ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৭:১২:২৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

নিগৃহীত নারী মুক্তিযোদ্ধা

আপডেট: ০২:৪৩ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩ সোমবার

nari_03স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও অবহেলিত ও নিগৃহীত দেশের নারী মুক্তিযোদ্ধারা৷ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে যুদ্ধ করলেও স্বীকৃতি মেলেনি তাঁদের৷ এতো বছরেও জানা যায়নি দেশে নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত, কত জন শহীদ হয়েছেন৷ কতটা বীরত্বের সঙ্গে তাঁরা যুদ্ধ করেছেন, সে ইতিহাসও লিপিবদ্ধ হয়নি৷ এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে৷ তালিকা হয়নি 'বীরাঙ্গনা' নারীদের৷ প্রণীত হয়নি পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের হাতে নারী নির্যাতনের ইতিহাস৷ মুক্তিযোদ্ধা ও নারী নেত্রী আয়েশা খানম বলেন, 'এটি আমাদের দুর্ভাগ্যজনক যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত নারীর সংখ্যা নিরূপণ করা হয়নি৷ তবে সবাই জানে বিপুলসংখ্যক নারী ধর্ষিত ও নিহত হয়েছিলেন৷ যুদ্ধের পর প্রতিদিন অসংখ্য নারীকে গর্ভপাত করানো হতো৷ সামাজিকভাবেও নিগৃহীত হয়েছেন তাঁরা৷' তিনি বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে বীরাঙ্গনা না বলে মুক্তিযোদ্ধা বলা উচিত এবং সে অনুযায়ীই তালিকা প্রণয়ন করা উচিত৷ নারীদের জন্য সরকারের এমন কিছু করা উচিত যাতে একাত্তরের সেই ক্ষত কিছুটা হলেও ভুলে থাকতে পারেন তাঁরা৷' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য৷ সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া ছাড়াও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে, পাশে থেকে, নানাভাবে সাহায্য করে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন নারীরা৷ অবর্ণনীয় নির্যাতনও সইতে হয়েছে তাঁদের৷ বীরত্বের জন্য বীরপ্রতীক উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন নারী৷' নির্যাতিত নারী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন৷ তখন নারীরা তাদের নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে চাননি৷ কিন্তু ধীরে ধীরে সে অবস্থা বদলাচ্ছে৷ এখন নারীরা একাত্তরের নির্যাতনের কথা ব্যক্ত করছেন৷ এখন তাঁদের জন্য কিছু করার সময় এসেছে৷' তিনি বলেন, 'সরকার নারীদের পুনর্বাসন, আর্থিক সহযোগিতা বা অন্য যে কোনো সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত৷ এ জন্য নিজেদের কথা নিজেদেরই বলতে হবে৷' নির্যাতিত নারীর সংখ্যা : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে আড়াই লাখ নারী ধর্ষিত হয়েছে৷ কিন্তু ওয়্যার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তাদের গবেষণায় বলছে, এ সংখ্যা প্রায় চার লাখ ৬০ হাজার৷ এমনকি ৯ মাসে যে ৩০ লাখ বাঙালি গণহত্যার শিকার হয়েছে, তার ২০ শতাংশই নারী৷ নির্যাতনের ধরন ছিল বর্বরোচিত : একাত্তরে যে সাড়ে চার লাখ নারীর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়, তার ধরন ছিল অমানুষিক৷ ঘাতকরা কেবল নির্যাতন বা ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, ৭০ শতাংশ ধর্ষিতার সামনে হত্যা বা নির্যাতন করা হয়েছে তাদের স্বামী বা নিকট আত্নীয়কে৷ নির্যাতিত নারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ নারীকে স্পট ধর্ষণ ও স্পট গণধর্ষণ, ১৮ শতাংশ নারীকে কারাগারে ও ক্যাম্পে নির্যাতন করা হয়েছে৷ ওয়্যার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এম এ হাসান গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীদের ৫৬ দশমিক ৫০ শতাংশ মুসলমান, ৪১ দশমিক ৪৪ শতাংশ হিন্দু এবং ২ দশমিক ০৬ শতাংশ ছিলেন অন্যান্য ধর্মের৷ দেশের ৪২ জেলার ৮৫ থানায় নির্বাচিত ২৬৭ জনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা চালানো হয়৷ গবেষণায় আরো বলা হয়, নির্যাতিত নারীদের মধ্যে বিবাহিত ছিলেন ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং অবিবাহিত ৩৩ দশমিক ৫০ শতাংশ৷ ভারতে আশ্রয় নেওয়া নির্যাতিতা ও ধর্ষিতা হিন্দু নারীদের মধ্যে কুমারী বা অবিবাহিতা ছিলেন ৪৪ শতাংশ৷ এঁদের অধিকাংশই আর দেশে ফেরেননি৷ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা : গবেষণায় দেখা যায়, নির্যাতন-পরবর্তী সময়ে নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল প্রকট৷ এসব নারী আক্রান্ত হয়েছে নানা যৌন রোগে৷ দীর্ঘদিন আক্রান্ত ছিলেন মানসিক রোগেও৷ ৮০ শতাংশ নারী বিষাদগ্রস্ততা এবং ৮০ শতাংশ অস্থিরতা, নৈরাশ্য ও মাথাব্যথায় ভুগেছেন দীর্ঘকাল৷ একইভাবে ৯০ শতাংশ নারী ভুগেছেন গ্লানিতে৷ আর ৭ শতাংশ নারীকে স্থায়ী ক্ষত নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়েছে সারাজীবন৷ বেঁচে আছেন এখনো অনেকে৷ ডা. এম এ হাসান বলেন, সংস্থার নিজস্ব ল্যাবরেটরি ও নির্বাচিত হাসপাতালে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নির্যাতিত নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে৷ সে ফলাফলের ভিত্তিতেই উঠে এসেছে এই চিত্র৷ সামাজিক লাঞ্ছনা : নির্যাতন-পরবর্তী সময়ে নারীদের সইতে হয়েছে নানা লাঞ্ছনা-গঞ্জনা৷ নির্যাতিত হওয়ায় স্বামী আর ঘরে তোলেনি ৭ শতাংশ নারীকে৷ ৯০ শতাংশ নারীকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে স্বজন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা৷ গ্রামাঞ্চলে নির্যাতিত নারীদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সবকিছু জানিয়ে বিয়ে দিতে হয়েছে৷ আর শরণার্থী হয়ে যাঁরা দেশত্যাগ করেছিলেন কিংবা যাঁরা শহরাঞ্চলে বাস করতেন তাঁদের বিয়ের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে৷ জন্ম নেয় যুদ্ধশিশু : ডা. এম এ হাসান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় ৯০ হাজার নারীর গর্ভপাত ঘটানো হয়৷ জন্ম নেয় অসংখ্য যুদ্ধশিশু৷ তিনি আরো বলেন, তখন গর্ভপাতের জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি ছিল না৷ যে যেভাবে পেরেছেন গর্ভপাত ঘটিয়েছেন৷ যেসব শিশু জন্ম নেয় তাদের অনেককে বিদেশে দত্তক দেওয়া হয়৷ অনেক শিশুকে ফেলে দেওয়া হয় ভাগাড়ে৷ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩