ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৭:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এখন আমার যাওয়ার পালা: প্রধান উপদেষ্টা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ই-ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো এনবিআর ছুটি শেষে ধীরে ধীরে ঢাকাবাসী ফিরছেন ঘরে নতুন সরকারের শপথ কেন বঙ্গভবনের বাইরে? বঙ্গভবনের বদলে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ, ছোট হচ্ছে মন্ত্রিসভা নিউজিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক অ্যামেলিয়া আজ আকাশে দেখা যাবে ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ

এখন আমার যাওয়ার পালা: প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৩ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার অনুরোধে ১৮ মাস আগে আমি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেই। এখন আমার যাওয়ার পালা।’

আজ সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে আপনাদের কিছু কথা বলব। কী মহামুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।’

তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ঠিক করল দেশকে সচল করার জন্য একটি সরকার লাগবে। সরকার গঠন ও চালাবার জন্য তারা আমাকে খবর দিল। আমি তখন বিদেশে। আমি দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে আমাকে রাজি করাল। ১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা। আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে। কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি আসল। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। হারজিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে- এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।’