ঢাকা, শুক্রবার ৩০, জানুয়ারি ২০২৬ ১:১৮:০৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

এক টাকায় চিকিৎসা সেবা দেন ডা. আসমা

অন্তরা আলম | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৭:৫৭ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

ডা. আসমা আক্তার। তরুণ চিকিৎসক। মাত্র এক টাকায় বিনিময়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন তিনি। তার চিকিৎসার স্থান বেদেপল্লী, হরিজন পল্লী, বিহারি পল্লী কিংবা সুবিধা বঞ্চিত এলাকার মানুষ।

 

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর স্থায়ী বাসিন্দা ডা. আসমা আক্তার। লেখাপড়া করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। ২০১২ সালে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর ২০১৪ সালে বিসিএস পাস করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তার কর্মস্থল ঢাকার মানিকগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

 

ডা. আসমা বলেন, ‘চাকরির পর অবসরের সবটুকো সময় আমি এক টাকার চিকিৎসা সেবায় দিতে চাই। এ কাজ করে যে আনন্দ আমি পাই তা লাখ কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি। আমি একটা সরকারি চাকরি করি, সে টাকায় তৃপ্ত; আর বেশি টাকার প্রয়োজন বোধ করি না। এখানেই আমার সাফল্য অনেক অনেক বেশি বলে মনে হয়।’

 

এ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে। এক টাকায় দুস্থ শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত বছর জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে। তবে এর অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু আরো অনেক আগেই।

 

ডা. আসমা বলেন, দেশের ৮টি জেলায় এবং রাজধানীতে সুবিধা বঞ্চিতদের চিকিৎসা দিয়ে আসছি অনিয়মিত ভাবে। আমরা রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখে দিই। এছাড়া ৩ দিনের ওষুধ রোগীকে বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। আমার প্রথম চিকিৎসার স্থান ছিল মিরপুরের বস্তি এলাকায়। ওইসব এলাকার মানুষজন অসুস্থ হলে ফার্মেসিতে গিয়ে সমস্যা বলে ওষুধ নিয়ে আসে। তাতে করে দেখা যায় ভুল চিকিৎসা হয়। সামান্য জ্বরের জন্যই হয়তো ফার্মেসি থেকে তাকে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেটা দিয়েও হয়তো রোগী সুস্থ হয় না। অভাবি মানুষগুলো টাকা ব্যয় করে ঠিকই; কিন্তু ভুল চিকিৎসার শিকার হন। এই ভুল চিকিৎসা ও হয়রানি থেকে তাদের বাঁচাতে আমাদের শুরু হয় এই এক টাকার চিকিৎসা কার্যক্রম। আমাদের টার্গেট হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধ। কারণ অসুস্থ হলে এই শিশু ও বৃদ্ধদের অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় চিকিৎসার জন্য।

 

ডা. আসমা বলেন, বেদেপল্লীর এক শিশু জন্ম থেকে মাথায় একটা টিউমার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। অভিভাবকরা অভাবের কারণে শিশুটিকে চিকিৎসাকের কাছে নিতে পারছিল না। এক টাকায় চিকিৎসার কথা শুনে শিশুটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসে। শিশুটিকে দেখার পর তার মেডিকেলে ভর্তি থেকে শুরু করে সব চিকিৎসায় অর্থ ব্যয় করে আমাদের বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। শিশুটির অভিভাবকরা বলেছিলেন, দূরে নিয়ে চিকিৎসা নেয়ার মতো ক্ষমতা তাদের নাই।

 

অন্য একটি ঘটনা বলতে গিয়ে ডা. আসমা বলেন, একজন বৃদ্ধ নারী যিনি আমাদের এক টাকার আহারের নিয়মিত ক্রেতা। স্বেচ্ছাসেবকরা হঠাৎ খেয়াল করেন যে, বৃদ্ধা আর খাবার নিতে আসেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তখন তাকে আমরা ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করি। তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দেবার ব্যবস্থা করি। এরপর তিনি সুস্থ হলে আমাদের রাজবাড়ির ‘পারিজাত’ অনাথ বৃদ্ধাশ্রমে রাখা হয়। এখনো সেখানেই আছেন তিনি।

 

ডা. আসমা বলেন, কি করে তৃণমূলের দুস্থ মানুষগুলোকে সুস্থ রাখা যায় সেই চেষ্টাই করছি আমরা। ইচ্ছে আছে যারা জলে বাস করে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার। সরকারি চাকরির পাশাপাশি এটাই আমার প্রাইভেট প্র্যাকটিস।

 

তিনি বলেন, এ কাজে অনেক আনন্দ পাচ্ছি। অসুস্থ অভাবি মানুষগুলো যখন আমার এক টাকার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তখন তারা অন্তর থেকে যে আশির্বাদ করেন সেটা আমার কাছে কোটি টাকার চেয়েও বেশি মনে হয়।