প্রশাসন ও রাজনীতিতে পিছিয়ে নারী
আপডেট: ০৯:২৯ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৩ বৃহস্পতিবার
আইরীন নিয়াজী মান্না, উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও প্রশাসন ও রজিনীতিতে আজও পিছিয়ে রয়েছেন তারা৷ স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে গত প্রায় ৪২ বছরে এ দুই ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি হয়েছে খুবই ধীর গতিতে৷ ফলে দেশের রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাটিতে নারীর অংশগ্রহণ রয়ে গেছে খুবই সীমিত পরিসরে৷ জাতীয় সংসদসহ সবোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণও খুবই হতাশাব্যঞ্জক৷ অথচ দেশে উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ প্রায় সমান৷
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের উন্নয়নে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান জেন্ডার বৈষম্য দূর করা ছাড়া অন্য উপায় নেই৷ আর এ ছাড়া মিলেনিয়াম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সম্ভব নয়৷ সেই সঙ্গে দারিদ্রবিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) হয়ে দাড়াবে অর্থহীন৷
তাদের মতে, শিক্ষার সর্বক্ষেত্রে নারীর অবস্থান প্রশসংনীয়৷ যদিও কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও নেই নারী উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও কখনো কোনো নারীকে দেখা যায়নি৷ শিক্ষায় নারীরা এগিয়ে গেলেও কর্মক্ষেত্রে বড় বড় পদগুলোতে তাদের উপস্থিতির অনুপাত খুবই সামান্য৷
বিআইডিএস'এর ড. প্রতিমা পাল মজুমদার প্রণিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ স্বত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত সরকাররি-বেমরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নারীর অংশগ্রহণ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়৷ সরকারের উচ্চ পদে কিংবা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি নগণ্য৷ এনজিও কোয়ালিশন অব বেইজিং প্রসেসের (এনসিবিপি) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত জনপ্রশাসনে ২২ জন সচিব এবং ৯৫ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে কোন নারী ছিলেন না৷ পরবর্তিতে ২০০৬ সাল নাগাদ কোন মন্ত্রনালয় বা বিভাগের সচিব পদে কোন নারী ছিলেন না৷ এ সময় অতিরিক্ত সচিব ছিলেন মাত্র ২জন নারী৷ বর্তমানে এ দৃশ্য কিছুটা বদলালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম৷
পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কমর্রত ৮ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তার মধ্যে এক হাজার ২৪৬ জন নারী৷ সচিব ও সমমানের ৬৯ জন কর্মকর্তার মধ্যে নারী ৪ জন৷ ১৫৭ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে নারী ৯ জন এবং ৪২৯ জন যুগ্মসচিবের মধ্যে নারী ২৭ জন৷ সব মিলিয়ে প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ ১৫ শতাংশ৷
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে জনপ্রশাসনের মোট কর্মকর্তার মাত্র ১২ শতাংশ ছিলো নারী৷ কোটা থাকা স্বত্ত্বেও সরকারের উচু পদে নারীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ২ শতাংশ৷ সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের সরকারি চাকুরিজীবীর মাত্র ৮ শতাংশ ছিলেন নারী৷ ২০০২ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকুরিতে নারী ছিলেন শতকরা মাত্র ৮ শতাংশ৷ তৃতীয় শ্রেণীতে ১২ শতাংশ৷ চতুর্থ শ্রেণীতে ৬ শতাংশ এবং সিভিল সার্ভিসে মাত্র ৭.৮ শতাংশ৷ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক পদের ৬০ শতাংশ নারীর জন্য সংরক্ষিত থাকলেও ১৯৯৮ সালে সংরক্ষিত পদের মাত্র ৬১ শতাংশ পূরণ সম্ভব হয়েছে৷ এই পরিসংখ্যানে পুরুষের অবস্থান চরম বৈষম্যপূর্ণ৷
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে নারীর অংশগ্রহণ কম হওয়ায় নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত৷ ফলে কাজের সুযোগ সমস্যা ও বৈষম্যসহ নানা ক্ষেত্রে নারীর স্বার্থ উপেক্ষিত রয়ে যাচ্ছে৷ দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা জাতীয় সংসদে নারী সদস্যদের অনুপাত এবং অংশগ্রহণও হতাশাব্যঞ্জক৷ সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়লেও এতে সরাসরি নির্বাচনের দাবিটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে৷ ফলে পদগুলো অনেকটাই আলঙ্করিক হয়ে পড়েছে৷
ইউএনডিপির তথ্যমতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে নারী উপস্থিতি ৫ শতাংশ৷ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ছাড়া নারীর উপস্থিতি ২ শতাংশ এবং মন্ত্রিসভায় ৪ শতাংশ৷ প্রথম থেকে নবম সংসদ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীর অবস্থান হাতে গোনা৷ অথচ সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকার স্বীকৃতি ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে৷ এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতেও জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের কথা বলা হলেও দেশের সরকার, প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রেই নারী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
দেখা গেছে ১৯৯১ সালে ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিপরিষদে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া নারী প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মাত্র ১ জন৷ ১৯৯৬ সালে ৩৮ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদে নারীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ১ জন মন্ত্রী এবং ১ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, যা ৫ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে৷ ২০০১ সালে গঠিত ৬০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিপরিষদে প্রধানমন্ত্রীসহ নারী মাত্র ৩ জন এবং নির্বাচিত সদস্য মাত্র ৭ জন৷ দেশের মোট ভোটারের অর্ধেক নারী হলেও ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ থেকে নবম সংসদ পর্যন্ত নির্বাচিত নারী সদস্যদের সংখ্যা কখনই ২ শতাংশেও পৌছেনি৷
দেখা গেছে ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে মাত্র ৫ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷ পরে ১৯৯১-এর নির্বাচনে ৪ জন, ১৯৯৬-এর নির্বাচনে ১১ জন ও ২০০১-এর নির্বাচনে ৬ জন এবং অতীেিতর সকল বিজয়ের রেকর্ড ভেঙে ২০০৮-এর নির্বাচনে ১৯ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন৷ সব মিলিয়ে চলতি সংসদে সর্বমোট ৬৯ জন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন৷ ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০টি করায় বর্তমানে এই হার দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশ মাত্র৷
বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সংসদ উপনেতার প্রত্যেকেই নারী৷ হুইপ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন তাঁরা৷ সমপ্রতি প্রথমবারের মত একজন নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংসদে৷ এছাড়া বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় এ মুহূর্তে পররাষ্ট্র, কৃষি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন তাঁরা৷ এত কিছুর পরও সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদে নারীর সংখ্যা যথেষ্ঠ বাড়েনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
এ প্রসঙ্গে নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, কর্মক্ষেত্রে মেয়েরা আগে তুলনায় বাড়ছে তবে মন্থর গতিতে৷ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দলসমূহের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবার উদ্যোগ নিতে হবে৷ পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা ও এসব আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে৷
তিনি বলেন, সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এলে নারী সংসদ সদস্যদের জনসম্পৃক্ততা বাড়বে৷ তাতে টেবিল চাপড়িয়ে বা কন্ঠ উঁচিয়ে দলকে ভোট দেয়াই তাঁদের প্রধান কাজ হবে না, বরং রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মানসিকতাও তৈরি হবে৷
মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নীতিনির্ধারণী এবং সিদ্ধন্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী থাকলে তিনি যেমন নারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পুরুষকে প্রভাবিত করতে পারেন৷ আবার একই সঙ্গে নারীদের সামনে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা করতে পারেন৷
১৪ নভেম্বর'২০১৩ - দেশের ৮ অঞ্চলে রাতে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো বৃষ্টির আভাস
- হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
- ১৮ বছরেই চলে গেলেন ‘গডজিলা’ তারকা কাইলি
- হেনা দাস: অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম
- সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়া থেকে ইয়ামাল ও নিকোর বিশ্বজয়
- ঢাকাসহ সারা দেশে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
- জামায়াত এমপির ড্রাইভারের নিরাপত্তা ইস্যুতে নীলার পোস্ট
- খরচ কমলো হজের, সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা
- জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার
- ফাইনালে মারামারি: তদন্ত শুরু করল ফিফা
- সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল
- বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৬তম
- তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই
- পুষ্টিগুণে ভরপুর স্বাস্থ্যকর খাবার পটল
- সৈকতের নীল জলে মুগ্ধতা ছড়ালেন কেয়া পায়েল
- ফাইনালে মারামারি: তদন্ত শুরু করল ফিফা
- চাঁপাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী
- জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন
- জামায়াত এমপির ড্রাইভারের নিরাপত্তা ইস্যুতে নীলার পোস্ট
- মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল
- সৈকতের নীল জলে মুগ্ধতা ছড়ালেন কেয়া পায়েল
- সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়া থেকে ইয়ামাল ও নিকোর বিশ্বজয়
- রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
- গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ
- চাঁদপুরে ইলিশের সঙ্কট, কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ দল
- রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত
- হেনা দাস: অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম
- পুষ্টিগুণে ভরপুর স্বাস্থ্যকর খাবার পটল
- দেশে দেশে শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি










