ঢাকা, রবিবার ২৯, মার্চ ২০২৬ ১৭:২৪:৫৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টিউলিপকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ ১১ জেলার ডিসি প্রত্যাহার, নতুন ডিসি নিয়োগ কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত পর্যটন খাত উন্নয়নে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্ববাজারের প্রভাব, দোলাচলে সোনার দাম ইরানে একদিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ

স্বাস্থ্য ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৮:৫৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮ রবিবার

আজ ২৮ জুলাই শনিবার বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ’হেপাটাইটিস নির্মূল করা’। এবারের প্রচারণা হচ্ছে-না জানা লাখ লাখ হেপাটাইটিস রোগী খুঁজে বের করা, এজন্য দ্রুত পরীক্ষা করা।


আমেরিকান চিকিৎসাবিজ্ঞানী স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ ১৯৭৬ সালে সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের শরীরে হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেন এবং একই সঙ্গে এই রোগের প্রতিষেধক উদ্ভাবন করে নোবেল পুরস্কার পান। তার জন্মদিন ২৮ জুলাই।

 


বিভিন্ন প্রকার হেপাটাইটিস এবং এর প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নানা পদ্ধতির বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আহ্বানে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছরের ২৮ জুলাই সারাবিশ্বে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে বর্তমানে ৩২৫ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। এদের ৯০% জানেনা যে তাদের  হেপাটাইটিস আছে।

 


এদিকে   বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ ভাইরাস নিরাময়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করছি।



তিনি বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞরা লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দেয়া বাণীতে এসব কথা বলেন। সারাবিশ্বে বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও এ দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।



তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছি। গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করেছি।



শেখ হাসিনা বলেন, ‘নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।’



বাংলাদেশসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল সদস্য দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে হেপাটাইটিস বি ও সি নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা করেন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হেপাটাইটিস বি ও সি প্রতিরোধ করে সুস্থ জাতি গঠনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

 


বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি লোক হেপাটাইটিস বি অথবা হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০১৮ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সিভাইরাসের অতীত ও বর্তমান প্রাদুর্ভাব এবং নির্মূলের সুপারিশমালা ‘ শীর্ষক হেপাটোলজি সোসাইটির সেমিনারে এ তথ্য জানান হয়।



 সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হেপাটোলজি সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি ডা. মো: শাহিনুল আলম। উক্ত সেমিনারে জানানো হয়, স্বাধীনতা উত্তরকালে গত ৪৭ বছরে অধ্যাপক মবিন খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের করা ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কিত ১৫৪ টি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে।



 বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো: শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে সর্বশেষ ২০১৭ সালে দেশব্যাপী হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়। উক্ত গবেষণা অনুযায়ী হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব যথাক্রমে ৫.১% ও ০.২%।

 


সর্বশেষ এ গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত, এদের মধ্যে পুরুষ প্রায় ৫৭ লক্ষ এবং নারী ২৮ লক্ষ। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী আক্রান্ত যুবক-যুবতীর সংখ্যা প্রায় ২৫ লক্ষ এবং সন্তান দানে সক্ষম নারীর সংখ্যা (১৮ থেকে ৪৫ বছর) ১৮ লক্ষ। বাংলাদেশে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্তের হার ০.২% অর্থাৎ প্রতি ৫০০ জনে ১ জন হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত।



এটাই প্রথম গবেষণা যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্ব মূলক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। সর্বমোট ২৭৮২ জন সুস্থ ও স্বাভাবিক কর্মক্ষম ব্যক্তি এ গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সম্মতি দেয়। তাদের মধ্যে ১৬৯৪ জন পুরুষ এবং ১০৮৮ জন মহিলা ছিলো।




গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের (২৩.৯%) তুলনায় পুরুষদের (৭৬.১%) আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি, ১৮ থেকে ২৯ বছরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্তদের হার সবচেয়ে বেশি।



বাংলাদেশে একিউট হেপাটাইটিস (প্রচলিতজন্ডিসের) কারণ ৪৩% ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ই ভাইরাস,১৫% ক্ষেত্রে বি ভাইরাস, ৮% ক্ষেত্রে এ ভাইরাস। লিভারসিরোসিসেরজন্য হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ৬০% , সি ভাইরাস ৩০% ক্ষেত্রে দায়ী। লিভার ক্যান্সারের জন্য হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ৬৫% এবং সিভাইরাস ১৭% ক্ষেত্রে দায়ী।

 

হেপাটাইটিস ই এবং এ ভাইরাস পানিবাহিত রোগ। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস রক্তবাহিত রোগ। বাংলাদেশে বি ভাইরাস সংক্রমনের অন্যতম কারণ হলো জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে থাকে। এজন্য ১৮ লক্ষ সন্তানদানে সক্ষমনারীর চিকিৎসা জরুরি। আর শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি ৯৫% ক্ষেত্রে ক্রনিক লিভার ডিজিজ তৈরি করে, এজন্য ১৫ লক্ষ শিশুর চিকিৎসা ও অত্যন্ত জরুরি। 
 



সুখের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি-এর প্রাদুর্ভাব নিম্নগামী। ২০০৪ সালে ইপিআই প্রোগ্রামে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা অন্তর্ভুক্ত হবার পর এটি ৫%-এ নেমে এসেছে। সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলের (ঝউএ) ৩নং লক্ষ্য অনুয়ায়ী ২০৩০ সালেরমধ্যে বাংলাদেশের সরকার হেপাটাইটিস বি ও সি নির্মূলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশে হেপাটাইটিসের সকল চিকিৎসা পৃথিবীর মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যে করা সম্ভব।



সার্বিক গবেষণা এবং তথ্য-উপাত্তবিশ্লেষণ করে হেপাটোলজি সোসাইটি ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি নির্মূলে সুপারিশমালা পেশ করেছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দেশের সব সরকারিহাসপাতালে ঐ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা, প্রজননক্ষমনারী ও শিশুদের বিনামূল্যে  চিকিৎসা দেয়া, হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের চিকিৎসায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ঘোষণা করে এর কাঁচামালের উপর শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে এবং মূল্য সরকারি নিয়ন্ত্রণে নাগালের মধ্যে আনা।


এ রোগের প্রতিষেধকই একমাত্র ও অন্যতম ব্যবস্থা। প্রতিষেধক হিসেবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা এখন সর্বত্র পাওয়া যায়। সব বয়সীরাই এই টিকা নিতে পারবেন এবং হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারবেন। তাছাড়া সুস্থ সংস্কৃতির অনুশাসন ও জীবনযাপন প্রণালিও এক্ষেত্রে উত্তম প্রতিষেধক।