ঢাকা, শুক্রবার ৩০, জানুয়ারি ২০২৬ ৫:৩৭:৩৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

পাহাড়ের বুকে সবুজের সমারোহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২১ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

পাহাড় ও তার ঢালুতে সবুজের সমারোহ। সবুজ থেকে চোখ ফেরানো দায়। নির্জন পাহাড়ে চলছে কাজের উৎসব। শ্রমিকদের কেউ লেবু তুলছেন। বাগানজুড়ে লেবুর মিষ্টি ঘ্রাণ। কেউ কলা ছড়িয়ে কাটছেন। কয়েকজন ব্যস্ত কচুর ছড়া তোলায়। হাত দিয়ে ছড়া পরিষ্কার করা হচ্ছে। কেউ পেঁপে পেকেছে কি না তা পরীক্ষা করছেন। 

বলছিলাম কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় এলাকার চাষি  আবুল কালাম আজাদের কথা। তিনি পাহাড়ের পতিত জমিতে লেবু, কলা, পেঁপে ও কচুমুখি চাষ করে  লাভবান হয়েছেন। পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে । গত বছর লাভ হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
পাহাড়ের রূপবানমুড়া এলাকায় কলা, লেবু, মাল্টা, আনারস, আম, কাসাবা, পেঁপে ও মদিনানগর এলাকায় কচুমুখি চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের তাক লাগিয়েছেন।
 পাহাড়ের ঢালুতে আবুল কালাম আজাদের বাগানে ও জমিতে নিয়মিত ১০ জন শ্রমিক ও ফসল তোলার মৌসুমে আরও ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। বসে নেই চাষি আবুল কালাম আজাদও। সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। এত পরিশ্রমের পরও তার মুখে লেগে আছে তৃপ্তির হাসি।

কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়েকটি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ছিলাম। এতে খুব চাপ নিতে হয়। পাহাড়ে পরিবারের কিছু পতিত জমি ছিল। সেখানে প্রথমে লেবুর চাষ করি। প্রথম বছর ৫ লাখ টাকার চায়না লেবু-০৩ বিক্রি করি। পরে যোগ করি মাল্টা। এ বছর ৫ টন মাল্টা বিক্রি করেছি। আট বছর ধরে কচুর ছড়ার চাষ করছি। নতুন করে ড্রাগন, কাজুবাদাম ও কফির চারা লাগিয়েছি। কৃষিতে সময় দিয়ে আমি লাভবান হয়েছি। আমার পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে।
কৃষি তথ্য সার্ভিস কুমিল্লার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন মিজি বলেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস বিভাগের কাজে আমাদের বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে যেতে হয়। লালমাই পাহাড়ের পতিত জমিতে কৃষক আবুল কালাম আজাদ সবুজের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি নিজে লাভবান হওয়ার সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ফল ফসলের জোগান দিচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। 
সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাণিজ্যিক কৃষিকে এগিয়ে দেওয়া। আবুল কালাম আজাদ সে রকম একজন কৃষক। তিনি শুধু এক ফসলে পড়ে থাকেননি। তিনি লেবু, মাল্টা, আনারস, আমসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছেন। তিনি গত বছর কৃষিপণ্য বিক্রি করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লাভ করেছেন। সামনের বছরগুলোতে তার আয় আরও বাড়বে। তার মতো অন্য শিক্ষিত তরুণরাও কৃষিতে এগিয়ে এলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে।