ঢাকা, সোমবার ১৬, মার্চ ২০২৬ ২:৩২:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জমে উঠেছে শেষ সময়ের ঈদ বাজার শেষ হলো বইমেলা; ১৭ দিনে বিক্রি ১৭ কোটি টাকা ওমরাহ ভিসার সময়সীমা নির্ধারণ করল সৌদি আরব জাবি শিক্ষার্থী খুন, পুলিশ হেফাজতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ লাইলাতুল কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বলিউডের আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধু মালহোত্রা মারা গেছেন দেশে ভোজ্য তেলের কোনো সংকট নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

এই স্কুলে শোনা যায় শান্তির ধ্বনি

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০২:২৯ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮ রবিবার

পাকিস্তানের করাচিতে ছোট্টমণিদের জন্যে হিন্দু মন্দিরের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে এক স্কুল! শান্তির শিক্ষা প্রচার করে এই স্কুল৷ নিঃশব্দে, প্রতিদিন৷ করাচির এই স্কুলে প্রতিদিন বাচ্চা পড়ুয়াদের দিন শুরু হয় ‘সালাম’ শুনে৷ আর তাদের শিক্ষিকার দিন শুরু হয় জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে৷ এ এ এক অদ্ভুত সহাবস্থান হিন্দু-মুসলিমের৷ কোথাও কোনও বিরোধ নেই, দ্বেষ নেই, ঘৃণা নেই৷

 


পাকিস্তানের করাচির শেন্টি এলাকায় হিন্দু মন্দিরে বসে স্কুল৷ পড়ুয়ারা প্রত্যেকে হিন্দু৷ তবে শিক্ষিকা মুসলিম৷ হিজাব পড়ে তিনি প্রতিদিন স্কুলে আসেন তার হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে৷ প্রতিদিন তিনি সালাম দেন, বিনিময়ে পান কচিকাঁচাদের কাছ থেকে জয় শ্রী রাম ধ্বনি৷

 

আনুম বেগম নামের এই শিক্ষিকা দক্ষিণ বন্দর শহরের বাস্তি গুরু এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে স্কুল চালান৷ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ছোট ছোট বাচ্চারা তাঁর জীবন৷ তাই তাদের মধ্যেই প্রতিদিন তিনি ঢেলে দেন শিক্ষা, প্রাণ৷ এলাকা জুড়ে ৮০-৯০ ঘর হিন্দু পরিবারের বাস৷ ছোট্ট ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে জীবন কাটে তাদের৷ তবে তাদের সরলতাকে কেড়ে নিতে পারেনি দারিদ্র্য৷ তাই ধর্মের নামে বুজরুকির মলিনতাও বোঝেনা তারা৷ সেই বার্তা নিয়েই হিন্দু শিশুদের পড়িয়ে চলেছেন আনুম৷

 

প্রতিকূলতা আছে৷ মন্দির ভেঙে দেয়ার হুমকিও আছে, তবে নিজের জায়গায় অনড় আনুম৷ সব বাধা টপকে এগিয়ে চলেছেন তিনি৷ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, যাকেই বলা হয়, সেই চমকে যায়৷ এই মন্দিরের মধ্যে স্কুলঘরের কথা শুনে৷ আর আরও চমকে যায় আমি এখানে পড়াই শুনে৷ কিন্তু আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই৷ আর আমরা কোথাও যেতেও চাই না৷

 


মন্দির চত্বরে ক্লাসরুম, সেখানে পড়াচ্ছেন এক হিজাব পরিহিত নারী৷ এই ছবিতে অভ্যস্ত নয় দু’দেশের মানুষ৷ হানাহানি আর ধর্মের মোড়কে রাজনীতি করতে ব্যস্ত রাজনীতিকদের কাছে হয়ত এটা শিক্ষণীয়৷ তবে তারা শিখবেন কি? শিখলে হয়ত দু’দেশের মধ্যবিত্ত মানুষ আরেকটু নিরাপদ জীবন পেতেন৷