম্যালেরিয়া রিপোর্ট-২০১৭তে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বে ম্যালেরিয়া নির্মূলে ২০১৬ সালে আনুমানিক ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।