ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৭:১৩:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

নির্বাচনী ইশতেহারে শিশু উপেক্ষিত

আপডেট: ০৭:৩৭ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৩ সোমবার

Lead_Pic 1আফরোজা ফিরোজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শিশুরা বরাবরই উপেক্ষিত৷ শিশু কল্যাণে ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয় না কখনোই৷ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশুদের কল্যাণ, অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ে নানা অঙ্গীকার করলেও মেয়াদ শেষে দেখা যায় তার অর্ধেকও বাসত্মবায়িত হয়নি৷ অভিযোগ আছে ক্ষমতায় যাওয়ার পর শিশুখাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয় না কোনো সরকারই৷ ফলে পাঁচ বছর মেয়াদে কোনো সরকারের সময়ই শিশুদের উন্নয়নের সার্বিক ধারা লক্ষ্য করা যায় না৷ দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অমিল থাকলেও শিশু বঞ্চনার বিষয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে৷ এই তিনটি দল বিগত সময়ে শিশুদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া অর্ধেক কাজই করেনি৷ এমন কি গত দুই সরকারের আমলেও বাজেটে শিশুদের কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ পর্যায়ক্রমে সর্বক্ষেত্রে শিশুশ্রম বন্ধ করা, শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রলোভন বা জোর করে জড়িত না করার কথা বলেছে৷ মিছিলে মিটিংএ শিশুদের ব্যবহার ইশতেহারে দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য করা হয়৷ কিন্তু বাসত্মব চিত্র অন্যরকম৷ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশুশ্রমকে অবৈধ বলা হলেও দেশে প্রকৃত শিশুশ্রমিকের (১০-১৪ বছর) সংখ্যা বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশ৷ ২০০১ সালে ছিল ১০ শতাংশ৷ রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও শিশুদের কাজে লাগানো হচ্ছে অবাদে৷ আওয়ামী লীগ তাদেরগত নির্বাচনী ইশতেহারে আরও বলে, ক্ষমতায় এলে শিশুদের মানসিক বিকাশ, পুষ্টি, শিক্ষা ও বিনোদনে উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করবে৷ তারা ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক সত্মরে নিট ভর্তির হার হবে ১০০ শতাংশ৷ অথচ পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রতি ৪ জন শিশুর মধ্যে একজন বিদ্যালয়ে যায় না৷ ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী প্রায় ২৩ শতাংশ শিশু এখনো স্কুলের বাইরে রয়ে গেছে৷ ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে শিশু নির্যাতন ও কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে৷ দলটি পথশিশুদের পুর্নবাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করবে বলেও কথা দেয়৷ শিশু মৃতু্য কমানোর প্রতিশ্রতিও দেওয়া হয়৷ কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি৷ বিগত দু'দশকে বাংলাদেশে শিশু মৃতু্যর হার ৬০ শতাংশ কমেছে৷ বর্তমানে প্রতি হাজারে ৩২ জন নবজাতক মারা যাচ্ছে৷ ডায়রিয়ায় মারা যাচ্ছে মোট শিশুর ২ শতাংশ৷ অপুষ্টির কারণে দেশে প্রতিদিন ৫ বছরের কম বয়সী ২৪০টি শিশু মারা যায়৷ ৬৬ শতাংশ শিশুকন্যা বাল্যবিয়ের শিকার৷ এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রী আফ.ম রুহুল হক বলেন, শিশু মৃতু্য প্রতিরোধে বাংলাদেশ যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে করে অঙ্গীকার বাসত্মবায়ন করা সম্ভব৷ এদিকে গত ১৬ জুন জাতীয় সংসদে কন্ঠভোটে শিশু আইনের বিলটি পাশ হয়৷ ২০ জুন আইনটি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়৷ এ আইন পাশের আগে ১৯৭৪ সালের শিশু আইন রহিত করা হয়৷ শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী এখন থেকে ১৮ বছরের সবাই শিশু বলে গণ্য হবে৷ শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তি বা যৌনপল্লীতে ব্যবহার করা হলে, শিশুদের দিয়ে মাদক ও অস্ত্র বহন করানো হলে তা দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে৷ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি শিশুদের আঘাত, উত্‍পীড়ন বা অবহেলা করে তাহলে ঐ ব্যক্তিকে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদন্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে৷ কিন্তু এতো কিছুর পরও শিশুদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়ে গেছে৷ শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, আমাদের দেশে শিশুরা সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার৷ আসলে শিশুদের নিয়ে রাজনীতবিদরা ভাবেন না৷ তাই ইশতেহারে শিশুদের কথা থাকলেও তা কখনো বাসত্মবায়ন হয় না৷ এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নারীবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা বলেন, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশুদের কল্যাণের বিষয়গুলো আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে৷ অন্যদিকে দেশের বৃহত্তর বিরোধী দল বিএনপি নবম সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের ইশতেহারে বলেছে, শিশু-কিশোর অধিকার সংরক্ষণ, মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষা সম্প্রসারিত করবে৷ এছাড়া টিকাদান কর্মসূচি, শিশু মৃতু্য কমিয়ে আনা ও অপুষ্টি দূর করবে৷ শিশু শ্রম বন্ধ করা, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণও তাদের ইশতেহারে ছিল৷ এছাড়া শিশুবিষয়ক আইনগুলো সমন্বিত করা হবে বলেও দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো৷ যেহেতু এখনও বিএনপি সিদ্ধানত্ম নেয়নি, আগামী নির্বাচনে যাবে কিনা তাই ইশতেহারে শিশু বিষয়টি কেমন হবে সে সম্পর্কে কেউ কোন মনত্মব্য করতে রাজি হয়নি৷ এদিকে প্রসঙ্গে সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, বরাবরই রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে শিশু সুক্ষার প্রতিফলন কম৷ আমাদের দেশে শিশুদের পেছনে খরচ মাত্র ৩৫ ডলার৷ যা অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম৷ দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু৷ তাই সকল রাজনৈতিক দলেরই শিশুদের বিষয়টি গুরুত্বেও সঙ্গে দেখা জরুরী৷ ১৮ নভেম্বর'২০১৩