ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১২:০৩:৫৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৪ অঞ্চলে‘অতি ভারী’বৃষ্টির পূর্বাভাস, চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা চারদিন পর বন্ধ হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা ভারতে ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, আন্দোলনে সংসদ অচ জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার

গণমাধ্যম ও ইভটিজিং : আহমেদ মুশফিকা নাজনীন

আপডেট: ০৬:৫৭ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৩ সোমবার

টিভি খুললেই, 'তোমার জন্য মরতে পারি ও সুন্দরী তুমি গলার মালা' কিংবা 'তুমি নামটা বলে যাও' গান গেয়ে গেয়ে পুর্ণিমার পেছনে পেছনে সজলের দৌড়ানো, বুড়ো এ্যান্জেলিনা জোলিকে দেখিয়ে ডাউন লোড কর গরম গরম', ' থান্ডারের, এ পাড়ায় নতুন নাকি?' এরকম বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আমরা প্রতিদিন টেলিভিশনে দেখে থাকি৷ বাড়ির ২ বছরের শিশু থেকে ৭০ বছর বয়সী পরিবারের সদস্যরা একসাথে বসে এসব বিজ্ঞাপন দেখা হয়৷ বড়দের পাশাপাশি শিশু-মনেও দাগ কাটে বিজ্ঞাপন গুলো ৷ অবচেতন মনে যেন গেঁথে যায় বাড়ী, সোনার গয়না, বিস্কিট, চিপস , কোক কিংবা ফ্রিজ দিলেই মেয়েরা বন্ধু হয়৷ হাত বাড়ালেই তাদের পাশে পাওয়া যায়৷ সুপ্রিয় পাঠক মনে কি হয়না এ ধরনের বিজ্ঞাপনগুলো মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার জন্য একটু হলেও প্রভাব বিস্তার করছে ? প্রিয় অভিনেতা যখন রাস্তা ঘাটে একটা মেয়েকে প্রেম নিবেদন করে, তার জন্য ফুল পাঠায়, মোটর সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, পাশ দিয়ে হেটে গেলে ফুল ছুঁড়ে মারে তখন নাটক- সিনেমার নায়িকারা হেসে কুটি কুটি হয় ৷ দর্শকরাও তাই দেখে বিষয়টি অতি স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়ে অনেকেই এই আচরণ তাদের বাসত্মব জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেন৷ রোমিওদের ভীড় বাড়ে মেয়েদের স্কুল কলেজ গুলোর সামনে৷ মেয়েদের টিজ করাটা তারা ফ্যাশন বা হিরোর পযর্ায়ে ফেলে নিজেকে নায়ক রুপে কল্পনা করে৷ পরিবারের মযর্াদা চিনত্মা না করে তারা তখন ভাবে সিনেমা নাটকে তো বড়লোকের মেয়ের সাথে গরীবের ছেলে কিংবা বড়লোকের ছেলের সাথে গরীবের মেয়ের প্রেম, বিয়ে তো হয়৷ তারটাও হবে৷ তাদের ভাবনায় তখন থাকেনা নাটক নাটকই গল্প গল্পই৷ সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি সিনেমা বা নাটকে নায়িকার কাছ থেকে প্রত্যাখাত হলেই বা একটু দু:খ পেলেই নায়ক মদ খেয়ে তা ভোলার চেষ্টা করে৷ যায় যৌন কমর্ীদের কাছে৷ বাংলা হিন্দী প্রায় সব সিনেমাতেই তাই৷ যদিও বা শেষে নায়িকা তার প্রসত্মাবে রাজী হলে মদ খাওয়া ছেড়ে নায়ক ভালো হওয়ার চেষ্টা করে৷ এই ধরনের অভিনয় একজন কিশোরকেও অনেক সময় ভাবায়৷ কিশোর বয়সে প্রত্যাখাত হলে সেও তখন হাতে তুলে নেয় রঙিন পানীয়৷ বন্ধুদের আড্ডায় বসে পরিকলপনা চলে মেয়েটিকে অপহরনের কিংবা জোর করে বিয়ে করার৷ বাহবা পাওয়া কিংবা হিরো হওয়ার আশায় সে থাকে বিভোর৷ যখনই তা থেকে বঞ্চিত হয়৷ তখনই সে করে ধংসাত্বক আচরন৷ প্রেমে প্রত্যাখাত হলেই কেন মদ খেতে হবে নায়ককে ? মেয়েটারও তো পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে ? কেন সে বিষয়ে ভাবা হয়না ? মিডিয়ায় কেন বেশী করে ওঠে আসে না সাহসী মেয়েদের কাহিনী ? রাসত্মা দিয়ে বই বুকে নিয়ে মাথা নিচু করে চলা, কেউ কিছু বললে উত্তর না দেয়া, বখাটেদের ভয়ে পালিয়ে আসা , নিজেকেই দোষী মনে করা, এই ধরনের চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসা দরকার৷ 'নারী অবলা', 'নারী পণ্য', 'নারী পরগাছা', 'নারী লতা', 'নারীর মেধা নয় নারী সৌন্র্দয্যই আসল' এই ধরনের ডায়ালগ বন্ধ করা দরকার৷ দরকার বিলবোর্ড গুলোতে মডেলদের মার্জিত পোশাকের ব্যবহার৷ বিজ্ঞাপন দাতা, নিমর্াতা, চিত্র পরিচালক ও প্রযোজকদের এ বিষয় গুলো নিয়ে ভাবার অনুরোধ জানাচ্ছি্ ৷ ইদানিং কালে আমাদের দেশের কিছু নিমর্াতার নাটকে দেখা যায় বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করার শিৰা, একই সাথে তিন চারজন ছেলে/ মেয়ের সঙ্গে ডেট করা, ফোনে অনবরত মিথ্যা কথা বলা, পাড়ার মেয়েদের সমর্্পকে খোজ খবর নেয়া, চিটিংবাজী করার বিষয় গুলো খুব পজিটিভ ভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে৷ প্রতিনিয়ত এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের কাহিনী দেখতে দেখতে তা আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছে৷ তৈরী হচ্ছে মেয়েদের সস্তা ভাবার প্রবনতা৷ আর তাই বখাটেদের হামলার শিকার হয়ে ক্রমশ বাড়ছে মৃতু্যর ঘটনা৷ সিমি গেছে, গেছে তৃষা রুমি মহিমা ফাহিমা, রুপালীর মতো প্রতিভাবান মেয়েরা৷ কাল যে আমার আপনার মেয়ে যাবেনা তার নিশ্চয়তা কি ? কি শিখাচ্ছি আমরা আমাদের উত্তরসুরিদের ? ইভটিজিং বন্ধ করতে না পারলে চাঁপা রানী ভৌমিক আর শিৰক মিজানুর রশীদের পরিবারের কাছে কি জবাব দেব আমরা ? গণমাধ্যম নৈতিকতা, মুল্যবোধ তৈরীর ৰেত্রে অনেক বড় একটা শিক্ষার জায়গা৷ তাই এ মাধ্যমে কর্মরতদের জেন্ডার সেনসিটিভ হওয়া সবচে বেশী জরুরী৷ নারীদের পণ্য নয় মানুষ হিসেবে মুল্যায়ন করা দরকার৷ এ জায়গাটায় মনে হয় আমাদের ভাবতে হবে৷ নাটকে কিংবা বিজ্ঞাপনে মেয়েদের ইতিবাচক চরিত্র তুলে ধরা হয় তাহলে তার প্রভাব পড়বে তরম্নন বা কিশোর ছেলেটির মনে৷ এৰেত্রে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন৷ আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে সনত্মানরা টিভি রেডিও ইন্টারনেট বা পত্রিকা থেকে কি দেখছে, শিখছে বা জানছে তা খোঁজ করা দরকার৷ শুধু বাণিজ্যিক কারণে নয় সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে যদি গণমাধ্যমকে ব্যবহার না করা যায় তবে সামনে রয়েছে আরও সর্বনাশ৷ আহমেদ মুশফিকা নাজনীন সিনিয়র নিউজরুম এডিটর-একুশে টেলিভিশন