ঢাকা, সোমবার ০৫, অক্টোবর ২০২৬ ১৩:২২:১৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
`সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত` বরিশালে ৬৩৭ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি প্রেসিডেন্টের ছেলেকে নজরদারি, চীনা এজেন্ট সন্দেহে নারী গ্রেপ্তার ভোরের কুয়াশায় নীলফামারীতে শীতের আগমনী বার্তা বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ ফরিদপুরে ই-কমার্সের হাত ধরে স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তারা শিশু হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, বাড়ছে সর্দি-জ্বরের রোগী ইয়েমেনে সংঘাতে ঘরছাড়া ২ লাখ

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের চার দিন পরও জ্ঞান ফেরেনি পাইকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১১ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চার দিন পরও ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফেরেনি। তিনি হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তায় আছেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় দেওয়া ঘুমপাড়ানি ওষুধ পেন্টোবারবিটাল বের করার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, তা জানতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তার এক আইনজীবী।


রোববার (৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর পাইক আর কখনো জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।


৫০ বছর বয়সী পাইক বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধের ইনজেকশন পান। কিন্তু পেন্টোবারবিটাল তাকে হত্যা করতে পারেনি। তার আইনজীবীদের দাবি, ওই ওষুধের কারণে তার দুই হাত পুড়ে গিয়ে ফোসকা পড়ে।


পাইকের আইনজীবী ফেরেল জানান, পাইক আগে থেকেই অন্য একজনকে তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ক্ষমতা দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি বর্তমানে তার ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখছেন। তবে পাইকের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত কে নিচ্ছেন, তা তার আইনজীবীরা প্রকাশ করেননি।


পাইকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর খুব কম তথ্যই প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।


ফেরেল বলেন, এই প্রক্রিয়ায় পাইক কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, সে সম্পর্কে এখনই কিছু জানা যাচ্ছে না। তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কি না, সেটিও কয়েক দিন পর হয়তো পরিষ্কার হবে।


পাইকের আইনজীবী দল রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।


মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রকাশের দাবি

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আট ঘণ্টারও বেশি সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সময় বিচারকদের বিবেচনায় পাইক শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।


এ নিয়ে নিম্ন আদালতের একটি রায় কার্যকর স্থগিত রাখলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়।


শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাইকের আইনজীবীরা আদালতের কাছে টেনেসি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের লিখিত নথি, যোগাযোগের তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন।


পাইকের আইনজীবী ফেরেল সিএনএনকে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে টেনেসি কর্তৃপক্ষকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। তার মতে, জনগণের নামে রাষ্ট্র কী করছে, সে বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।


টেনেসিতে আবারও ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড


চলতি বছরে টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে তা সফল হয়নি।


এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। কারা কর্মকর্তারা তার ডান হাতে শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও দ্বিতীয় একটি শিরাপথ স্থাপন করতে ব্যর্থ হন। পরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করে দেওয়া হয়।


এদিকে টেনেসি সংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।


টেনেসির গভর্নর বিল লি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো ব্যবস্থা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন অ্যাটর্নি এড স্ট্যানটন এই তদন্ত পরিচালনা করবেন।


২০২২ সালে আরেক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পাওয়ার পরও গভর্নর লি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই তদন্তে দেখা যায়, রাজ্য কর্তৃপক্ষ নিজেদের নির্ধারিত প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।


পাইককে হাসপাতালে নেওয়ার পর টেনেসি কারা কর্তৃপক্ষ ও টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে তার অবস্থা নিয়ে খুব বেশি তথ্য দেওয়া হয়নি।


সুস্থ হলে কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা


পাইক যদি সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ডের মামলায় পরবর্তী সময়ে কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তার আইনজীবীরা গভর্নরের কাছে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছেন।


১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার অভিযোগ পাইক অস্বীকার করেননি। তারা দুজনই নক্সভিলের একটি চাকরিমুখী প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পড়াশোনা করতেন।


অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বী। এ কারণে পাইক ও তার প্রেমিক স্লেমারকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে তারা ধারালো কাটার যন্ত্র দিয়ে স্লেমারকে আঘাত করেন এবং বড় একটি পিচঢালা রাস্তার পাথর দিয়ে মারধর করেন।


হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা, জড়িত ব্যক্তিদের বয়স এবং নিহতের শরীরে শয়তানপূজার একটি প্রতীক খোদাই করার কারণে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


সূত্র: এনবিসি নিউজ